সিরাজগঞ্জ -৪ উল্লাপাড়া নির্বাচনে ধারাবাহিকতা রক্ষায় আওয়ামীলীগ, পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বিএনপি 
১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০৩:২৬ অপরাহ্ন


  

  • উল্লাপাড়া/ রাজনীতি:

    সিরাজগঞ্জ -৪ উল্লাপাড়া নির্বাচনে ধারাবাহিকতা রক্ষায় আওয়ামীলীগ, পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বিএনপি 
    ২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০৩:৪৮ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    রায়হান আলীঃ উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার উল্লাপাড়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সিরাজগঞ্জ-৪ আসন।হালনাগাদ এ আসনে ভোটার প্রায় ৩লাখ ৯৪ হাজার। বিগত দশটি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ৪ বার বিএনপি প্রার্থী ২ বার, জাসদ প্রার্থী ২ বার এবং জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ১ বার করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টার্গেট আসনটি ধরে রাখা, আর বিএনপি চায় পুনরুদ্ধার। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে থাকলেও, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রচার প্রচারণা বিশেষ দিন গুলোতে পোষ্টার আর বিলবোর্ডে মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

    উল্লাপাড়ায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের সাংগঠনিক ভীত মজবুত। আওয়ামী লীগ পরপর দুই টার্ম ক্ষমতায় থাকায় বিএনপি-জামায়াতের সাংগঠনিক ভীত অনেকটাই নরবরে হয়ে পড়েছে। ২০১৪ সালে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের ছেলে তানভীর ইমাম। ২০১২ সালের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে পুরো ২০১৪ সাল পর্যন্ত উল্লাপাড়ায় জামায়াত-বিএনপি ব্যাপক হরতাল ও নাশকতা চালায়। ২০১৪ সালের পর সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে জামায়াত-বিএনপির ওই তান্ডব শক্ত হাতে দমন করেছেন। তিনি জামায়াত-বিএনপির হরতাল নাশকতা জ্বালাও পোড়াও রাজনীতির বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখায় বিগত সাড়ে চার বছরে এই জনপদে বিএনপি-জামায়াত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও বর্তমান এমপি তানভীর ইমাম এবারও দলের মনোনয়ন চাইবেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তাকে দলীয় মনোনয়ন দিলে, উল্লাপাড়ার সর্বস্তরের দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে এ আসনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করে উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখবো।

    এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম শফি ২০০৮ সালে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ২০১৪ সালে দলের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হন। ২০১৪ সালে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে শফিকুল ইসলাম অনেকটাই দলের মধ্যে কোনঠাসা হয়ে পড়েন।মনোনয়ন বঞ্চিত হবার পর তার অনুসারীদের নিয়ে স্থানীয় শহীদ মিনারে অনসন করার ঘটনাটি দলের অনেক নেতাকর্মীই ভালো চোখে দেখেননি। এবার  দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় তার সমর্থকদের নিয়ে মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। তার অনুসারীরা মনে করছেন, এবার এই আসনে শফিকুলই দলের মনোনয়ন পাবেন। 

    আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীরমুক্তি যোদ্ধা আব্দুল লতিফ মির্জার মেয়ে ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক সেলিনা মির্জা মুক্তি। তিনি বলেন, মাঠে তার অবস্থা অত্যন্ত ভালো। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।প্রয়াত পিতা আব্দুল লতিফ মির্জার গ্রহণ যোগ্যতা ও ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকায় মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এই আসনে আমাকে মনোনয়ন দিলে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সহজেই নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারবো। 

    এছাড়া ও আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল হক, তিনি জাতীয় নির্বাচন কে সামনে রেখে পোস্টার, বিলবোর্ড টানিয়ে নির্বাচন প্রচারণা চালাচ্ছে।

