উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা বাড়লেও বাড়েনি চিকিৎসার মান এবং চিকিৎসক
২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন


  

  • উল্লাপাড়া/ জনদুর্ভোগ:

    উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা বাড়লেও বাড়েনি চিকিৎসার মান এবং চিকিৎসক
    ১২ জানুয়ারী, ২০১৮ ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত

    রায়হান আলীঃ  আছে নতুন ভবন, অপারেশনের জন্য আছে অত্যাধুনিক মেশিন-যন্ত্রপাতি, আছে এক্সরে মেশিনসহ নানা সরঞ্জামাদি। কিন্তু নেই কোনো সেবা। যে কারণে হাসপাতাল বিমুখ হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

    কর্তৃপক্ষ বলছে, চিকিৎসক সংকটের কারণেই প্রয়োজনীয় সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমন চিত্র দেখা যায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের।

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সাত লক্ষাধিক সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবার মানবৃদ্ধির জন্য পুরাতন ভবনের পাশাপাশি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়। গর্ভবতী মায়েদের সিজারসহ অন্যান্য অপারেশনের জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। রয়েছে এক্সরে ও ডেন্টাল মেশিনসহ নানান সরঞ্জামাদি।

    কিন্তু অজ্ঞান করার চিকিৎসক ও সার্জারি বিশেষজ্ঞসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘ ৮ বছর যাবত অপারেশন-সিজার-এক্সরেসহ কোনো সেবা পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ।

    আর বর্তমানে যে কয়েকজন চিকিৎসক রয়েছে তারাও সময়মত হাসপাতালে থাকছে না। এ কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান একেবারে ভেঙে পড়েছে। সাধারণ মানুষ হাসপাতাল বিমুখ হয়ে পড়ছে। চিকিৎসক সংকট কারণে চিকিৎসা সেবা যেমন ব্যাহত হচ্ছে তেমনি সার্জারী ও গাইনী বিশেষজ্ঞ না থাকায় অপারেশন থিয়েটারও বন্ধ রয়েছে। মাত্র একটি পার্সের জন্য এক্সরে মেশিনও দীর্ঘদিন যাবত অচল রয়েছে।

    আর দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় অপারেশনের যন্ত্রপাতিগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। কথা হয় ভর্তি হওয়া রোগী ববিতার সাথে। তিনি বলেন, ‘আজ সকালে আমি ভর্তি হয়েছি। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছে। তারপর থেকে আর কেউ দেখতে আসেনি। পরীক্ষা দিয়েছে সেটা কোথায় করাব। তাও বলছে না।’

    এখান থেকে অন্য হাসপাতালে চলে যাবেন এমনটাই জানালেন এই রোগী। চিকিৎসা নিতে প্রসূতি মোমেনা খাতুন জানান, এখানে সব কিছুই আছে। কিন্তু আমরা পাচ্ছি না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা কোনো কিছুই এখানে হচ্ছে না। সব বাহিরে থেকে করা হচ্ছে।

    আবার ঠিকমত ডক্টরকেও পাওয়া যায় না। এই সমস্যার সমাধান করা অতি জরুরী হয়ে পড়েছে বলে জানালেন এই প্রসূতি মা। স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফ আলী অভিযোগ করে বলেন, স্বাস্থ্য সেবা ক্লিনিক লেখা থাকলেও এখানে কোনো সেবা দেওয়া হয় না। সব ধরনের মেশিন থাকলেও সকল পরীক্ষা প্রাইভেটে করানো লাগে।

    জিজ্ঞেস করলেই বলে মেশিন খারাপ। নাই কোনো ডক্টর। যদিও দুই একজন থাকলেও তাদের পাশে থাকে রিপ্রেজেনটিটিভ। গল্প করতে করতে রোগী দেখার সময় নাই। হাসপাতালে এত কিছু থাকার পরও এত অনিয়ম দেখার কেউ নাই। এই সমস্যা দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার।

    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ২৩ জন চিকিৎসকের স্থলে মেডিকেল অফিসার রয়েছে মাত্র পাঁচ জন আর একজন চিকিৎসক ট্রেনিংয়ে ও গাইনী চিকিৎসক ছুটিতে রয়েছে। স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে উপজেলার ছয় লক্ষাধিক মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেয়া অসম্ভব। চিকিৎসকের জন্য প্রতিমাসে চাহিদা দেয়া হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না বলে জানালেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।

    সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. কাজী শামীম হোসেন চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে হাসপাতালমুখী হয় এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধি করা হবে এমনটাই প্রত্যাশা উল্লাপাড়াবাসীর। ২য় পর্ব ধারাবাহিক

    ১২ জানুয়ারী, ২০১৮ ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 349 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    উল্লাপাড়া অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7339624
    ২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন