শাহজাদপুরে মখদুম শাহদৌলা (রহ.) শাহ হাবিবুল্লাহ (রহ.) মাজারে ভক্তদের ভীড়
১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন


  

  • শাহজাদপুর/ ইসলামী জীবন:

    শাহজাদপুরে মখদুম শাহদৌলা (রহ.) শাহ হাবিবুল্লাহ (রহ.) মাজারে ভক্তদের ভীড়
    ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:৫৬ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    শামছুর রহমান শিশির : ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার দরগাহপাড়া গ্রামে সমাধিস্থ জগৎ বরেণ্য অলী হযরত মখদুম শাহদৌলা শহিদ ইয়ামেনি (রহ.)’র মখদুমিয়া জামে মসজিদ দর্শণ, তাঁর মাজার জিয়ারত এবং করতোয়া নদীর পূর্বপারে তাঁর আরেক সহযোদ্ধা জগৎ বরেণ্য আরেক অলী হযরত শাহ্ হাবিবুল্লাহ (রহ.) এর গায়েবি মাজার ‘বাদলবাড়ি’তে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তবৃন্দের সমাগম ঘটে।ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ওই দুই মহান অলীর মাজার জিয়ারত এবং দুই মাজারে থাকা অগণিত গরীব দুঃখী এতিমদের মাঝে খাবার বিতরনের জন্যই তাদের ওই আগমন।সকাল থেকেই বিভিন্ন যানবাহন ও নৌকাযোগে ওই দুই মাজারে হাজার হাজার আশেকগণের আগমন ঘটতে দেখা যায়। জুম্মার দিনে হযরত মখদুম শাহদৌলা শহিদ ইয়ামেনি (রহ.)এর মাজার সংলগ্ন মখদুমিয়া জামে মসজিদে (গায়েবী মসজিদে) অগনিত মুসুল্লীদের আগমনে নামাজ আদায়ে তিল ধারনের কোন যায়গা ছিলনা। অন্যদিকে,হযরত শাহ্ হাবিবুল্লাহ (রহ.) এর মাজারেও সকাল থেকে ব্যাপক ভক্তবৃন্দের সমাগম ঘটে। এছাড়া,দুই অলীর দরবার ও প্রায় এক হাজার বছরের পুরাতন ‘মখদুমিয়া জামে মসজিদ’ এবং সুলতানী আমলে উৎকৃষ্ট নিদর্শন একনজর নিজ চোখে দেখার উদ্দেশ্যে,অনেকে তবারক রান্না করে এতিমদের মাঝে বিতরণ করতে মহান ওই দুই অলীর কবর জিয়ারত করতে এসেছেন। কিংবদন্তী থেকে জানা গেছে,ইয়ামেনের শাসনকর্তা মোয়াজ-ইবনে জাবাল এর বংশধর হযরত মখদুম শাহদৌলা শহিদ ইয়ামেনি (রহ:) সুদূর ইয়ামেন থেকে ইসলাম ধর্ম প্রচারার্থে ১২৯২-৯৬ সনের মধ্যে ইয়ামেন ত্যাগ করেন।এসময় সঙ্গে ছিলেন সহযোদ্ধা হযরত শাহ্ হাবিবুল্লাহ (রহ.), তাঁর তিন ভাগ্নে খাজা কালীন দানিশ মন্দ (রহ.) ,খাজা নূর (রহ.),খাজা আনওয়ার (রহ.),তাদের মাতা (মখদুম (রহ.) এর ভগ্নি), বারোজন প্রসিদ্ধ দরবেশ এবং কিছু সংখ্যক সহচরবৃন্দ্র। তাঁরা সবাই ৭ টি জাহাজ মতান্তরে ৪০ টি জাহাজ যোগে নদীপথে রওয়ানা হয়ে বোখারা শরীফে পৌছে তথাকার সাধক সুফী জালালউদ্দিন বোখারী (রহ:) এর সাথে সাক্ষাত করে কিছু সময় অতিবাহিত করে বাংলার এই অঞ্চলে আগমন করেন। অমুসলিম অধিপতি রাজা বিক্রম কেশরীর পরাজিত বন্দিদের একজন গুপ্তচর হিসাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.) এর অত্যন্ত নিকটে স্থানলাভ করেন। শেষ ধর্মযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.) আছরের নামাজ আদায়কালে সিজদারত অবস্থায় তাঁর মস্তক মোবারক দেহ হতে বিচ্ছিন্ন করে সুরে বিহারের রাজধানী মঙ্গলকোট মতান্তরে মহলকোটে রাজার নিকট নিয়ে যান।তাঁর মস্তক মোবারক রাজার সামনে উপস্থিত করার পর দেখা যায় যে তাঁর ওষ্ঠাধর হতে অলৌকিকভাবে ’সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ উচ্চারিত হচ্ছে।এ ঘটনা দেখার পর রাজা ভীত সন্ত্রস্ত্র হয়ে স্থানীয় মুসলমানদের ডেকে তাঁর মস্তক মোবারক সমাহিত করার নির্দেশ দেন। রাজার প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান সেনাপতি ইসলাম ধর্ম কবুল করেন। হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ:) এর মস্তক যে স্থানে সমাহিত করা হয় তা ’ ছের মোকাম’বলে পরিচিত। অন্যদিকে, হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.) এর মস্তকবিহীন দেহ মোবারক শাহজাদপুর মসজিদের দশরশি দক্ষিণে তাঁর জীবিত ভাগ্নে শাহ নূর (রহ.) এবং অন্যান্য অনুচরগণ দাফন করেন পাথরের কফিনের মধ্যে। পরে কফিনটি সরিয়ে বর্তমান স্থানে সমাহিত করা হয়েছে। হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.) ও তাঁর ভাগ্নেদের মাজার ছাড়াও শাহজাদপুরে আরও ১৮ টি মাজার রয়েছে। সেগুলোর ১২ টি মাজার দরবেশগণের নাম মহান ওস্তাদজী হযরত শাহ শামসুদ্দীন তাবরেজি (রহ.), হযরত শাহ ইউসুফ (রহ.), হযরত শাহ কিং সওয়ার (রহ.), হযরত শাহ আজমত উল্লাহ (রহ.) ওরফে আযীম পীর (রহ.), হযরত হাসিলা পীর (রহ.), হযরত শাহ বাদলা (রহ.), হযরত শাহ আহমেদ (রহ.), হযরত শাহ মাহমুদ (রহ.) ও অপর চার জনের নাম জানা যায়নি। এ মাজারগুলি ছাড়াও আরও ৬ জনের মাজার এখানে দেখা যায় যারা সেখানে বেশ কিছুকাল বসবাসের পর মারা যান। তাঁরা হচ্ছেন,শাহ মাস্তান (রহ,), শাহ হাবিবুল্লাহ (রহ.) (এই মাজারটি করতোয়া নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত), শাহ মাফাত (রহ.), হাদী সাহেব ও অপর দুই জনের নাম জানা যায়নি। হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.) এর এক ভাগ্নে শহিদ খাজা কালীন দানিশ মন্দ (রহ.) এর মাজার তাঁর মাজারের ডান পাশে, অপর ভাগ্নে এবং দরবেশগণের মাজার নিকটেই অবস্থিত। হযরত মখদুম শাহদৌলা শহিদ ইয়ামেনি (রহ.), শহিদ খাজা কালীন দানিশ মন্দ (রহ.) এবং দরবেশ শাহ ইউসুফ (রহ.) এর মাজার প্রাচীর দিয়ে ঘেরা যার উপরে অষ্টভূজাকৃতির টিনের চালা (বর্তমানে পাকা সৌধ নির্মান করা হয়েছে) ছিল। জগৎ বরেণ্য ওস্তাদজী হযরত শাহ্ শামসুদ্দিন তাবরেজি (রহ.) ছিলেন মখদুম শাহদৌলা শহিদ ইয়ামেনি (রহ.) এর মহান ওস্তাদজী। হযরত শাহ শামসুদ্দীন তাবরিজী (রহ.) এর ৪ ফুট ৬ ইঞ্চি দেয়াল বেষ্টিত মাজার মসজিদের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত (এর ওপরেও সৌধ নির্মান করা হয়েছে)।হযরত শাহ ইউসুফ (রহ.) একজন সাহাবা ছিলেন। মসজিদের দক্ষিণ পাশে একটি জলাশয় ছিল যা ’সতী বিবির খাল’ নামে পরিচিত। এই জলাশয়েই হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.) এর ভগ্নি শত্রুর হাত থেকে সম্ভ্রম বাঁচাবার তাগিদে ঝাঁপ দেন এবং মারা যান । দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও ভক্তবৃন্দ হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.) ও শাহ্ হাবিবুল্লাহ (রহ.)র ভক্তবৃন্দ আল্লাহর নিকট করা মনসা পূরনের জন্য এখানে চিনি, বাতাসা নিক্ষেপ করে থাকে। আল্লাহপাকের নৈকট্যলাভ, মানত পূরণ, দোয়া খায়ের ও সহস্রাব্দী প্রাচীনকালের ইসলামী ঐতিহ্যর অনুপম নিদর্শনগুলি বাস্তবে স্বচোখে একবার দেখার জন্য অলী আউলিয়া সূফী সাধক দরবেশের শহর শাহজাদপুরের হযরত মখদুম শাহদৌলা শহিদ ইয়ামেনি (রহ.)এর মাজার ও গায়েবী মসজিদ এবং হযরত শাহ হাবিবুল্লাহ (রহ.)র গায়েবি মাজার ‘বাদলবাড়ী’তে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও ভক্তবৃন্দর সমাগমে মুখরিত ও প্রাঞ্জলিত হয়ে ওঠেছে দুই মাজার এলাকা। তারা ওই দুই জগৎ বরেণ্য অলীর মাজার জিয়ারতসহ অসংখ্য গরীব দুঃখী এতিমদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করছেন এবং আল্লাহপাকের নিকট প্রার্থনায় নানা ইবাদত বন্দেগী করছেন।
    সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, শাহজাদপুর ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:৫৬ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 247 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    শাহজাদপুর অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7653514
    ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন