চলনবিলে শুটকি ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে
১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০৩:২৯ অপরাহ্ন


  

  • তাড়াশ/ কৃষি ও খাদ্য:

    চলনবিলে শুটকি ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে
    ৩০ অক্টোবর, ২০১৮ ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত

    আশরাফুল ইসলাম রনি :
    চলনবিলে এলাকায় জেলেদের জালে প্রতিদিন শতশত টন মাছ ধরা পড়লেও এবছর টানা কয়েকদিন বৃষ্টি থাকায় শুটকি ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। প্রতিটা ব্যবসায়ীর এক লক্ষ থেকে দুই টাকা করে তাদের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
    মৎস্য ভান্ডারখ্যাত চলনবিলের  সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহাজাদপুর ,পাবনার চাটমোহর ,ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বির্স্তীণ বিলকে কেন্দ্র করে প্রায় তিনশতাধিক শুটকির চাতাল গড়ে উঠেছে বিগত কয়েক বছর ধরে।
    আর বর্ষার পানি নামার সাথে সাথে বিলের বিভিন্ন  পয়েন্টে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে দেশীয় প্রজাতির মিঠা পানির মাছ টেংরা, পুটি, খলসে, বাতাসী, চেলা, মলা, টাকি, বাইম, শৈাল ,গুতম, বোয়াল, গজার, মাগুর, শিং, কৈ, সহ নানা প্রজাতির সু-স্বাদু মাছ।
    তাড়াশ উপজেলার মহিষলুটিতে অবস্থিত শুটকি ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর জানান, তার এবছর প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার মাছ পচে গিয়েছে। তাছাড়া শুটকি মাছের মুল্যও খুব কম। পুটি বা অন্যন্য মাছের শুটকি ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রী হচ্ছে।
    জানা যায়, উত্তরবঙ্গের মধ্যে দেশীয় প্রজাতির মাছের শুটকি তৈরি অসংখ্য চাতাল চলনবিলে মূলতঃ বৃষ্টিহীন আশ্বিন,কার্ত্তিক ও অগ্রহায়ন মাস পযর্ন্ত চলনবিলের হাট-বাজারে কাচাঁ মাছ বিক্রি হয়ে থাকে।
    এ সব চাতালে বিশেষ করে যে মাছ গুলির শুটকি করা হয় সেগুলো হলো টেংরা ,পুটি, খলসে, বাতাসী, চেলা, মলা, ঢ়েলা, টাকি,গুতম, চিংরী, টাকি ইত্যাদি মিঠা পানির সু-স্বাদু মাছ। কিন্ত এবছর ঘুর্নি ঝড় তিতলীর প্রভাবে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ব্যবসায়ীরা শুটকি মাছ শুকাতে না পারায় লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ পচে যাওয়ায় তাদের ব্যাপক লোকসান গুনতে হচ্ছে।
    তাড়াশ উপজেলার মহিষলুটির আরেক শুটকি ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন জানান, চলনবিলের চাতালে তৈরি শুটকি সৈয়দপুর, রংপুর, দিনাজপুর, ঢাকা, নারায়নগঞ্জ এমনকি বন্দর নগরী চট্রগ্রামেও উচ্চ মূল্যে বিক্রি হয়ে থাকে। আর এ মাছ আশ্বিন থেকে কার্ত্তিক মাস পর্যন্ত এত বেশি পাওয়া যেত যে,এ অঞ্চলে কাচা মাছের চাহিদা পূরনের পর উদ্বত্ত মাছ স্বল্প মূল্যে কিনে শুটকি তৈরি করে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে অনেক শুটকি চাতালের মালিক লাখ লাখ টাকা উর্পাজন করতেন।
    স্থানীয় মাসুদ রানা জানান, ইতিমধ্যে চলনবিলের  মাছ পাওয়া যায়  এমন স্থানগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শুটকি তৈরির চাতাল মালিকরা আস্থানা গড়েছে। তারা স্থানীয় হাট-বাজার থেকে মাছ কিনে চাতাল গুলোতে মাছ শুকানোর কাজ শুরু করেছে। এ কাজে চলনবিলের দিন মুজুর  নারী-পুরুষ দিন হাজিরায় কাজ করেছেন।
    চাতাল গুলোতে টেংরা, পুটি, খলসে,বাতাসী, চেলা, মলা, ঢেলা ,টাকি, গুতম, চিংরী ,টাকি সহ নানা মাছ চাটাইয়ে শুকানোর জন্য ছিটিয়ে রাখা রয়েছে।
    নারী শ্রমিক কদভানু জানান, চলনবিলে শুটকি তৈরি শুরু হলেও তা বাজারজাত করতে আরও মাসখানেক সময় লাগবে।তারা শুটকি তৈরি করে প্যাকেট জাত করে। তারপর শুস্ক মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে থাকেন। আবার কেউ কেউ চাতালে তৈরি শুটকি মাছ গুলো ১০-১৫ দিনের ব্যবধানে চাতাল থেকেই পাইকারদের নিকট বিক্রি থাকেন। কিন্ত এ বছর শুটকি ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানের মুখে পড়বেন।
    তাড়াশ উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. হাফিজুর রহমান জানান, চলনবিলের শুটকি বাংলাদেশ তথা বিদেশেও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। বিপুল সম্ভাবনাময় চলনবিলের জেলেদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে শুটকি উৎপাদন এ এলাকায় মৎস্য সংরক্ষনাগার স্থাপন করা হলে এলাকায় বেকারত্ব দুরের পাশা-পাশি সরকারের প্রচুর পরিমান রাজস্ব আয় আসবে। তাছাড়া এবছর শুটকি ব্যবসায়ীদের কিছুটা লোকসান হবে বলেও জানান তিনি।

     

    স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট, তাড়াশ ৩০ অক্টোবর, ২০১৮ ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 84 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    তাড়াশ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7664688
    ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০৩:২৯ অপরাহ্ন