    এক সময় উল্লাপাড়ায় বিএনপি- জামায়াতের সাংগঠনিক ভীত ছিল বেশ মজবুত। কিন্তু বিগত দিনে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি, সন্ত্রাস আর ধ্বংসের রাজনীতির কারণে দুই দলের নেতাকর্মীরা মামলায় জড়িয়ে অনেকেই এলাকা ছাড়া, আবার কেউ কেউ রয়েছেন কারাগারে। যে কারণে গত সাড়ে চার বছরে এই দুই দলের নেতাকর্মীরা ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। বলতে গেলে এদের সাংগঠনিক অবস্থা অনেকটাই দূর্বল। উল্লাপাড়ায় প্রচন্ড দ্বন্দ্ব আর কোন্দলে নিজেদের আগুনেই পুড়ছে বিএনপি। এ কারণেই উপজেলা কার্যালয়টির ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় তা হাত ছাড়া হয়ে গেছে। এখানে দুই  গ্রুপের দুইটি কমিটি। একটি পূর্ণাঙ্গ আরেকটি আহবায়ক কমিটি। পূর্ণাঙ্গ কমিটির সভাপতি সাবেক এমপি এম.আকবর আলী আর আহবায়ক কমিটির আহবায়ক কেন্দ্রীয় তাঁতী দলের উপদেষ্টা কাজী কামাল। এই দুইজনকে ঘিরেই উল্লাপাড়া বিএনপি দুই গ্রুপে বিভক্ত। কাজী কামাল শহর ভিত্তিক কিছু নেতাকর্মীদের নিয়ে আকবর বিরোধী একটি বলয় তৈরি করেছেন। যে কারণে আকবর আলী দীর্ঘদিন ধরে নিজ নির্বাচনী এলাকায় আসছেন না। এম. আকবর আলী ১৯৯১ ও ২০০১ সালে নির্বাচনে বিএনপির টিকিট নিয়ে এ আসনের এমপি নির্বাচিত হন। এম.আকবর আলী মুঠো ফোনে, বলেন, দুই টার্ম এমপি থাকাবস্থায় উল্লাপাড়ায়  ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এখন উল্লাপাড়া যে শিক্ষা নগরী হিসেবে খ্যাত হয়ে উঠেছে সেটি আমারই অবদান। দল মনোনয়ন দিলে আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

    দলের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী কাজী কামাল  দুই দফা দলের মনোনয়ন চেয়েও মনোনয়ন পাননি। এম. আকবর আলী ও কাজীকামাল দুইজনেরই এলাকায় যাতায়াত খুবই কম। সামান্য প্রচার প্রচারণা যা হচ্ছে তাও দুইজনের অনুসারীরাই করছে। কাজী কামাল আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী নির্বাচনে তিনি দলের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে জনগণের এমপি হয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন। তিনি বলেন, উল্লাপাড়ায় কাজী পরিবারের একটি ঐতিহ্য রয়েছে। উল্লাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টি তাদের দান করা জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। এসময় তিনি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। 

    এ আসনে দলের মনোনয়ন চাইতে পারে ১৯৯৬  সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত এমপি মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. শামসুল  আলম। বিএনপির মনোনয়নের জন্য পোষ্টার  আর বিলবোর্ডে প্রচারণায় আছেন এ্যাড. সিমকী ইমাম খান, যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুলওয়াহাব, কেএম শরাফুদ্দিন উদ্দিন মঞ্জু। কেন্দ্রীয় জামায়াতের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী। ২০০৮সালের নির্বাচনে বিএনপিকে পিছনে ফেলে রফিকুল ইসলাম দাড়িপালা প্রতিকে প্রায় ৯৬ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করেন। এই জনপদের মানুষের কাছে তিনি খান সাহেব হিসেবে পরিচিত। তবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল ও দাড়ি পালা প্রতিক না থাকায় জামায়াত প্রার্থী স্বতন্ত্র নির্বাচনে খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না বলে ধারণা সাধারণ ভোটারদের।

    বিগত সময়ে মানবতা বিরোধী অপরাধে দলের শীর্ষ নেতাদের সাজা ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে কেন্দ্র করে জামায়াত- শিবির উল্লাপাড়ায় ব্যাপক সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি জ্বালাও পোড়াও তান্ডব করে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করে। সেইথেকে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পুলিশের নজরদারী ও মামলায় জড়িয়ে যায়। ফলে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি এখানে অনেকটাই নরবরে হয়ে পড়েছে। জনসাধারণ ধারনা করছে হয়তো ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারে কেন্দ্রীয় জামায়াতের এই নেতা, এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব আজাদ হোসেন বলেন, কোন অবস্থাতেই ধানের শীষ প্রতিক কাউকে লীজ দেয়া হবেনা। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত বলে তিনি মনে করেন। এদিকে রফিকুল ইসলাম খান আদালত অবমানননার অভিযোগে তিন মাসের কারাদণ্ড নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন। এ অবস্থায় তিনি নির্বাচন করতে পারবেন কিনা সেটি নিয়েও প্রশ্নও রয়েছে। 

    এখানে জাতীয় পার্টির অবস্থা বেশ দূর্বল। তার উপর রয়েছে দলে কোন্দল। দলের মনোনয়ন চাইতে পারে হিল্টন প্রামানিক ওএমএ হাশেম রাজু। ইতিমধ্যেই এমএ হাশেম রাজুর বেশ কিছু এলাকায় পোষ্টার বিতরণ শুরু করেছেন। 

    করেসপন্ডেন্ট, উল্লাপাড়া ২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০৩:৪৮ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 1038 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    উল্লাপাড়া অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7664644
    ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০৩:২৭ অপরাহ্ন