উল্লাপাড়ায় তাঁত শিল্প বিলুপ্তির দিকে ঋণের দায়ে পালিয়েছে অনেক কারিগর
১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:৫৯ অপরাহ্ন


  

  • উল্লাপাড়া/ জনদুর্ভোগ:

    উল্লাপাড়ায় তাঁত শিল্প বিলুপ্তির দিকে ঋণের দায়ে পালিয়েছে অনেক কারিগর
    ৩১ অক্টোবর, ২০১৮ ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত

    রায়হান আলীঃ ভারতীয় শাড়ীর আগ্রাসন, রং, সুতা, তাঁত শিল্পের সরঞ্জামাধীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম ক্ষতিগ্রস্থ তাঁতীরা। চড়া দামে উৎপাদিত তাঁতের শাড়ী, লুঙ্গী, গামছা বিক্রি করে খরচ না ওঠায় ঋনের দায়ে জরাজীর্ণ তাঁত কারখানা বন্ধ করে পরিবার পরিজন নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে হাজার হাজার তাঁতী।

    এইতো কিছুদিন আগেও দিনের আলো ফোটার সাথে সাথেই সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, বেলকুচি, শাহজাদপুর, চৌহালী, এনায়েতপুর উপজেলার তাঁত পল্লীগুলোতে হাজার হাজার তাঁতে শুরু হতো তাঁত বুননের খটখট শব্দ, একই সাথে পাল্লা দিয়ে চলতো বিদ্যুৎ চালিত তাঁত পাওয়ার লুমও। তাঁত কালখানাগুলোতে শোনা যেত তাঁতীদের উচ্চ কণ্ঠে ঘুম তাড়ানী নানা গানের সুর। আলোয় ঝলমল করতো কর্মব্যস্ত তাঁত পল্লীগুলো। বর্তমানে সেই তাঁত পল্লী নীরবতার চাদরে ঢেকে গেছে।

    কারন হিসেবে জানা যায়, দফায় দফায় সুতা, রং ও তাঁত শিল্পে ব্যবহৃত সরঞ্জামাধীর দাম বৃদ্ধি আর সারা দেশে কাপড়ের বাজার গুলোতে ভারতের শাড়ীর সয়লাব হওয়ায়, তাঁত শিল্পে উৎপাদিত কাপড়ের চাহিদা কমে যাওয়ার কারনেই ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। উচ্চ মূল্যে রং, সুতা ও তাঁত শিল্পের সঞ্জামাদী কিনে তৈরী করা শাড়ী, লুঙ্গী, গামছা মালিকরা হাটে অল্প দামে বিক্রি করে খরচ তুলতে না পেরে বাধ্য হয়ে বন্ধ করে দিচ্ছে তাঁত কারখানা গুলো।

    আর এর সাথে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছে। অনেক তাঁত মালিক স্থানীয় ব্যাংক, সমবায় সমিতি থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে শাড়ী, লুঙ্গী, গামছা উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রি করে দেনার দায়ে জরজরিত হয়ে পড়ছে। বাব-দাদার আদি পেশা টিকিয়ে রাখতে তাঁতের উৎপাদিত পন্য তৈরি করে অল্প দামে বিক্রি করে জেলার হাজার হাজার তাঁতী এখন কোটি কোটি টাকার দেনায় তাঁত শিল্প বন্ধ করে দিয়ে এলাকা ছেড়ে  পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

    এলাকা থেকে পালিয়ে বেড়ালেও নিলাম ও ঋনের দায়ে তাঁত শিল্পের সাথে তারা হারাচ্ছে বাব দাদার আদি পশো তাঁত কারখানা সহ বসত বাড়ী। এমন চিত্র এখন এ জেলার সব উপজেলার তাঁত কারখানা এলাকাগুলোতে। দেশজুড়ে ক্ষ্যাতি অর্জনকারী সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্প এমন সমস্যয় এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।

    উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ী গ্রামে আলহাজ ফজলুল হক জানান, বাব-দাদার আমল থেকেই তাদের পরিবারে সবাই তাঁত শিল্পের সাথে জড়িত। এ পেশার মাধ্যমেই ছেলে সন্তানদের মানুষ করেছেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় শাড়ীর আগ্রাসন রং সুতার দাম বৃদ্ধির কারণে এবং সরকারি কোন সহায়তা না থাকায় এ শিল্প এখন ধ্বংসের পথে। এমন অবস্থায় তার ২০টি তাঁত বন্ধ করে দিয়ে দেনার দায়ে এখন বেকার।

    তিনি বলেন, তার মত ইসলামপুর এলাকার আলহাজ আহাম্মদ আলী ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা দেনার দায়ে তার কারখানার ৪০টি তাঁত বন্ধ করে বতসবাড়িতে তালা লাগিয়ে পালিয়েছে। তার মত একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক, ঠান্ডু মিয়া, জামাল মিয়া, মোশারফ হোসেন সহ শতশত তাঁত কারখানার মালিক ঋনের দায়ে কারখানা বন্ধ করে ঘরবাড়ি রেখে পালিয়েছে। এমন অবস্থায় এসব কারখানার হাজার হাজার তাঁত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। কেউবা ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্স কারখায় গিয়ে কাজ করছেন।

    উল্লাপাড়া উপজেলার দূর্গানগর ইউনিয়নের নতুন দাদপুর গ্রামের বদরউদ্দিনের পুত্র মো.আলাঅউদ্দিন (৪৮)। প্রায় ১৬ বছর ধরে তাঁতের সুতা রঙ্গ করে জীবকিা নির্বাহ করে সে। তার স্ত্রী সাকেরা খাতুন সহ ৩ ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে সে তাঁতের সুতা রঙ্গ করে এতদনি জীবিকা চালিয়ে আসছিল। আগে এ কাজ করে সপ্তাহে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা মজুরী পেলেও এখন তাঁত বন্ধ থাকায় সপ্তাহে সব মিলিয়ে সুতা রঙ্গ করে তিন হাজার টাকা মজুরিও মেলে না। এ কাজ করে এখন প্রতি সপ্তাহে ১৫শ’টাকা করে দেনা হচ্ছেন। ইতিমধ্যে গত কয়েকমাসে ছেলে মেয়ের পড়াশুনা বন্ধ করে দেনায় পড়ে গেছে।

    তাঁত মালিক এবং শ্রমিকদের এই দুরাবস্থা কাজে লাগিয়ে এই এলাকায় অন্তত ৩২টির মত ঋণদান সমবায় সমিতি গড়ে উঠেছে। এ সব সমিতি,ব্যাংক,এনজিও থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে তাঁত ও পরিবার চালাতে গিয়ে তাঁতীরা এখন দেনার দায়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বাব-দাদার আদি পেশা ছেড়ে তাঁত শিল্পের সাথে জড়িত হাজার হাজার মালিক শ্রমিক এখন নতুন পেশার সন্ধানে বেকার।

    উল্লাপাড়া তাঁত বোর্ডের লিয়াজো অফিসার মো.মঞ্জুরুল হক দাবী করেন,তাঁতের উৎপাদিত পন্য মানুষ তেমন পড়ছে না। তাই এ শিল্প প্রতিযোগীতায় টিকতে পারছে না। তার দপ্তর হতে ১কোটি ৪৬লাখ টাকা তাঁতীদের মাঝে ঋন সুবিধা দিয়েও কোন কাজে আসছে না।

    করেসপন্ডেন্ট, উল্লাপাড়া ৩১ অক্টোবর, ২০১৮ ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 239 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    উল্লাপাড়া অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7644022
    ১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:৫৯ অপরাহ্ন