দুই গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনার জের গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য গ্রাম
১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন


  

  • কামারখন্দ/ অপরাধ:

    দুই গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনার জের গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য গ্রাম
    ০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১০:২১ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত

    কামারখন্দে দুই গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরে পুলিশের গ্রেপ্তার আতঙ্কে একটি গ্রাম পুুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। অপরদিকে অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ আসামি ধরার নামে বাড়াকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও মারধর করেছে। 


    থানা পুলিশ ও এলাকাবাসীদের সূত্রে জানা গেছে, মুঠোফোনে একটি মেয়ের কাছে ভুলবশত ফোন করা নিয়ে ঈদের আগে গত শনিবার বাড়াকান্দি ও পার্শ্ববর্তী ধলেশ্বর গ্রামের লোকজনের মধ্যে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকের পর গত রবিবার থেকে দুই গ্রামের মধ্যে তিন দফা সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় পুলিশসহ ২০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় ধলেশ্বর গ্রামের সারোয়ার হোসেন, আবু মুছা ও কামারখন্দ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশফাকুর রহমান বাদী হয়ে ৩৪ জন নামীয় ও প্রায় ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। বাড়াকান্দি গ্রামের পক্ষ থেকেও সিরাজগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২ এ দুটি মামলা দায়ের করা হয়।


    বাড়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের দায়ের করা মামলায় কামারখন্দ থানার উপ-পরিদর্শক আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বাড়াকান্দি গ্রামে অভিযান চালায়। তারা আসামি ধরার নামে গ্রামের মধ্যে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। বিভিন্ন বাড়িঘরে ঢুকে ভাঙচুর ও মারধর করে। পুলিশ রায়দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদের বাড়ি ও আমার বাড়িসহ সাতটি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করে। বর্তমানে গ্রামের সকল পুরুষ মানুষ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।


    ওই গ্রামের শাহনাজ বেগম ও আসমা বেগম জানান, রাত আনুমানিক তিনটার দিকে তারা বাড়ির গেটে এলোপাতাড়ি লাঠির আঘাত করে গেট ভেঙে বাড়িতে ঢোকে। তারা কথাবার্তার এক পর্যায়ে বাড়ির আসবাবপত্রসহ রান্না করার চুলা ভেঙে ফেলে চলে যায়। ঈদ উপলক্ষে জামাইরা বেড়াতে আসলেও তাদেরকেও জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। বর্তমানে কোনো পুরুষ মানুষ পুলিশের ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছে না।

    ওই গ্রামের নুরাল সরকারের স্ত্রী রেহানা বেগম জানান, এমন ভয়াবহ নির্যাতন কোনোদিন দেখিনি। আমি আমার ছেলের বউদের নিয়ে শুয়ে আছি। শেষ রাতের দিকে পুলিশ আমার বাড়িতে এসে আমাকে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করে। বাড়ির আসবাবপত্র থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক ভাল্ব, রান্না করার চুলাও ভাঙতে ভাঙতে এক পর্যায়ে আমরা ছেলের বউয়ের হাতে আঘাত করে হাত ভেঙে ফেলে।


    এ বিষয়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশফাকুর রহমান বলেন, কারো বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়নি। দুই পক্ষের গণ্ডগোলের সময় হয়ত তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর হতে পারে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় কাউকে আনা হলেও পরে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে মোড় নিতে পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।


    কামারখন্দ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আতোয়ার রহমান জানান, দুই গ্রামবাসীদের সৃষ্ট ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে তারাও গ্রামবাসীদের হাতে মারধরের শিকার হয়। মামলার আসামি হিসেবে পুলিশ সম্পৃক্তদের আটকের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। কোনোপ্রকার ভাঙচুর বা মারধরের ঘটনা আমার জানা নেই। তবে পুলিশ কর্তৃক ভাঙচুর মারধরের ঘটনার প্রমাণ মিললে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সূত্রঃ ইত্তেফাক

    অনলাইন নিউজ এডিটর ০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১০:২১ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 641 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    কামারখন্দ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7988461
    ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন