গেটে তালা ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি উপাচার্যঃ উপাচার্য হটাতে আইইউটি উত্তাল
১৫ আগস্ট, ২০১৮ ০৭:২৩ অপরাহ্ন


  

   সর্বশেষ সংবাদঃ

  • জাতীয়/ শিক্ষা:

    গেটে তালা ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি উপাচার্যঃ উপাচার্য হটাতে আইইউটি উত্তাল
    ২৪ জানুয়ারী, ২০১৮ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত

    গাজীপুরের বোর্ডবাজারে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলোজির (আইইউটি) উপাচার্যের (ভিসি) অপসারণ দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার দিনভর বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ। এ সময় উপাচার্য গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে যেতে চাইলে আন্দোলনকারীরা মূল গেটে তালা লাগিয়ে ভেতরে অবস্থান নেয়। গেটের বাইরে গাড়িতে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও ভেতরে ঢুকতে পারেননি উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়টি অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) প্রতিষ্ঠান।

     

    গতকাল সকাল ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেট বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে আন্দোলনকারীরা। তারা উপাচার্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে স্লোগান দেয়। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে উপাচার্য ড. মুনাজ আহমেদ নূর ঢাকা থেকে এসে গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকতে চাইলে শিক্ষার্থীরা মূল গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। তারা ‘আইইউটি ছাড়ো’, ‘আইইউটিকে বাঁচাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা উপাচার্যের গাড়ি ঘিরে রাখেন। খবর পেয়ে দুপুর ১টার দিকে জয়দেবপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের শান্ত করার চেষ্টা চালায়। দুপুর আড়াইটার দিকে উপাচার্য গাড়ি থেকে নামলেও মূল গেটে তালা থাকায় ভেতরে ঢুকতে পারেননি। বিকেল ৫টা পর্যন্ত তিনি গেটের সামনে গাড়িতেই বসে ছিলেন।

     

    ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. তসলিম রেজা জানান, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে আইইউটিতে যোগ দেন উপাচার্য ড. মুনাজ আহমেদ নূর। যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি ফ্যাকাল্টি ও স্টাফ মেম্বারদের প্রতি অপেশাদর আচরণ করেছেন। তিনি কারণ দর্শানো ছাড়াই শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তা প্রহরীদের (সিকিউরিটি গার্ড) চাকরি থেকে অপসারণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বৈষম্যমূলক কর্মক্ষেত্র তৈরি করেছেন; তাঁর অনুসারীদের অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছেন; চুক্তিভিত্তিক অভিজ্ঞ ও প্রবীণ শিক্ষকদের চুক্তি বাতিল করেছেন। তাঁর খামখেয়ালি ভর্তিপ্রক্রিয়ার কারণে শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাবরেটরির পরিবেশের অবনতি হয়েছে। বর্তমান বেতন কাঠামো সংস্কারের জন্য ওআইসির নির্দেশনা মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

     

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মুনাজ আহমেদ যোগ দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্ষেত্রে মানের অবনতি হয়েছে। আসনের চেয়ে বেশি ছাত্র ভর্তি, হলের সিট বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম, খালি থাকা সত্ত্বেও সিট না দেওয়া, অপর্যাপ্ত শিক্ষক, ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের সংকট, যৌক্তিক কারণ ছাড়াই টিউশন ফি বাড়ানো, অবাস্তব যাতায়াতব্যবস্থা চালু এবং হঠাৎ তা বন্ধ করে দেওয়াসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি করেছেন তিনি। তারা জানায়, এসব সমস্যা ও উপাচার্যের অনিয়মের বিষয়ে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে ওআইসির মহাসচিব ড. ইউসাফ বিন আহমদ আল ওথাইমেনের বরাবর অভিযোগ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওআইসি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি তদন্ত করে গেলেও এখনো প্রতিবেদন দেয়নি। এক মাসের খাবার নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ঢুকেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেশ ও উপাচার্য অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

     

    উপাচার্য মুনাজ আহমেদ নূর সাংবাদিকদের বলেন, কিছু শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সম্মিলতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তারা আন্দোলনে যেতে পারত।

     

    জয়দেবপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে উপাচার্য গাড়িতেই বসে ছিলেন। সন্ধ্যায় তিনি ঢাকায় ফিরে যান। ক্যাম্পাসে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

    ডেস্ক রিপোর্টঃ ২৪ জানুয়ারী, ২০১৮ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 163 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    জাতীয় অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    6535554
    ১৫ আগস্ট, ২০১৮ ০৭:২৩ অপরাহ্ন