বগুড়া- নগরবাড়ি মহাসড়কের চোরাগোপ্তা গর্ত যাত্রীদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত!
১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৮:২৬ অপরাহ্ন


  

  • উত্তরবঙ্গ/ যোগাযোগ:

    বগুড়া- নগরবাড়ি মহাসড়কের চোরাগোপ্তা গর্ত যাত্রীদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত!
    ০৯ আগস্ট, ২০১৮ ০৭:২১ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    শামছুর রহমান শিশির : বগুড়া -নগরবাড়ি মহাসড়কের নেই হার্ড শোল্ডার (বর্ধিত ৩ ফুট রাস্তা)। বৃষ্টিপাতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দু'পার্শ্বে সৃষ্টি হয়েছে মরণফাঁদ নামের চোরাগোপ্তা গর্ত! ফলে শাহজাদপুরসহ উত্তরাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ যাত্রীরা প্রতিনিয়ত তীব্র জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই মহাসড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করছে । এ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়কের দুইপাশে হার্ড শোল্ডার না থাকায় দ্রতগামী যানবাহনের চালকেরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় যানবাহনের নিয়ন্ত্রন হারিয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন। জনগুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এ মহাসড়ক সংস্কার করার সময় ‘হার্ড শোল্ডার’ বাদ রাখা হচ্ছে। জরুরী ভাবে চোরাগোপ্তা গর্তগুলো ভরাট না করায় এ অঞ্চলবাসীর যানমালের ক্ষয়ক্ষতির শংকাও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, হার্ড শোল্ডার মূলত মহাসড়কের ব্যস্ততার মাত্রার ওপর নীর্ভর করে নির্মাণ করা হয়। মহাসড়কের যে অংশ যত বেশী ব্যস্ত সে অংশের প্রশস্ততাও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করা হয়। সার্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় বগুড়া -নগরবাড়ি মহাসড়কে হার্ড শোল্ডার নির্মাণ ও মরণফাঁদ নামের চোরাগোপ্তা গর্তগুলি ভরাট অতীব জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ মহাসড়কের হার্ড শোল্ডার নির্মানের জন্য বার বার প্রস্তাবনা দেওয়া হলেও তা অনুমোদন না হওয়ায় কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না । এভাবে যতবারই হার্ড শোল্ডারের প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়েছে, ততবারই হার্ড শোল্ডার কেটে বাদ দিয়ে প্রস্তাবনাকৃত প্রকল্প অনুমোদন দেয়ায় তা নির্মাণ সম্ভব হয়নি। বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট গর্তগুলিও ভরাট করা হয়নি। এসব কারণে ওই মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্রাও অতীতের তুলনায় বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, রিক্সা ভ্যানসহ ছোটখাটো হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য হার্ড শোল্ডারবিহীন ২৪ ফুট প্রশস্ত এ ব্যস্ততম জনগুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে দুটি যানবাহন পাশাপাশি চলাচল ও ওভারটেকিংয়ে দুর্ঘটনার বেশ ঝুঁকি থেকে যায়। ২৪ ফুট প্রশস্ত ওই মহাসড়কের অনেক স্থানেই একপার্শ্বে ৩ ফুট ও অপর পার্শ্বে ৩ ফুট করে রিক্সাভ্যান চলাচলের জন্য অতিরিক্ত যায়গা (হার্ড শোল্ডার) না থাকায় শত শত যাত্রীবাহী ও পন্যবাহী যানবাহন চালক ও লাখ লাখ যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে এ মহাসড়কে চলাচল করতে হচ্ছে। এছাড়া সংস্কারের অভাবে বগুড়া -নগরবাড়ি মহাসড়কের শাহজাদপুর অংশসহ উত্তরাঞ্চলার বিভিন্ন পয়েন্টে নজিরবিহীন খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ- প্রতিনিয়ত সন্মুখীন হতে হচ্ছে নানা দুর্গতির। এছাড়া এ মহাসড়কের বিভিন্ন বাসষ্ট্যান্ড ও মিনি বাসষ্ট্যান্ডে এলোমেলোভাবে সেখানে বাস, মিনিবাস, ট্রাক, কাটা মাইক্রো, সিএনজি টেম্পু, অবৈধ ফিটনেস বিহীন নছিমন-করিমন দাঁড় করিয়ে রাখায় এ মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী দ্রুতগামী সব ধরনের যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা প্রতিনিয়ত নানা বিড়ম্বনায় পড়ছেন। এদিকে, ওই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে হার্ড শোল্ডার না থাকায় অপরাধীদের ধরতে আইন শৃংখ্যলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে। দেখার কেউ নেই, নেই জনদুর্ভোগ লাঘবেরও কেউ- এমনটাই ভূক্তভোগী যাত্রীসাধারণের অাক্ষেপ! বগুড়া- নগরবাড়ি মহাসড়কে চলাচলকারী বেশ কয়েকজন পরিবহন মালিক, যানবাহন চালক ও যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ মহাসড়কের ওপর দিয়ে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, পাবনা, ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের শত শত যাত্রীবাহী ও পন্যবাহী বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নিয়মিত চলাচল করছে। এ মহাসড়কের শাহজাদপুরের অন্তর্ভূক্ত বিন্নাদাইর, বাঘাবাড়ী, নুকালী, দিলরুবা বাসষ্ট্যান্ড ও বিসিক বাসষ্ট্যান্ড, পাড়কোলা বাজার, যুগনীদহ এলাকা, সরিষাকোল বাসষ্ট্যান্ড, গাড়াদহ বাসষ্ট্যান্ড, তালগাছী বাসষ্ট্যান্ড, গাড়াদহ, উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ী, কাঠালতলা, আরএস ষ্টেশন, শ্যামলীপাড়া, শ্রীকোলা, পূর্বদেলুয়া, বোয়ালিয়াসসহ ওই মহাসড়কের সিংহভাগ স্থানেই হার্ড শোল্ডার নেই। অত্যন্ত ব্যস্ততম এ মহাসড়কে চলাচলকারী দুরপাল্লার ভারী যানবাহন ছাড়াও শত শত অবৈধ লছিমন-করিমন, ভটভটি, হিউম্যান হলার, কাটা-মাইক্রো, ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের কোনরূপ বিআরটিএ’র রেজিষ্ট্রেশান,ফিটনেস সার্টিফিকেট, ইনস্যুরেন্স ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই নিয়মিত চলাচল করছে। ওইসব যানবাহনের সংখ্যা দিনদিন বদ্ধি পাওয়ায় বগুড়া- নগরবাড়ি মহাসড়কের বিভিন্ন ধরনের যাত্রীবাহী ও পন্যবাহী যানবাহন চালনায় ঝুঁকি ও সড়ক দুর্ঘটনার হার বেড়ে চলেছে। এর নেপথ্যের কারণ হিসাবে চালকেরা মহাসড়কে সৃষ্ট মরণফাঁদ নামের সৃষ্ট চোরাগোপ্তা গর্ত ও হার্ড শোল্ডার না থাকাকেই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিজ্ঞ মহলের মতে, 'জনগুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম বগুড়া- নগরবাড়ি মহাসড়কের দু'পার্শ্বের বিভিন্ন পয়েন্টে চলতি বছরের বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট চোরাগোপ্তা গর্ত অবিলম্বে ভরাট, সৃষ্ট খানা-খন্দ জরুরীভাবে ভরাট, হার্ড শোল্ডার নির্মাণ, অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সংলগ্ন স্থানে আগাম সতর্কতামূলক দিক নির্দেশনামূলক সাংকেতিক চিহ্ন সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপন, সর্বোচ্চ গতিবেগের ওপর নিয়মিত নজরদারীর সুব্যবস্থা নিশ্চিত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওই মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত শত শত পার্শ্ব সড়ক সংযোগস্থলে স্পীডবেকার বা গতিরোধক তৈরি করে দেওয়া হলে একদিকে যেমন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার হার রেকর্ড পরিমান হৃাস পাবে,অন্যদিকে অতীব জনগুরুত্বপূর্ণ বগুড়া- নগরবাড়ি মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী ঢাকাসহ পূর্বাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চরের লাখ লাখ লোকের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির হার রেকর্ড পরিমানে কমে যাবে। এ অঞ্চলের পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও যাত্রী সাধারনের জীবনের ঝুঁকি রেকর্ডহারে কমিয়ে আনতে এবং অপূরণীয় অনাকাঙ্খিত বিপর্যয় ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি উচ্চমাত্রায় হ্রাসে সংশ্লিষ্টদের এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অতীব জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে।'
    সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, শাহজাদপুর ০৯ আগস্ট, ২০১৮ ০৭:২১ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 205 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    উত্তরবঙ্গ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7947547
    ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৮:২৬ অপরাহ্ন