একুশে পদকে ভূষিত সিরাজগঞ্জের কৃতী সন্তানেরা
সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ওয়েবসাইটে স্বাগতম | যোগাযোগ : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
২৪ জানুয়ারী, ২০১৮ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন       রেজিষ্টার করুন | লগইন    


  

কামারখন্দ: সাফল্যগাথা

একুশে পদকে ভূষিত সিরাজগঞ্জের কৃতী সন্তানেরা

একুশে পদক বাংলাদেশের একটি জাতীয় এবং সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার। বাংলাদেশের বিশিষ্ট ভাষাসৈনিক, ভাষাবিদ, সাহিত্যিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, দারিদ্র্য বিমোচনে অবদানকারী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৯৭৬ সাল থেকে একুশে পদক প্রদান করা হচ্ছে। ভাষা আন্দোলন এর শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সালে এই পদকের প্রচলন করা হয়। সিরাজগঞ্জ জেলায় আমার তথ্যমতে সাতজন বীর সন্তান এই পদক অর্জন করেছেন। এই সাতজন বীরের বিস্তারিত জীবন বৃত্তান্ত আপনাদের মাঝে তুলে ধরছি।


আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন (বিজ্ঞানকর্মী).....

আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞান লেখক, বিজ্ঞান কর্মী এবং একজন সরকারি কর্মকর্তা। তবে তিনি আবদুল্লাহ আল-মুতী নামেই সমধিক পরিচিত। বাংলাদেশের বিজ্ঞান লেখকদের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় যিনি ইউনেস্কো কলিঙ্গ পুরস্কার লাভ করেন।
জন্ম ও শিক্ষাজীবন........
১৯৩০ সালের ১লা জানুয়ারীতে সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে আবদুল্লাহ আল-মুতী জন্মগ্রহণ করেন। তার মা হালিমা শরফুদ্দিন এবং বাবা শেখ মইন শরফুদ্দিন। ৫ ভাই ৬ বোনের মধ্যে আবদুল্লাহ আল-মুতী সবার বড়। ১৯৪৫ সালে ঢাকার মুসলিম হাই স্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন (এখনকার এসএসসি পরীক্ষা) পরীক্ষায় কলকাতা বোর্ডে ২য় স্থান লাভ করেন। ১৯৪৭ সালে ১১ তম স্থান নিয়ে সাফল্যের সঙ্গে আই এ পাশ করেন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পদার্থ বিদ্যায় সম্মান সহ স্নাতক হন ১৯৫২ সালে। বাংলা ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়তার কারণে এই সময় তিনি দ্বিতীয় শ্রেণী লাভ করলেও পরের বছর প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে তিনি মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন। এর পর শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে শিক্ষায় এম,এ এবং ১৯৬২ সালে পিএইচডি লাভ করেন।

কর্ম জীবন........
আবদুল্লাহ আল-মুতী কর্ম জীবন শুরু করেন রাজশাহী কলেজে শিক্ষক হিসাবে। ১৯৭৫ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব হিসেবে যোগ দেন। তারপর শিক্ষা প্রশাসন ও সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গুরু দায়িত্ব পালন করেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন ১৯৮৬ সালে। তার প্রকাশিত বিজ্ঞান ও শিক্ষা বিষয়ক মৌলিক গ্রন্থের সংখ্যা ২৭, অনুদিত গ্রন্থের সংখ্যা ১০, সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ১০। এছাড়াও কিছু পান্ডুলিপি রয়েছে, যার অনেক গুলো এখনও অপ্রকাশিত। রেডিও এবং টিভিতে তাঁর উপস্থাপিত অনুষ্ঠান বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছিল। তিনি লেখালেখি শুরু করেন ছাত্রজীবন থেকেই। বিজ্ঞানের জটিল, সূক্ষ বিষয়কে সহজ ভাষায় সর্বজনবোধ্য করে তোলার জন্য তার দক্ষতা ও সাফল্য ছিল তুলনাহীন। শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য অঙ্গনে অজস্র সংগঠন প্রতিষ্টানের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন আমৃত্যু। ১৯৪৭ সালে মুকুল ফৌজ আন্দোলনে যোগ দিয়ে পরবর্তী বছরে "মুকুল" নামে কিশোর পাক্ষিক পত্রিকা বের করেন। কেন্দ্রীয় কচি কাঁচার মেলা -এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ইত্তেফাক, আজাদ, মোহাম্মদী পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন। ,জাতীয় শিশু-কিশোর সংস্থা সহ নানা সংঠনের উপদেষ্টা ছিলেন। এছাড়া তিনি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এশিয়েটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ (১৯৮৮-৯০), বাংলা একাডেমী, ঢাকা (১৯৮৬-৯০) ও বিজ্ঞান শিক্ষা সমিতিতে। এছাড়া তিনি আরো যেসব দায়িত্ব পালন করেছেন সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- প্রধান উপদেষ্টা, প্রথম ঢাকা মহাকাশ উৎসব "বেক্সিমকো স্পেসফেস্ট ১৯৯৬', চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের দশম বর্ষপূর্তি উদযাপন কমিটি (১৯৯৮), উপদেষ্টা, দ্বিতীয় ঢাকা মহাকাশ উৎসব ‘স্পেসফেস্ট ১৯৯৯’। প্রধান উপদেষ্টা, ঢাকা প্রস্তাবিত স্পেস সেন্টার, উপদেষ্টা, মেঘনাদ সাহা বিজ্ঞান তথ্যকেন্দ্র ও গ্রন্থাগার (১৯৯৭-৯৯)। জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা সংস্কার ও আধুনিকরণের কর্মকান্ডে তিনি প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থেকে উজ্জ্বল অবদান রেখে গেছেন।শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখায় বাংলাদেশ সরকারের ১৯৮৫ সালে একুশে পদকে ভূষিত করেন।তিনি ৩০শে নভেম্বর ১৯৯৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।


আবদুল মতিন (ভাষা সৈনিক)......
আব্দুল মতিন ১৯৫২ সালের বাংলা ভাষা আন্দোলনের অন্যতম ভাষা সৈনিক।

শৈশব ও শিক্ষা জীবন.......
আব্দুল মতিন ১৯২৬ সালের ৩ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের চৌহালি উপজেলার ধুবালীয়া গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম আব্দুল জলিল এবং মায়ের নাম আমেনা খাতুন। তিনি ছিলেন তাদের প্রথম সন্তান। জন্মের পর তাঁর ডাক নাম ছিল গেদু। ১৯৩০ সালে গ্রামের বাড়ি যমুনা ভাঙনে ভেঙ্গে গেলে আবদুল জলিল জীবিকার সন্ধানে ভারতের দার্জিলিং এ চলে যান। সেখানে জালাপাহারের ক্যান্টনমেন্টে সুপারভাইস স্টাফ হিসেবে একটি চাকরি পেয়ে যান। ১৯৩২ সালে আব্দুল মতিন শিশু শ্রেণীতে দার্জিলিং-এর বাংলা মিডিয়াম স্কুল মহারাণী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিলেন এবং তখন সেখানেই তাঁর শিক্ষা জীবনের শুরু। ১৯৩৩ সালে আব্দুল মতিনের মাত্র ৮ বছর বয়সে তার মা অ্যাকলেমশিয়া রোগে মারা যান। মহারানী গার্লস স্কুলে ৪র্থ শ্রেণী পাশ করলে এখানে প্রাইমারি স্তরের পড়াশোনার শেষ হয়। এরপর ১৯৩৬ সালে দার্জিলিং গভর্মেন্ট হাই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হন। তিনি ১৯৪৩ সালে এনট্রেন্স (মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষা) পরীক্ষায় ৩য় বিভাগ নিয়ে উত্তীর্ণ হন। আব্দুল মতিন ১৯৪৩ সালে রাজশাহী গভর্মেন্ট কলেজে ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষে ভর্তি হলেন। ২ বছর পর ১৯৪৫ সালে তিনি এইচ এস সি পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ নিয়ে উত্তীর্ণ হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে আব্দুল মতিন ব্রিটিশ আর্মির কমিশন র‌্যাঙ্কে ভর্তি পরীক্ষা দেন। দৈহিক আকৃতি, উচ্চতা, আত্মবিশ্বাস আর সাহসিকতার বলে তিনিফোর্ট উইলিয়াম থেকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কমিশন পান। এরপর তিনি কলকাতা থেকে ব্যাঙ্গালোর গিয়ে পৌঁছান। কিন্তু ততদিনে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। ফলে তিনি একটি সার্টিফিকেট নিয়ে আবার দেশে ফিরে আসেন। দেশে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি ১৯৪৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর অব আর্টসে (পাস কোর্স) ভর্তি হলেন। ফজলুল হক হলে তাঁর সিট হয়। ১৯৪৭ সালে গ্র্যাজুয়েশন কোর্স শেষ করেন এবং পরে মাস্টার্স করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে।

