আকাশে আকাশে বেদনা : কাঁদো মানুষ কাঁদো
২২ অক্টোবর, ২০১৮ ০৩:১২ অপরাহ্ন


  

  • জাতীয়/ দূর্ঘটনা:

    আকাশে আকাশে বেদনা : কাঁদো মানুষ কাঁদো
    ১৩ মার্চ, ২০১৮ ১২:১২ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    বেদনা আমাদের সবসময় ঐক্যবদ্ধ রাখে। আনন্দে বিভক্ত হলেও বাঙালি দু:খে এক। তার প্রমাণ আবার পেলাম । নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে  পতিত বিমানটির বেলায়। ইউ এসবাংলায় চড়ার অভিজ্ঞতা আছে আমাদের সকলের । কোন পরিবহনের বা কাদের এই ক্রাফট সেটা এখন আর কোন কথা নয়। এখন বিষয়টা বেদনা আর দু:খের। আমরা যারা দেশের বাইরে থাকি দেশে যাবার একামত্র বাহন এই উড়োজাহাজ।  তাছাড়া এখন দেশের মানুষের জীবনেও বিমানে ভ্রমন কোন বিলাসিতা না। এটা জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে আজ। বাজেট এয়ারলাইনস গুলো আসার পর মানুষের জীবনে গতি এসেছে। তারা এখন বাস ট্রেনের পরিবর্তে বিমানে চড়তে পারেন। এই কারনে এখন বিমান দূর্ঘটনা মানে কিন্তু ধনী বা বড়লোক নামে পরিচিতজনদের মৃত্যু না। এখন সাধারণ মানুষের জীবন  যায় এতে। যে বিমানটি কাল পড়ে গিয়েছিল তাতে ছিলো ছাত্র ছাত্রী বেড়াতে যাওয়া মানুষ আর কাজের কারণে যেতে বাধ্য কিছু সাধারণ মানুষজন। এই কষ্ট মানা যায়না। 

     

     

    বিমানে ভ্রমণ যে কতটা ঝুঁকির সেটা আমাদের চাইতে ভালো কেউ জানেনা। প্রতিবার মনে হয় এই শেষ। আর চড়বোনা। কিন্তু আবার ও যেতে হয়। একবার আমি আর দীপা হাওয়াই গিয়েছিলাম। হনলুলু থেকে বিগ আইল্যান্ড যেতে একঘণ্টা ও লাগেনা। যাবার বেলায় সব ঠিকঠাক। ফেরার পথে কিছুটা উড়ে আসার পর শুরু হলো প্রলয়দোলা। এমনই অবস্থা মুখে কৃত্রিম হাসি অন্তরে ভয় নিয়ে ড্রিঙ্কস দিতে আসা মেয়েটি টালসামলাতে না পেরে পড়েই গেল।বন্ধ হয়ে গেল পাণীয় টানীয়। একটানা ঘোষণা দেয়া হচ্ছিল সীটবেল্ট বেঁধে রেখে নিজেকে সংযত রাখার।নীচে তাকিয়ে দেখি যতদূর চোখ যায় প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তাল জলরাশি। জীবন তখন হাতের মুঠোয়। শুধু সিডনি রেখে আসা অর্কের মুখখানা ভেসে উঠছিলো। মা বাবা কেউই থাকবেনা তার?

     

    কেমন করে জানি বেঁচে গিয়েছিলাম। যাঁরা কাঠমান্ডুতে বাঁচেননি তাঁদের সে সময়কার চেহারা বা মনোভাব বুঝতে পারি।পৃথিবীতে এত নিষ্ঠুর দূর্ঘটনা আর কিছুতে নাই। 

    নেপালে যাবার সময় ও এমনটা হয়েছিল। ঝাঁকুনি আর প্রবল কাঁপাকাাঁপির পর সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের বিমানটি কোনক্রমে ল্যান্ড করতে পেরেছিল। এখন এটা মনে করতেই পারি এয়ার লাইনস ভেদে গুরুত্ব দেয়ার বিষবটাও হয়তো আলাদা। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে ইউ এস বাংলার বিমানটিকে কাঠমান্ডুর কর্তারা তেমন গুরুত্ব দেয়নি। আমাদে সৌভাগ্য যে চালক বা পাইলট বেঁচে আছেন পাওয়া গেছে ব্ল্যাক বক্স। ফলে ঘটনা বেরিয়ে আসবে। কিন্তু সন্দেহ একটাই আমরা বড় নাজুক জাতি। নিজেদের ভেতর মারামারি বা ঝগড়া জানলেও অন্যের বেলায় কঠিন হতে পারিনা। হতে পারে বিমানটি পুরণো বা অকেজো কোন যান্ত্রিক কারণে ভেঙে পড়েছে। কিন্তু এটা মনে করার অনেক কারন আছে যে সেখানকার কর্তাদের ঘাটতি থাকতে পারে। কারন নাক ভেঙে পড়া থাকা তুর্কি বিমান বা আরো অনেক বিমান এ বিমানবন্দরে বিপদে পড়েছে। মানুষ জান হারিয়েছে। তাই সত্য বেরিয়ে আসুক। 

    শোকার্ত জাতির আজ একটাই প্রার্থনা:

    মৃত্যুর জানাজা মোরা কিছুতেই করিবোনা পাঠ

    কবরের ও ঘুম ভাঙে জীবনের দাবী আজ এত ই বিরাট।

     

    মনটা বড় কাঁদছে। আহারে মানুষ। অসহায় মানবসন্তান।

     

     


    লেখক: সিডনি প্রবাসী, কলামিস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষক

    নিউজরুম ১৩ মার্চ, ২০১৮ ১২:১২ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 173 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    জাতীয় অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7396071
    ২২ অক্টোবর, ২০১৮ ০৩:১২ অপরাহ্ন