তাঁতশিল্পে দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ; প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাঁতী সম্পদায়ের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন


  

  • জাতীয়/ ব্যাবসা বানিজ্য:

    তাঁতশিল্পে দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ; প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাঁতী সম্পদায়ের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
    ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০৭:০৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    শামছুর রহমান শিশির : দেশের তাঁতশিল্পে দক্ষ জনবল তৈরির বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘বাংলাদেশ তাঁত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট, নরসিংদী’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটটির আধুনিকায়ন, অবকাঠামোগত সুবিধা সম্প্রসারণ এবং প্রতি বছর ১০০ জন শিক্ষার্থীকে ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রদান করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৬০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটির প্রক্রিয়াকরণ শেষ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড। এদিকে, দেশের তাঁতশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বিসিকে তাঁতশিল্পে দক্ষ জনবল তৈরিতে একই ধরনের উদ্যোগ গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড টেক্সটাইল মিলস ওনার্স এসোসিয়েশনের উত্তরাঞ্চলের ডাইরেক্টর, বাংলাদেশ হ্যান্ডলুম এন্ড পাওয়ারলুম ওনার্স এসোসিয়শনের কেন্দ্রীয় নেতা, শাহজাদপুর সাউদিয়া টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড এর স্বত্বাধিকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হায়দার আলী। প্রস্তাবিত ওই প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস একনেকের জন্য তৈরি সারসংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উন্নত ও ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশে প্রতি বছর ১০০ জন দক্ষ এবং প্রশিক্ষিত ডিপ্লোমা বস্ত্র প্রকৌশলী সৃষ্টি হবে। সেই সঙ্গে গরিব তাঁতিদের প্রশিক্ষণের সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি অনুমোদনযোগ্য। বন্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তাঁতিদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ সুবিধা দেয়া বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের অন্যতম প্রধান কাজ। এ লক্ষ্যে নরসিংদীতে অবস্থিত বাংলাদেশ তাঁত শিক্ষা প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট ২০১০ সালে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন-টেক্সটাইল কোর্স চালু করে। এ প্রতিষ্ঠানে ২০ জন শিক্ষার্থীর একসঙ্গে ক্লাস করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ডিপ্লোমা কোর্স চালু করায় ৮৪ জন শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে বসে ক্লাস করতে হয়। তাছাড়া প্রশিক্ষণ এবং ডিপ্লোমা কোর্স যুগপৎ চলায় শ্রেণীকক্ষের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালনার জন্য আধুনিক ও সুসজ্জিত ব্যবহারিক ল্যাব বা শেড থাকা আবশ্যক। কিন্তু এ ইন্সটিটিউটে ব্যবহারিক ল্যাবের বিদ্যমান যন্ত্রপাতিগুলো ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালনার জন্য অপ্রতুল। এছাড়া ব্যবহারিক ক্লাসের অপর্যাপ্তত, শিক্ষক অপ্রতুলতা এবং অপ্রশস্ত শ্রেণীকক্ষের কারণে শিক্ষাদান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা পরিপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থায় বিদ্যমান ভবনের কাঠামোগত এবং ব্যবহারিক ক্লাসের সুবিধা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালনার জন্য এ ইন্সটিটিউটে প্রয়োজনীয়সংখ্যক কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষক এবং নন-টেকনিক্যাল ও নন-টেক্সটাইল শিক্ষকের অভাব রয়েছে। খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করায় শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষা লাভের সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকছে। তাছাড়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা অপর্যাপ্ত এবং বিদ্যমান লাইব্রেরিটি অত্যন্ত ছোট পরিসরের। সেখানে পর্যাপ্ত বইয়ের অভাব রয়েছে। তাঁতি ও তাঁতি পরিবারের সদস্যদের এই ইন্সটিটিউটে ভর্তির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কোটা সুবিধা দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু ২০১৬ সালের ভূমিকম্পে ইন্সটিটিউটটির একাডেমিক ভবনে ফাটল দেখা দেয়ায় ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ১ হাজার ৯৩ বর্গমিটার মহিলা আবাসিক হোস্টেল তৈরি করা হবে। বাংলাদেশ স্পেশালাইজড টেক্সটাইল মিলস ওনার্স এসোসিয়েশনের উত্তরাঞ্চলের ডাইরেক্টর, বাংলাদেশ হ্যান্ডলুম এন্ড পাওয়ারলুম ওনার্স এসোসিয়শনের কেন্দ্রীয় নেতা, শাহজাদপুর সাউদিয়া টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড এর স্বত্বাধিকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হায়দার আলীর সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, 'দেশের সর্ববৃহত কুঁটিরশিল্প ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের কোটি কোটি জনগণ জড়িয়ে রয়েছে। এক সময়ে এদেশের তাঁতীদের তৈরি মসলিন বিশ্ব জয় করেছিলো। বৃট্রিশ বোনিয়ারা চিরতরে মসলিন তৈরির পথকে রূদ্ধ করতে এদেশের আত্মনিবেদিত তাঁতীদের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে দিয়েও তাঁতীদের দমাতে পারেনি। কিন্তু, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও দেশের সর্ববৃহত কুঁটিরশিল্প তাঁতশিল্পকে আধুনিকায়ন ও দক্ষ জনবল তৈরিতে বিগত সরকারকে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে দেখা যায়নি। বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা'র আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁতশিল্প অাধুনিকায়নে বহুমূখী উদ্যোগ গ্রহণ ও দক্ষ জনবল তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ গৃহিত হয়েছে। এজন্য, তাঁতসমৃদ্ধ জনপদ শাহজাদপুরসহ দেশের তাঁতী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। সেইসাথে দেশের তাঁতশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু শাহজাদপুরে সরকারিভাবে তাঁতশিল্প আধুনিকায়নে দক্ষ জনবল তৈরীতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের জোর দাবী জানাচ্ছি। এসব দাবী বাস্তবায়িত হলে আবারও দেশিয় প্রযুক্তিতে তাঁতীরা বিশ্বমানের তাঁতবস্ত্র উৎপাদন করতে পারবে যা তাঁতীদের ভাগ্যোন্নয়নে মাইলফলক হিসেবে বিবোচিত হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিকে আরও মজবুত ও সমৃদ্ধশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।'
    সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, শাহজাদপুর ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০৭:০৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 117 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    জাতীয় অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7670754
    ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন