ক্রমগ্রাসী যমুনার দু’পাড়েই ভাঙন তান্ডবলীলা
১৯ জুলাই, ২০১৮ ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন


  

  • চৌহালী/এনায়েতপুর/ জীবনযাত্রা:

    ক্রমগ্রাসী যমুনার দু’পাড়েই ভাঙন তান্ডবলীলা
    ০৯ জুলাই, ২০১৮ ০১:৫৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ক্রমগ্রাসী যমুনার ভাঙন তান্ডবলীলায় সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে যমুনার দু’পাড়েই পাল্লা দিয়ে চলছে নদী ভাঙন। বিশেষ করে দক্ষিনাঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র নদী ভাঙনে গত এক মাসে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও বিস্তৃীর্ন ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখনই ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বহু ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হবার আশংঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এদিকে যমুনার পশ্চিম তীরে অবস্থিত মেকিকেল কলেজ এন্ড হাসপতাল, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলছে ভয়াবহ নদী ভাঙন।


    জানা যায়, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চৌহালী উপজেলার খাষপুখুরিয়া থেকে পাথরাইল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার এলাকায় নদী ভাঙন চলছে। প্রতিনিয়তই নদীর পেটে যাচ্ছে বসত বাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট সহ বিভিন্ন স্থাপনা। রোববার সকালের দিকে খাষপুখুরিয়া ও চরছলিমাবদ এলাকায় ৭ টি বসতবাড়িতে যমুনার হিং¯্রতা বারবার আছড়ে পড়ছে। তারা তাদের শেষ সম্বল টিনের চালা ও অন্যান্য আসবাব সড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে নিরাপদ স্থানে। এর আগে দক্ষিণ খাষপুখুরিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের, শুকুর মোল্লা, বাদশা মিয়া, হাবিবুর রহমান ও সকিনা খাতুনের বাড়িসহ, মসজিদ ও দু’টি মুদিখানা দোকান নদীতে বিলীন হয়ে যায়।


     এছাড়া গতবারের নদী ভাঙনে খাষদেলদারপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বীরবায়ুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খাষপুখুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী গর্ভে চলে যায়। এছাড়া যমুনার পশ্চিম তীরে অবস্থিত খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাপাতাল ও বিশ্ববিদ্যায়ের দক্ষিনে সাড়ে ৫কিলোমিটার এলাকা জুড়েও চলছে যমুনা ভয়াবহ ভাঙনের তান্ডবলীলা। এরকারনে মারাক্তক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ কাপড়েরর হাট, চিকিৎসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।


    স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আবু দাউদ সরকার জানায়, যমুনার রাক্ষুসী থাবার কাছে হার মেনে অসহায় মানুষ গুলো নিজ বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে ওয়াবদাবাঁধে অথবা পরের বাড়িতে উটুলী থাকতে। এ বিভিষীকাময় পরিস্থিতিতে কান্নার রোলে যমুনা পাড়ের আকাশ বাতাস ভারি হয়ে যাচ্ছে। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙনরোধে কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। খাষপুখুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরকার বলেন, যমুনা নদীর এতো ভয়ংকার গর্জন বিগত দিনে দেখা যায়নি, এবছর নদীতে পানি বৃদ্ধির পর থেকে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে চলে গেছে। দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানাই।


    এবিষয়ে চৌহালী উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব:) আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, দক্ষিনাঞ্চলে যমুনার ভাঙন ভয়াবহ রুপ ধারন করেছে। এখনই ভাঙন ঠেকানো না গেলে চৌহালীর বাকি অংশ মানচিত্রে থাকলেও বাস্তবে থাকবে না। তবে উপজেলা ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) আনিছুর রহমান জানান, ভাঙন কবিলত এলাকা পরিদর্শন করে উর্ধ্বতন মহলকে জানানো হয়েছে। আর টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ জানান, চরছলিমাবদ এলাকায় ভাঙনরোধে ডাম্পিং কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া বিধ্বস্ত চৌহালীর বাসি অংশকে নদী ভাঙন থেকে রক্ষায় পাউবো কর্মকর্তারা চেষ্টা করে যাচ্ছে।

    অনলাইন নিউজ এডিটর ০৯ জুলাই, ২০১৮ ০১:৫৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 75 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    চৌহালী/এনায়েতপুর অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    6215898
    ১৯ জুলাই, ২০১৮ ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন