সিরাজগঞ্জে ধর্ষিতার ইজ্জতের মূল্য ৪ লাখ বাকী ২লাখ ইউপি সদস্য ও মাতব্বররা ভাগাভাগি
১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ১১:৩১ অপরাহ্ন


  

  • সিরাজগঞ্জ/ অন্যান্য:

    সিরাজগঞ্জে ধর্ষিতার ইজ্জতের মূল্য ৪ লাখ বাকী ২লাখ ইউপি সদস্য ও মাতব্বররা ভাগাভাগি
    ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৭:৫১ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় ধর্ষনের অভিযোগে এক যুবককে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই জরিমানার টাকা থেকে শালিসকারী মাতব্বররা ২ লক্ষ্য টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর ধর্ষিতার পরিবারকে দেয়া হয়েছে মাত্র ১ লাখ টাকা। বাকি ১ লক্ষ টাকা এলাকার উন্নয়নের কাজে ব্যবহার হবে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

     
    ধর্ষিতার ২টি শিশুকন্যা সন্তান থাকায় ৪ লাখ টাকা জরিমানার রায় দেন মাতব্বররা। সম্প্রতি গভীর রাতে দুই দফা সালিশি বৈঠকে এই রায় দেন ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সাত্তার, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান বাবু, ভদ্রঘাট ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী, স্থানীয় কাটাখালি বাজারের ডাক্তার মো: সরোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ আলী ও বিএনপি নেতা মো: লিটন শেখসহ মাতব্বররা। অভিযোগ উঠেছে, জরিমানার ৪ লাখ টাকা থেকে ২ লক্ষ টাকা ভাগাভাগি করে নিয়ে যান ওই সকল মাতব্বররা। যদিও তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


    স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের চর নুর-নগর তাল পাড়া গ্রামের শফিকুলের স্ত্রী শিল্পী খাতুনের সাথে একই ইউনিয়নের নুর-নগর গ্রামের বাদশা শেখের ছেলে মেহের আলীর সাথে পরোকিয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের সম্পর্কের কারণে প্রায়ই রাতের অন্ধকারে ওই গৃহবধুর বাড়িতে আসা-যাওয়া করত মেহের আলী। এরই এক পর্যায়ে প্রায় ১৫দিন আগে শিল্পী খাতুনের স্বামী রাতে মাছ ধরার জন্য নদীতে যায়। এই সুযোগে মেহের আলী শিল্পীর খাতুনের ঘরের ভিতর থাকলে গৃহবধুর স্বামী শফিকুল বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীকে ডাক দেয়। এক পর্যায়ে শফিকুলের চিৎকারের আশে-পাশের লোকজন এসে মেহের আলীকে হাতে নাতে আটক করে। পরে মেহের আলীর পরিবারের লোকজন সালিশি বৈঠকের কথা বলে তাকে নিয়ে যায়। পরের দিন সকালে এলাকায় সালিশের আয়োজন করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সাত্তার। উপস্থিত অনেকেই জানান, সালিসে সিদ্ধান্ত হয় গৃহবধুর ২টি শিশু কন্যা সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ৪ লাখ টাকা জরিমানার রায় করেন মাতব্বররা।

     
    এতে মেহের আলী রাজি না হয়ে সটকে পড়ার চেষ্টা করলে পরিবারের লোকজন তাকে ঘরের ভেতর বেঁধে রেখে এলাকার লোকজনকে খবর দেন। ওই রাতে এ নিয়ে এক সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে মেয়েকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, প্রায় ১ বছর ধরে মেহের তাকে ধর্ষণ করেছে। মেয়ের জবানবন্দি অনুসারে সালিশে ৪ লাখ টাকা জরিমানার রায় দেন স্থানীয় মাতব্বররা।


    অভিযুক্ত মেহের আলীর ভাই ইসমাইল হোসেন জানান, তার ভাইকে রাতভর বেঁধে রেখে মারধর করে মেয়ের পক্ষের লোকজন। পরে কীভাবে কী করেছে তা আমার জানা নাই। তবে টাকার বিনিময়ে ছাড়া হয়েছে এটা সত্য।

    গত ২২ (সেপ্টেম্বর সকালে) অনুসন্ধ্যানে গিয়ে নিয়ে জানা গেছে, সালিশের ৪ লাখ টাকার মধ্যে ১ লক্ষ টাকা গৃহবধুর পরিবারকে দেওয়া হয়। বাকি ১ লক্ষ টাকা দিয়ে স্থানীয় তালপট্টি নুর-নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কারের জন্য ধরা হয়। বাকি ২ লক্ষ টাকা ইউপি সদস্যসহ সালিশকারী মাতব্বাররা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


    এ বিষয়ে সালিশে নেতৃত্ব দানকারী ইউপি সদস্য আব্দুস সাত্তার জানান, তিনি সালিশের আয়োজন করেননি। দুই পক্ষের অনুরোধে কয়েকজন মিলে সমাঝোতা করে দিয়েছেন। কীভাবে সমাঝোতা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুনেছি ৩-৪ লক্ষ টাকা মেয়েপক্ষকে দিতে হবে। এর চেয়ে বেশি কিছু তিনি আর জানেন না।


    আরেক সালিশকারী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান বাবু বলেন, সালিশে আমি ছিলাম। সেখানে আমি বিয়ের কথা বললে ছেলেপক্ষ রাজি না হওয়ায় চলে এসেছিলাম। পরের অবস্থা আমার জানা নেই।এব্যাপারে ভদ্রঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেন, এ ধরনের কোন সালিশের কথা আমার জানা নাই। 

     

    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সিরাজগঞ্জ ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৭:৫১ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 419 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    সিরাজগঞ্জ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7716174
    ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ১১:৩১ অপরাহ্ন