উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টি নেই রোপা চাষ বিঘ্নিত
১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০৩:৩০ অপরাহ্ন


  

  • উত্তরবঙ্গ/ কৃষি ও খাদ্য:

    উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টি নেই রোপা চাষ বিঘ্নিত
    ২৮ আগস্ট, ২০১৮ ১১:০৫ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত

    বর্ষার ভরা মৌসুমেও বৃষ্টির দেখা নেই। তাই উত্তরাঞ্চলের প্রধান ফসল রোপা আমন ধান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষকরা। আমন ক্ষেত ফেটে চৌচির হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। আমনের চারা রোপণ করার এক থেকে দেড় মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়নি এ অঞ্চলে। শুকিয়ে মরে যাচ্ছে রোপা আমন চারা। ক্ষেত রক্ষায় সেচ দিতে বেড়েছে ব্যয়। 


    ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) : উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে—ভরা বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টি না হওয়ায় শত শত একর জমির আমন ক্ষেত খরার কবলে পড়ে ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা চরম বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে। এমনিতে আমন মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষকরা অতিরিক্ত খরচ বহন করে জমি তৈরি থেকে চারা রোপণ করা পর্যন্ত শ্যালো মেশিন ও বিভিন্ন ধরনের সেচ দিয়ে ব্যবহার করেছে। অধিকাংশ কৃষকের নিজস্ব শ্যালো মেশিন ও সেচ ব্যবস্থা না থাকায় এখনো বৃষ্টির অপেক্ষা করছেন।


    নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক শৈলেন চন্দ্র রায়, হোসেন আলী, বীরেন্দ্র নাথ রায়, সিমু ও শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের পনির উদ্দিন, মইনুল হক জানান, এ অঞ্চলের প্রধান ফসল আমন ধান বৃষ্টিনির্ভর ফসল হিসেবে পরিচিত। আবহাওয়া বিপর্যয়ের কারণে বাড়তি খরচ করে তারা সঠিক সময়ে শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে জমিতে আমনের চারা রোপণ করেছেন।


    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ জানান, কৃষকদের রোপণকৃত চারা খরার কবলে যেন না যায় সেই জন্য কৃষি বিভাগ চারা বাঁচানোর জন্য শ্যালো মেশিন ও সেচ ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।


    নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) : বৃষ্টির অপেক্ষায় থেকে অবশেষে কৃষক সেচের পানিতে জমি তৈরি করে রোপণ করেছে রোপা আমন চারা। পানির অভাবে সেগুলোও শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, ব্যয় বৃদ্ধিসহ সেচ সুবিধা না থাকায় এখন পর্যন্ত পূর্ব নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৩ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে আমন চারা লাগাতে পারেনি কৃষক। এভাবে আর কিছুদিন খরা চলতে থাকলে এ জমিগুলো পতিত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। পৌরসভার পায়রাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী, ভবেন চন্দ্র, আব্দুল কাদের, ভৈষতুলির আবু আব্দুল্লাহ মিয়া, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের ঠাকুরের বাসা গ্রামের সোলায়মান আলী, শালমারা গ্রামের মোখলেছুর রহমান, কালীগঞ্জ ইউনিয়নের মাধাইখাল গ্রামের মনিরুজ্জামান, শাহাবুদ্দিনসহ অনেক কৃষক জানায়, গত বছর বন্যায় রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পতিত থাকে অনেক জমি। এবারে খরার কারণেও কিছু জমি পতিত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুজ্জামান জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে খরার প্রকোপ অনেক বেশি। ১৫ আগস্টের মধ্যে রোপা আমন চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। এবারে বৃষ্টি না থাকায় সে সময় পেরিয়ে গেছে।


    বদরগঞ্জ (রংপুর) :এরই মধ্যে আমনের মাঠ ফেটে চৌচির। বর্ষার এই মৌসুমেও বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নিরুপায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন কিংবা পুকুর বিল হতে সেউতি দিয়ে আমন ধানের চারা অনেক কষ্টে রোপণ করেছিলেন। বর্ষার ভরা মৌসুমেও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন ক্ষেত নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বদরগঞ্জের কৃষকরা। সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমন চারা রোপণের পর অনেক জমি বৃষ্টির অভাবে ফেটে গেছে।


    বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান মোবাইল ফোনে জানান, আমন ধানের চারা রোপণে কিছুটা বিলম্ব হলেও চলতি বছর এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ হেক্টর বেশি অর্জিত হয়েছে।

    অনলাইন নিউজ এডিটর ২৮ আগস্ট, ২০১৮ ১১:০৫ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 308 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    উত্তরবঙ্গ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7664708
    ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০৩:৩০ অপরাহ্ন