কর্মজীবন ও রাজনৈতিক জীবন............
১৯৫২ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তোলায় আব্দুল মতিনের অবদান অন্যতম।সেবছর ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন তিনি। শিক্ষার্থীদের সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই কলাভবনের জনসভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ১৪৪ ধারা ভঙ্গের। তাঁরই নেতৃত্বে একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সারা বাংলার জন্য আন্দোলনের নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ভাষা আন্দোলনের পর তিনি ছাত্র ইউনিয়ন গঠনে ভূমিকা রাখেন এবং পরে সংগঠনটির সভাপতি হন। এরপর কমিউনিস্ট আন্দোলনে সক্রিয় হন। ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশ সরকার ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করেন।

আব্দুল মতিন ২০১৪ সালের ৮ অক্টোবর সকাল ৯টায় ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে দীর্ঘদিন তিনি একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।তিনি মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান করেন।

মহাদেব সাহা (কবি).........

মহাদেব সাহা বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালের একজন অন্যতম প্রধান কবি। তিনি তাঁর সাহিত্যিক অবদান দিয়ে সব ধরনের পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর অসীম অনুরাগ ছিলো।
জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতি......
মহাদেব সাহা ১৯৪৪ সালের ৫ আগস্টে তৎকালীন পাবনা জেলা বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে পৈতৃক বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম বগদাধর সাহা এবং মাতা বিরাজমোহিনী। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৯৩ টি।


পুরস্কার ও সম্মাননা........
মহাদেব সাহা তাঁর কাব্য প্রতিভার জন্য অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেছেন। তিনি ১৯৮৩ সালে কবিতায় বাংলা একাডেমী পুরস্কার এবং ২০০১ সালে একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়াও অন্যান্য পুরস্কার ও সম্মননার মধ্যে ১৯৯৫ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৯৭ সালে বগুড়া লেখকচক্র পুরস্কার, ২০০২ সালে খালেকদাদ চৌধূরী স্মৃতি পুরস্কার এবং ২০০৮ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার অন্যতম।


মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী (রাজনীতিবিদ).........
জীবনী.....
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা হাজী শারাফত আলী। হাজী শারাফত আলী ও বেগম শারাফত আলীর পরিবারে ৪ টি সন্তানের জন্ম হয়। একটি মেয়ে ও তিনটি ছেলে। মোঃ আব্দুল হামিদ খান সবার ছোট। তাঁর ডাক নাম ছিল চেগা মিয়া। ছেলে-মেয়ে বেশ ছোট থাকা অবস্থায় হাজী শারাফত আলী মারা যান। কিছুদিন পর এক মহামারীতে বেগম শারাফত ও দুই ছেলে মারা যায়। বেঁচে থাকলো ছোট শিশু আব্দুল হামিদ খান। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সমাজ সংস্কারমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। জয়পুরহাট-এর পাঁচবিবিতে মহিপুর হাজী মহসীন কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন, পরে সেটি জাতীয়করণ করা হয়। আসামে ৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি কারিগরী শিক্ষা কলেজ, শিশু কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন সন্তোষে। এছাড়াও তিনি কাগমারিতে মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ এবং পঞ্চবিবিতে নজরুল ইসলাম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

সম্মাননা.......
২০০২ সালে ভাষা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক একুশে পদক প্রদান করা হয়।
মৃত্যু
১৯৭৬ খৃস্টাব্দের ১৭ই নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই দেশ বরেণ্য নেতা মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে টাংগাইল জেলার সদর উপজেলার উত্তর-পশ্চিমে সন্তোষ নামক স্থানে পীর শাহজামান দীঘির পাশে সমাধিস্থ করা হয়। সারা দেশ থেকে আগত হাজার হাজার মানুষ তাঁর জানাযায় অংশগ্রহণ করে।


আমানুল হক (ভাষা সৈনিক).....
আমানুল হক একজন বাংলাদেশী চিত্রগ্রাহক যিনি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের একমাত্র ছবি তুলেছিলেন।তিনি একজন ভাষা সৈনিক।

প্রাথমিক জীবন.......
আমানুল হক সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ১৯২৫ সালে তার জন্ম গ্রহণ করেন।তাঁর বাবার অনুপ্রেরণায় ছোটবেলা থেকেই তিনি আঁকাআঁকি করতেন। বড় হয়ে কিছুদিন আর্ট কলেজে লেখাপড়াও করেছেন তিনি। পরে তিনি চাকরি পান ঢাকা মেডিকেল কলেজে আর্টিস্ট কাম ফটোগ্রাফার পদে। মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তিনি এঁকে দিতেন মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের জন্য। একটা ভাঙ্গা বক্স ক্যামেরা নিয়ে চারিদিকে ঘুরে বেড়াতেন এবং ছবি তুলতেন। তিনি ১৯৫২ সালে জড়িয়ে পড়েন ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে।

ভাষা আন্দোলন......
আমানুল হক সর্বক্ষণই তাঁর নিজের কাঁধে ক্যামেরা ঝুলিয়ে রাখতেন। চোখে কিছু আটকে গেলেই তিনি তার ছবি তুলে রাখতেন যা ছিল তাঁর নেশা। একুশে ফেব্রুয়ারিতে খারাপ ঘটনা ঘটতে পারে, এটা তিনি আগে থেকেই অনুমান করতে পেরেছিলেন। তাই ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি তাঁর ক্যামেরা পকেটে লুকিয়ে রেখেছিলেন। ঐদিন গাজীউল হক, আব্দুল মতিন, অলি আহমেদ, গোলাম মওলাসহ আরও কয়েকজনের নেতৃত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছোট ছোট মিছিল বের হয়েছিল । পুলিশ মিছিল বাইরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনকারীদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং মিছিলে গুলি চালায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অনেক মানুষ। আমানুল হক তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং দেখেন কয়েকজন ধরাধরি করে রক্তমাখা একজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসছে। সেটা ছিল গুলিবিদ্ধ বরকতকে । প্রচুর রক্তক্ষরণের ফলে ঐ রাতে হাসপাতালে ভর্তির পর তিনি মারা যান। ঐ দিন বরকতসহ রফিকউদ্দিন আহমদ, জব্বার, আব্দুস সালাম এবং নাম না জানা এক কিশোর শহীদ হন। ২২শে ফেব্রুয়ারি পুরনো হাইকোর্ট ভবন এবং কার্জন হলের মাঝামাঝি একটি জায়গায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন শফিউর রহমান এবং রিকশাচালক আউয়ালসহ আরও কয়েকজন। পুলিশ ২১ এবং ২২ তারিখের বেশিরভাগ লাশই গুম করতে সক্ষম হয়েছিল।

ঐতিহাসিক ছবি........
শহীদ রফিককে যখন নামানো হয়, তখন দেখি মাথার ঘিলু গড়িয়ে পড়ছিল। আলোকচিত্রশিল্পী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রফিকুল ইসলাম আমানুল হককে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করতে থাকেন। রফিকুল আলমের ক্যামেরায় ফিল্ম ছিল না। রফিকুল আলম বলেনঃ “আমানুল হক সাহেবের কাছে একটা-দুটো ফিল্ম ছিল, তিনি ছবি তুলেছেন।” রফিকের লাশ ভেতরে নিয়ে যাওয়া হলে সবাই ভেতরে গিয়ে লাশ খুঁজি পায়নি।তখন সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী মোহম্মদ ইদ্রীস গোলমালের খবর শুনে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চলে আসেন খবর জানতে।তখন ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী হালিমা খাতুন তাকে বলেন যে নিহত একজনের লাশ রক্ষিত আছে হাসপাতালের পেছনে এবং তিনি চাইলে সে লাশ দেখতে পারেন । কাজী মোহম্মদ ইদ্রীস আমানুল হককে গোপনে নিয়ে আসেন ছবি তোলার জন্য। সাংবাদিক কাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস রফিকুল আলম ও আমানুল হককে নিয়ে গেলেন জরুরি বিভাগের পাশে একটা পাশে একটা আলাদা ঘরে যেখান থেকে লাশ গুম করে ফেলা হবে। ইদ্রিস সাহেব তাদের গোপনে ছবি তুলতে দিলেন। এটা ছিল একটা গোপন ব্যাপার।তাই সংকেত পাওয়ার পরপরই আমানুল সন্তর্পনে এগিয়ে যান হালিমার কাছে রক্তস্নাত লাশের ছবি তোলার জন্য যা ছিল শহীদ রফিকউদ্দিনের লাশ। রফিকুল ইসলাম তখন আমানুল হককে বলেন ছবি তুলতে। কারণ তাঁর কাছে ফ্লিম ছিল না। সেই ছবিটাই কিন্তু শহীদদের একমাত্র ছবি।আমানুল হক বলেন, “ঢাকা মেডিকেলে সেদিন রফিকের ছবি তুলতে গিয়ে আঁতকে উঠেছিলাম। অন্ধকার একটি ঘরে রাখা ছিল রফিকের লাশ। আমি কয়েকজনের সহায়তায় সেদিন তার ক্ষতবিক্ষত লাশের ছবিটি তুলতে পেরেছিলাম।ছবিটির তিনটি কপি করা হয় যার একটি দেয়া হয় এ.এস.এম মোহসিনকে, মাজেদ খানকে (ইসলামের ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এবং শেষ কপিটি দেয়া হয় দৈনিক আজাদে প্রকাশের জন্য যা মওলানা আকরাম খাঁর নির্দেশে আর ছাপানো যায় নি। ছাত্ররা ছবিটি ব্যবহার করে লিফলেট ছাপায় যা দুর্ভাগ্যবশতঃ পুলিশ বাজেয়াপ্ত ও নিষিদ্ধ করে। অনেক পরে সাপ্তাহিক বিচিত্রার প্রচ্ছদে ছবিটি পুনঃপ্রকাশিত হয়।

সন্মাননা.....
আমানুল হক ২০১১ সালে ভাষা সৈনিক হিসেবে একুশে পদক লাভ করেন বাংলাদেশ সরকার কাছ থেকে।


কামাল লোহানী (সাংবাদিক).......
কামাল লোহানী বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক। কামাল লোহানী নামেই পরিচিত হলেও তাঁর পারিবারিক নাম আবু নঈম মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান লোহানী।

জন্ম ও পারিবারিক জীবন...........
কামাল লোহানীর জন্ম সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার সোনতলা গ্রামে ১৯৩৪ সালের ২৬শে জুনে। বাবা আবু ইউসুফ মোহাম্মদ মুসা খান লোহানী। মা রোকেয়া খান লোহানী।

শিক্ষাজীবন.......
কামাল লোহানী প্রথমে কলকাতার শিশু বিদ্যাপীঠে পড়াশুনা শুরু করেন। দেশভাগের পর ১৯৪৮ সালে পাবনা চলে যান। ভর্তি হলেন পাবনা জিলা স্কুলে। ১৯৫২ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। এরপর ভর্তি হন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে। এই কলেজ থেকেই উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। আর উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পরই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি টানেন তিনি।

কর্মজীবন..........
কামাল লোহানী 'দৈনিক আজাদ', 'দৈনিক সংবাদ', 'দৈনিক পূর্বদেশ', 'দৈনিক বার্তা'সহ বিভিন্ন পত্রিকার কর্মরত ছিলেন। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নে দুদফায় যুগ্ম-সম্পাদক এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হন। তিনি গণশিল্পী সংস্থার সভাপতি ছিলেন। ১৯৬২ সালে স্বল্পকাল কারাবাসের পর কামাল লোহানী 'ছায়ানট' সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সাড়ে চার বছর এই দায়িত্ব পালন করেন। এরপর মার্কসবাদী আদর্শে ১৯৬৭ সালে গড়ে তোলেন 'ক্রান্তি'।

সম্মাননা প্রাপ্তি.........
কামাল লোহানী সাংবাদিকতায় ২০১৫ সালে একুশে পদক লাভ করেন।



আমানুল হক (নৃত্য শিল্পী).....
জন্ম: ১২ আগষ্ট ১৯৩৮

জন্মস্থান: দিয়ারধানগড়া, সিরাজগঞ্জ।

জীবনী: বাংলাদেশের নৃত্যের প্রবাদ প্রতীম শিল্পী আমিনুল হক । বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এ শিল্পী শৈশবেই পিতামাতার অনুপ্রেরনায় সিরাজগঞ্জের সংগীত গুরু দীনেশ চন্দ্র মালাকারের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নেন। নাট্যসংগঠন খেয়ালী ক্লাবের সদস্য হয়ে নাটকের সাথেও জড়িয়ে পড়েন একসময়। ১৯৫২ সালে কিংবদন্তী শিল্পী বুলবুল চৌধুরীর সান্নিধ্য আমানুল হকের জীবনে নতুন দিগন্তের সন্ধান এনে দেয়। ছোট বেলা থেকে সঙ্গীত, খেলাধুলা,সাহিত্য ও নাট্যচর্চায় নিমগ্ন এ মানুষটির কাছে পড়ালেখার চাইতে এসবেরই প্রাধাণ্য ছিল বেশি। ক্রিকেট খেলায়ও যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী বুলবুল চৌধুরীর কাছে নাচ শেখা আমানুল হকের নির্দেশনায় স্বাধীন বাংলাদেশে মঞ্চস্থ হয় এ জাতির স্বাধীনতার সংগ্রাম নিয়ে প্রথম নৃত্যনাট্য ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’।
নৃত্যের অঙ্গনে পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ে ‘জ্বলছে আগুন ক্ষেতে খামারে’, ‘হরতাল’, ‘ওরা কাজ করে’ ও ‘দিগন্তে নতুন সূর্য’সহ বিভিন্ন নৃত্যনাট্যে বাঙালির মুক্তির আকাঙ্খার কথা বার বার উঠে এসেছে।
তাসের দেশ, সোনা ঝরা সন্ধ্যা, আমার স্বদেশ আমার ভালবাসা, বিক্ষুব্ধসহ আরও বহু নৃত্যনাট্য মঞ্চস্থ হয়েছে তার নির্দেশনায়। নৃত্যশিল্পী আমানুল হক ২০১৬ সালে শিল্পকলায় একুশে পদক লাভ করেন।

Ibn Rezwan Raju ০৭-০১-২০১৮ ০৩:৪৬ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 2148 বার দেখা হয়েছে।
পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
অন্যান্য খবরসমুহ
NATIONAL NEWS, ECONOMY NEWS, WORLD NEWS, SPORTS NEWS, ENTERTAINMENT NEWS, LIFESTYLE NEWS, ARTS NEWS, NATURE NEWS, OPINION NEWS, CRIME NEWS
ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
বিজ্ঞাপন
কামারখন্দ : আরো খরবসমুহ
সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত
বিজ্ঞাপন

ভিজিটর সংখ্যা
100
২৪ জানুয়ারী, ২০১৮ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন