উল্লাপাড়ায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জমি বিক্রির দশ লাখ টাকা আত্নসাতের অভিযোগ
১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০৩:২৯ অপরাহ্ন


  

  • উল্লাপাড়া/ অপরাধ:

    উল্লাপাড়ায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জমি বিক্রির দশ লাখ টাকা আত্নসাতের অভিযোগ
    ২২ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:২২ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্নিমাগাঁতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল আমিন সরকারের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির জমি বিক্রির দশ লাখ টাকা আত্নসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ওই ব্যক্তির একমাত্র অবলম্বন ২.৫ শতক জমি বিক্রির টাকা চেয়ারম্যান কর্তৃক আত্নসাত করায় সবস্ব হারিয়ে সে এখন দিশেহারা হয়ে পাশের একটি আত্নীয়র বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারে পরিবারটিকে চেয়ারম্যানের লোকজন তাদের এলাকা ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ও লিখিত অভিযোগে জানা যায়,উপজেলার পুর্ণিমাগাঁতী ইউনিয়নের পরকুল গয়হাট্টা গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে বকুল হোসেন (৪৮) এর ২.৫ শতক জমির ওপর বাড়ী বানিয়ে পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন । এক পর্যায়ে পরিবারটির টাকার প্রয়োজনে জায়গাটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। দরদাম ঠিক হওয়ায় সে ওই জমি একই গ্রামের মৃত মজিবর সরদারের ছেলে আব্দুর রহিম বসুর কাছে বিক্রি করে। সেই ২.৫ শতাংশ জমির দাম ১০ লাখ টাকা ঠিক হলে তাঁরা উল্লাপাড়া সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে নিবন্ধন করতে যান। বকুল হোসেন বলেন, আমি জমি বিক্রির টাকার দরদাম ঠিক করে সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে নিবন্ধন করতে যাই। নিবন্ধনের আগেই জমির দাম বাবদ তাকে ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করার কথা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয় চত্বরে গেলে আব্দুর রহিম ওরফে বসু লোকজন নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে আমাকে ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দেয়। বাকি ৭ লক্ষ ২০ হাজার টাকার পরিবর্তে বসু তাহার পত্তিক সম্পত্তি থেকে ৫ বিঘা জমি কট/বন্ধক হিসাবে বকুলকে ভোগ দখলের অনুমতি দিয় জমি লিখে নেয়। সে মোতাবেক বকুল আব্দুর রহিম বসুর কৃষি জমিতে চাষাবাদ করিয়া জীবিকা নির্বাহ করে। কট/বন্ধক হিসাবে ওই জমি সে ১ বছর ভোগ দখল করে। ২য় বছরে সে সরিষার আবাদ করলে আব্দুর রহিম বসু সমস্ত শর্ত ভঙ্গ করে চাষকৃত সরিষার আবাদ জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে সে তাবে বাকী ৭লক্ষ ২০ হাজার টাকা না দিয়ে গয়হাট্টা বাজার সংলগ্ন জামে-মসজিদের পশ্চিম পার্শে তার লিখে দেয়া ওই ২.৫ শতক জমি এলাকার প্রভাবশালীদের সাথে নিয়ে জোরপূর্বক দখল নেওয়ার চেষ্টা করলে এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যর সৃষ্ঠি হয়। এ নিয়ে এলাকায় দফায় দফায় সালিশ হয়। বিষয়টি নিয়ে ৭সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং তারিখে সালিশের একপর্যায়ে পূর্ণিমাগাঁতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল-আমিন সরকার সবার সম্মুখে সালিশে রায় করে সম্পূর্ণ টাকা তার জিম্মায় নেয়। ৮সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং তারিখে ওই টাকা বিক্রেতাবে বুঝিয়ে না দিয়ে চেয়ারম্যান নিজেই তার বাহিনী দিয়ে জোরপূর্বক উক্ত জমি দখলের চেষ্টা করলে বকুলসহ এলাকার সচেতন মহল বাধা দেয়। জমি দখলে না যেতে পারায় বকুলসহ তার পরিবারকে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে চেয়ারম্যান আল আমিন সরকার ও তার লোকজন। অসহায় বকুল তার পাওনা টাকা আদায়সহ দোকান ঘর দখল নিতে না পারে তাহার জন্য আইনশৃঙ্খলাবাহীর কাছে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে। এই চেয়াম্যানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিজস্ব লোকজন দিয়ে চেয়ারম্যান এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে গ্রাম্য শালিশের নামে সাধারন মানুষকে হয়রানি করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। রাতারাতি চেয়ারম্যান বনে গিয়ে সরকারী দলে প্রবেশ করে তিনি জড়িয়ে পড়েছে নানা অনিয়মে। কিছুদিন আগে এক সংখ্যালঘু মেয়ের বিচারের নামে তাদের জরিমানার অর্থ আত্নসাৎ করে সে। সম্প্রতি তার নিজস্ব লোকজন নিয়ে বনভজনের নামে নৌকায় নর্তকী নিয়ে ফুর্তি করার ভিড়িও ফাঁস হয়ে পড়ে। চেয়ারম্যানের নর্তকী নিয়ে নৌ ভ্রমনের ভিড়িও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকান্ডে বিব্রত অবস্থায় পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন সহ অন্য জনপ্রতিনিধিরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান,ওই চেয়ারম্যান দলের কেউ নয়। দলের কতিপয় নেতাকে ম্যানেজ করে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীকে হারিয়ে তাকে চেয়ারম্যান হতে সহায়তা করা হয়েছে। নব্য আওয়ামীলীগ এই চেয়ারম্যান এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করেছে। নিজস্ব লোকজন নিয়ে সব সময় হোন্ডা মহড়া দিয়ে এলাকায় যা ইচ্ছা তাই করে বেড়াচ্ছে। তার কারনে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরাও বিব্রত। বকুল হোসেনের জমির ক্রেতা আব্দুর রহিম ওরফে বসুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রেজিস্ট্রি করার পর সব টাকা সালিশে চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া হয়েছে। বকুল টাকা চেয়ারম্যানের কাছ থেকে নিয়েছে কি না আমি জানি না। জমি রেজিস্ট্রি হয়েছে। তাই আমরা জায়গা দখলের চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে পূর্ণিমাগাঁতী চেয়ারম্যান আল-আমিন সরকার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঐ এলাকার কিছু লোক বকুল হোসেনকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে দোকান ঘরের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। আমি এলাকায় দফায় দফায় সালিশ করে দুপক্ষকে মিমাংশা করার জন্য ব্যবস্থা করেছিলাম টাকা আত্নসাতের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। অন্যের জমি বিক্রির টাকা আমার কাছে থাকবে কেন বা আমি নেবো কেন? জায়গা বিক্রির টাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে উল্লাপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ দেওয়ান কউশিক আহমেদ জানান,অভিযোগ পাওয়ার পর ক্রেতাকে বিক্রেতার দাবীকৃত টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত উক্ত জায়গায় যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সূত্রঃ দৈনিক যুগের কথা
    করেসপন্ডেন্ট, উল্লাপাড়া ২২ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:২২ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 749 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    উল্লাপাড়া অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7664693
    ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০৩:২৯ অপরাহ্ন