শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্তে হাতির অত্যাচারে দিশেহারা কৃষক
১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ১১:৩১ অপরাহ্ন


  

  • উত্তরবঙ্গ/ জনদুর্ভোগ:

    শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্তে হাতির অত্যাচারে দিশেহারা কৃষক
    ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৫:০১ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    শেরপুর প্রতিনিধিঃ শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের সমীন্তবর্তী গ্রাম বালিজুরীতে প্রতিনিয়ত হাতির অত্যাচারে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা। প্রতি রাতেই গভীর অরণ্য থেকে খাদ্যের সন্ধানে হাতির দল হানা দিচ্ছে বসত বাড়ি ও ফসলি জমিতে। এতে নষ্ট হচ্ছে কৃষকদের ধানক্ষেত, লাউ, কুমড়া, চিচিংগা সহ বিভিন্ন শাকসবজির বাগান। পাহাড়ে বসবাসরত বাড়িঘর ফসলাদি জমি ও বিভিন্ন বাগানে প্রবেশ করে ধ্বংসলীলা চালায় হাতির দল। এতে করে উপজেলার সীমান্তবর্তী কৃষকরা আতংকে রাত্রিযাপন করছে। বন্যহাতির তান্ডবে এলাকায় প্রতিবছরই ঘটছে হতাহতের ঘটনা। 

    মঙ্গলবার সরজমিনে দেখা যায়, বালিঝুরি অফিস পাড়া এলাকার কৃষক ফরিদ মিয়ার লাউ, কুমড়া ও চিচিংগার বাগানে হাতির দল এসে সবকিছু নষ্ট করেছে। কৃষক ফরিদ মিয়া জানান, আমি ধার-দেনা করে ৩ একর জমিতে লাউ, কুমড়া, চিচিংগা সহ বেশকিছু সবজির চাষ করেছিলাম। গত কয়েকদিনে হাতির তান্ডবে আমার ধানক্ষেত সহ সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় ২ লক্ষ টাকার মত ক্ষতি সাধিত হয়েছে। আমি এই আবাদ ফসল থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে আমার সংসার ও  ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ বহন করি। এছাড়াও বালিঝুরী এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মনু মিয়া, আমির হোসেন, ময়নাল ও মন্ডল জানান জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আবাদ করলেও সে ফসল আমরা ঘরে তুলতে পারছি না।


    এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গারো পাহাড়ের পাদদেশে ভারতে মেঘালয় প্রদেশের সীমান্ত ঘেষেঁ অবস্থিত জনপদ শ্রীবরদীর বালিঝুরী, কর্ণজোড়া, বাবলাকোনা, রাজারপাহাড়, সিংগিজানী, ঝোলগাও, কোচপাড়া, রাঙ্গাজান, খাড়ামোরা হারিয়াকোনা, পাঁচমেঘাদল, গারোপাড়াসহ বেশকয়েকটি গ্রামে বাঙালী ও হিন্দু গারো কোচ হাজংসহ বিভিন্ন গোত্র মিলে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ বসবাস করছে। ভারতের গহীন বনাঞ্চল রয়েছে অগনিত বুনো হাতি। তাই সময় অসময়ে বুনো হাতির পাল সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের বনাঞ্চলের আবাসিক ও কৃষিপ্রধান এলাকায় চলে আসে। পাহাড়ে বসবাসরত বাড়িঘর ফসলাদি জমি ও বিভিন্ন বাগানে প্রবেশ করে ধ্বংসলীলা চালায়। গত ২০ বছর ধরে এসব বুনো হাতি তান্ডবলীলা চালিয়ে সীমান্তবর্তী উল্লেখিত পাহাড়ি গ্রামগুলোতে কয়েক’শ ঘরবাড়ি গুড়িয়ে দিয়েছে।

    হাজার হাজার একর জমির ধান শাকসবজি ফসল খেয়ে এবং বাগানের গাছপালা দুমড়ে মুচড়ে সাবাড় করে চলেছে। বুনো হাতির আক্রমণে এ পাহাড়ি গ্রামগুলোতে বালিজুরি গ্রামের হামির উদ্দিন বাবুল মিয়া, খ্রিষ্টানপাড়া গ্রামের রিবন মারাক, ষ্টারসন, হালুয়া হাটি গ্রামের আব্দুল হাই মন্ডল, ঝুলগাও গ্রামের দুদু মিয়া, মজিবর, সিরাজ, হাতিবর গ্রামরে বৃন্দাবন দাস, মাখনেরচর গ্রামের হাসান হাবিব বাঘারচর গ্রামের আবু তালেবসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক মানুষের প্রানহানি ঘটেছে। আহতও হয়েছে কয়েকশ মানুষ। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে দলবেধে নেমে আসছে হাতি, ফলে পাহাড়ি জনপদের মানুষগুলো হাতির সাথে যুদ্ধ করে করে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ রানা জানান, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ধানক্ষেত ও সবজির বাগান পরিদর্শন করেছি।  বন্যহাতির সমস্যা স্থায়ী সমাধানের জন্য এলাকাবাসী সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।      

     

     

    নিউজরুম ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৫:০১ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 213 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    উত্তরবঙ্গ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7716169
    ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ১১:৩১ অপরাহ্ন