মৎস্যচাষ-জলাশয় সংস্কারের নামে কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ
১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন


  

  • তাড়াশ/ অপরাধ:

    মৎস্যচাষ-জলাশয় সংস্কারের নামে কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ
    ২৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০৫:৩৭ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    আশরাফুল ইসলাম রনি:

    সিরাজগঞ্জে সমাজভিত্তিক মৎস্যচাষ শীর্ষক প্রকল্প ও জলাশয় সংস্কারের নামে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ’র অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মাঠে নেমেছে বলে জানা গেছে।

     

     

    সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

    জানা গেছে, জেলার নিমগাছি সমাজভিত্তিক মৎস্যচাষ শীর্ষক প্রকল্পের নামে ৩৪ কোটি টাকা বরাদ্ধ হয়। কিন্তু ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে সে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

    শুধু মৎস্যচাষ শীর্ষক এ প্রকল্পের নামেই নয়। নয়-ছয় করা হয়েছে পুকুর সংস্কারের নামে বরাদ্ধ হওয়া ৪ কোটি ২৭ লাখ টাকাও।

    মোটা অংকের এই সরকারি অর্থ হরিলুটের ঘটনাটি তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা নিতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জলাশয়ের সুবিধা বঞ্চিত মৎস্যজীবীরা।

    রায়গঞ্জ সমাজভিত্তিক মৎস্যচাষ সমিতির সভাপতি খায়রুজ্জামান খোকন বলেন, সিরাজগঞ্জ জেলায় ২০১৪ সালে তিন বছর মেয়াদি নিমগাছি সমাজভিত্তিক মৎস্যচাষ প্রকল্পের মাধ্যমে ২৩৪টি পুকুর খননসহ বিভিন্ন কাজের জন্য ৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় মৎস্য অধিদপ্তর।

    অপরদিকে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্পের জন্য চলতি অর্থ বছরে ২৪ হেক্টর আয়তনের ৩০টি পুকুর পূনঃখননের জন্য ৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় মৎস্য অধিদপ্তর।

    অভিযোগ উঠে নাম মাত্র কাজ করে ৩০ জুনের মধ্যে ৩ কোটি ৮১ লাখ টাকার কাজ দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করে নেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা।

    এসব অভিযোগ পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সরজমিন পরিদর্শণ করে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন।

    সংবাদ প্রকাশের পর দুটি প্রকল্পের কাজ দেখতে মাঠে নেমেছে দুদকের পাবনা অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তদন্তে একে একে বেরিয়ে আসছে নানা অনিয়মের প্রমাণ।

    রায়গঞ্জ সমাজভিত্তিক মৎস্যচাষ সমিতির সভাপতি খায়রুজ্জামান খোকন আরো বলেন, প্রকল্পগুলোতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ যাদের সদস্য করা হয়েছে তারা এর বাস্তবায়ন সম্পর্কে কিছুই জানেন না। কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ তাদের কার্যক্রম। অথচ পুকুরের ধারে বসবাসকারী অসহায় মানুষগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

    ‘তদন্ত শেষে সঠিক বিচার দেখতে চাই’ বলেন মৎস্যচাষ সমিতির সভাপতি  খায়রুজ্জামান খোকন ।

    শতভাগ কাজ হয়নি বলে স্বীকার করছেন প্রকল্পের কর্মকর্তারাও।

    সিরাজগঞ্জের গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী, এস এম শাহরিয়া বলেন, এখন পর্যন্ত ৪টি পুকুরের গভীরতা মাপা হয়েছে । এর রিপোর্ট দুদকে জমা দেয়া হয়েছে।

    নিমগাছি সমাজভিত্তিক মৎস্যচাষ প্রকল্পের উপ-পরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, পুকুর খনন হয়েছে, তবে শতভাগ কোথাও হয়নি।

    দুদক পাবনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি শীর্ষক ও নিমগাছি সমাজভিত্তিক মৎস্যচাষ প্রকল্পে সরকারি কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর আমরা দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি মাঠে নেমেছি।

    প্রথমে নিমগাছি সমাজভিত্তিক মৎস্যচাষ প্রকল্প দেখছি পরে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি দেখা হবে বলেও জানান দুদকের এ কর্মকর্তা।

    স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট, তাড়াশ ২৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০৫:৩৭ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 90 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    তাড়াশ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7653602
    ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন