ইলিশের নিষেধাজ্ঞা মৌসুমে ধরার অবিরাম প্রস্তুতি জেলেদের
১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন


  

  • চৌহালী/এনায়েতপুর/ অন্যান্য:

    ইলিশের নিষেধাজ্ঞা মৌসুমে ধরার অবিরাম প্রস্তুতি জেলেদের
    ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৭:৫৪ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিরাজগঞ্জ  আগামী ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হলেও যমুনায় মাছের প্রাচুর্য্যতায় সিরাজগঞ্জের চৌহালীর লোভী জেলেরা বসে নেই। এলাকাটি রুপালী শস্য উত্তরবঙ্গের ইলিশের প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র হওয়ায় এখানে অন্যান্য বছরের চেয়ে রেকর্ড পরিমান নতুন জাল ও নৌকা তৈরীতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পাড় করছে তারা। এজন্য জেলেদের কৌশলে সুবিধা দেয়ার নামে ফায়দা লুটতে থানা পুলিশ ও মৎস্য অফিসের অসাধু কর্মচারীরা তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে। বিশেষ করে এনায়েতপুর থানার ওসি মাহবুবুল আলম চৌহালী উপজেলা মৎস্যজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি রমজান আলীকে ডেকে নিয়ে নিষেধাজ্ঞায় ইলিশ ধরতে সহযোগীতা বাবদ টাকা দাবী করেছে।

    যমুনার চরাঞ্চল ঘেরা দুর্গম জনপদ নদী ভাঙ্গনে বিপর্যস্ত চৌহালী উপজেলার অধিকাংশ অভাবী মানুষের কৃষির পরেই প্রধান পেশা মাছ শিকার। নিবন্ধিত ১ হাজার ৩৪০ জন জেলে সহ প্রায় ৩ সহস্রাদিক জেলে এ কাজে জড়িত। ইলিশ, ঘাইড়া, আইড় সহ নদীর অন্যান্য সুস্বাদু মাছ ধরতে তাদের ঘের জাল ও নিষিদ্ধ ক্যারেন্ট জালই হচ্ছে প্রধান উপকরন। উমরপুর, বাঘুটিয়া, খাসকাউলিয়া, ঘোরজান, স্থল, সদিয়াচাঁদপুর, খাসপুকুরিয়া ইউনিয়নের এসব জেলেরা তাদের ছোট-বড় ইঞ্জিন চালিত নৌকা করে দিন-রাত চালিয়ে আসছেন মাছ আহরনের কাজ। প্রতিবারের ন্য যমুনার চরাঞ্চল ঘেরা দুর্গম জনপদ নদী ভাঙ্গনে বিপর্যস্ত চৌহালী উপজেলার অধিকাংশ অভাবী মানুষের কৃষির পরেই প্রধান পেশা মাছ শিকার। নিবন্ধিত ১২৩৫ জেলে সহ প্রায় দুই সহস্রাদিক জেলের ইলিশ, ঘাইড়া, আইড় সহ নদীর অন্যান্য সুস্বাদু মাছ ধরতে নিষিদ্ধ ক্যারেন্ট জালই হচ্ছে তাদের প্রধান উপকরন। উমরপুর, বাঘুটিয়া, খাসকাউলিয়া, ঘোরজান, স্থল, সদিয়াচাঁদপুর, খাসপুকুরিয়া ইউনিয়নের এসব জেলে তাদের ছোট-বড় ইঞ্জিন চালিত নৌকা করে দিন-রাত চালিয়ে আসছেন মাছ আহরনের কাজ। প্রতিবারের ন্যায় ইলিশের বংশ বিস্তারের ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছে সরকার। তবে এ মৌসুমে ব্যাপক ভাবে এই মাছের বিস্তার হওয়ায় গত কয়েক বছর নিষেধাজ্ঞার মৌসুমে জেলেরা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে ব্যাপক ইলিশ নিধন করে। এক্ষেত্রে থানা পুলিশ ও মৎস্য অফিসের এক শ্রেনীর অসাধু কর্মকর্তার যোগ সাজোশে অর্থের বিনিময়ে হয়েছিল ডিমওয়ালা মাছ নিধন। এবারো এর ব্যতিক্রম নেই। অন্যান্য বছরের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে কৌশলে দ্বিগুন ক্যারেন্ট জাল ও নৌকা তৈরী করেছে চৌহালী, এনায়েতপুর যমুনা পাড়ের জেলারা।

    সরজমিনে বেতিল ও চর সলিমাবাদ ভুতের মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, উন্মুক্ত ভাবেই জেলেরা নতুন জাল বুনতে ব্যস্ত সময় পাড় করছে। সংবাদকর্মীদের দেখে বেতিল চরের জেলেরা পালিয়ে গেলেও সলিমাবাদে ইলিশ ধরা অবৈধ ক্যারেন্ট জাল তৈরীর সময় হাতে-নাতে দেখা মেলে তাদের। তখন জেলে আলম হোসেন ও ফজলুল হক জানান, সাড়া বছর তেমন ইলিশ পাওয়া যায়। ঐ নিষেধাজ্ঞার মৌসুমেই মেলে ইলিশ। তাই জাল তৈরী করছি। তারা জানান, নিজেদের পেটের কথা চিন্তা করে পুলিশের ভয়-ডর উপেক্ষা করে আমরা মাছ ধরছি। কোন কোন সময় মৎস্য অফিসের সফিকুল ইসলামের সাথে ও মেম্বর-চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে মাছ ধরে আসছি।

    এদিকে নিষেধাজ্ঞায় ইলিশ ধরতে টাকার বিনিময়ে সহযোগীতা করতে এখন থেকেই থানা পুলিশের অসাধু কর্মকর্তারা বেশ তৎপরতা শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২০১৬ সালে চৌহালী থানার তৎকালীন ওসি মাহবুবুল আলম জেলে প্রতি ৩ হাজার ২৫০ টাকা নেবার বিনিময়ে টোকেন দিয়ে নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরতে সহায়তা করেছিল। তখন এ নিয়ে টেলিভিশন ও জাতীয় পত্রিকা গুলোতে প্রকাশিত সংবাদ বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এ কারনে নানা অভিযানে অব্যাহত ভাবে মা ইলিশ ধরা বন্ধে হয়েছিল। সেই বিতর্কিত ওসি মাহবুবুল আলম এখন এনায়েতপুর থানায় কর্মরত। এখানে এসে তিনি আগের কর্মেই হাটছেন বলে মৎস্যজীবিরা অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে চৌহালী উপজেলা মৎস্যজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি রমজান আলী মোবাইল ফোনে অভিযোগ করে জানান, এনায়েতপুর থানার ওসি মাহবুবুল আলম থানায় ডেকে বলেছে নিষেধের সময় মাছ ধরতে বাধা নেই। তবে এ জন্য প্রতি জেলের কাছ থেকেই এনে দিতে হবে অর্থ। এসময় রমজান আলী তাকে প্রশ্ন করেন, আপনি টাকা নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের ঠেকাবেন কিভাবে? তখন সে বলে আমি সবার সাথেই কথা বলেছি। তবে তার কথায় রাজি হয়নি আমি।

    এ ব্যাপারে এনায়েতপুর থানার ওসি মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, এভাবে প্রশ্ন করা ঠিকনা। আরো সংবাদকর্মী আছে তারা এসব খোঁজ নেয়না। এটা সাংবাদিকতার মধ্যে পড়েনা। আমি মৎস্যজীবি নেতা রমজানের সাথে কথা বলেছি তাই কি হয়েছে। আপনারা কি করতে পারবেন।

    এদিকে চৌহালী উপজেলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী সফিকুল ইসলাম জানিয়েছে, গত বারের চেয়ে এবার দ্বিগুন জাল-নৌকা তৈরী করেছে জেলারা ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা মৌসুমে মাছ ধরতে। তবে এবার কোন ছাড় নেই। আমরা জেলেদের তৎপরতা রুখে ইলিশের প্রজনন বিস্তারে সহায়তা করবো।

    সিনিয়র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চৌহালী ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৭:৫৪ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 225 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    চৌহালী/এনায়েতপুর অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7653494
    ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন