কাজিপুর চরবাসির পারাপারে যমুনা জয়ের বাহন নৌকাঃ আসছে ফেরি
২২ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন


  

  • কাজিপুর/ অন্যান্য:

    কাজিপুর চরবাসির পারাপারে যমুনা জয়ের বাহন নৌকাঃ আসছে ফেরি
    ১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০৪:০৪ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    কাজিপুর প্রতিনিধিঃ  আজগর আলী। কাজিপুরের চরাঞ্চলের প্রবীণ এই ব্যক্তির জন্ম ১৯৩৩ সালে। তখন থেকে যমুনার পূর্বপাড়ের বাসিন্দা তিনি। বাব-দাদার মতো তিনিও ছোটবেলা থেকে অদ্যাবধি নৌকায় চেপে যমুনা পারাপার হচ্ছেন। আগে অবশ্য যমুনা শীর্ণকায় থাকলেও গত তিন যুগে তা প্রসারিত হয়ে কাজিপুর অংশে এখন প্রায় ১২ কিমিঃ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ফলে কাজিপুর সদরের সাথে যোগাযোগ রাখতে নৌকাই একমাত্র ভরসা।

     

    তবে অনেক প্রতিশ্রুতি অনেক আশার স্বপ্নের পথ পেরিয়ে একটি ট্যানেলের শেষ সিমান্তে দেখা দিয়েছে আলোর শিখা। যমুনাকে করা হচ্ছে কঠিন হস্তে শাসন। দুই পাড়ই এই কাজের আওতায় আসছে। আর সেইসাথে সম্প্রতি মাননীয় নৌ পরিবহনমন্ত্রি কাজিপুরের জনসভায় এসে এটিকে নৌ বন্দর হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেইসাথে আসবে নৌ ফেরি।

     


     তবে যমুনা এখনও বন্ধনহীন। অশীতিপর আজগর আলীর মতো চরের অসংখ্য মানুষের যমুনা জয়ের একমাত্র সম্বল হলো নৌকা। চরের  মানুষের যাতায়াতের প্রধান খেয়া ঘাট হচ্ছে মেঘাই ও নাটুয়ারপাড়া খেয়া ঘাট। এছাড়া তেকানি, মনসুরনগর, খাসরাজবাড়ী, নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ, ঢেকুরিয়া, মাইজবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় এরকম আরো একাধিক খেয়া ঘাট রয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব খেয়া ঘাট থাকে কর্ম চঞ্চল। হিং¯্র যমুনার বিস্তীর্ণ জলরাশি মাড়িয়ে নৌকাযোগে এসব চরাঞ্চলের মানুষকে যাতায়াত করতে হয় নিয়মিত। ব্যবসা বাণিজ্যের কাজেও পাড়ি দিতে হয় নৌকায় । পণ্য আনা-নেওয়ার কাজে নৌকার নেই কোন বিকল্প। তবে এক্ষেত্রে যে যার মত সুবিধা অনুযায়ি ছোট-বড় নৌকা ব্যবহার করে থাকেন। সবমিলিয়ে নৌকায় ভেসে জনম পার করছেন চরাঞ্চলবাসী। 

     

    সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি চরাঞ্চল ঘুরে এরকম তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোট ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টি ইউনিয়ন যমুনার বুকে জেগে ওঠা বড় বড় চরের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এরমধ্যে রয়েছে নাটুয়ারপাড়া, খাসরাজবাড়ী, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, মনসুর নগর, চরগিরিশ ইউনিয়নের নাম। এসব ইউনিয়নে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করেন। যাদের চলাচলের একমাত্র পথ পানিতে টুইটম্বর যমুনা।

     

    আর বাহন হলো শুধুই নৌকা। বাইরের কেউ এসব এলাকায় যেতে চাইলে তাদেরকেও একইপথ ও বাহন ব্যবহার করতে হয়। তখন ভর দুপুর। নাটুয়ারপাড়া খেয়া ঘাট। ঘাটের পাশেই রয়েছে বেশ কিছু গাছপালা ও উচুঁ স্থান। সেই স্থানে টানানো ছাউনির নিচে বেশ কিছু চেয়ার রাখা হয়েছে। খেয়া ঘাটের এই স্থানে দেখা গেলো মানুষের জটলা। সবাই নৌকা আসার অপেক্ষায় বসে বা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আবার যাত্রী বা পণ্য বোঝাই করে অনেক নৌকাকে যমুনার বুক চিরে আসা-যাওয়া করতে দেখা গেলো। 

     

    কলেজ ছাত্রী জুলেখা । কাজিপুর সরকারি মনসুর আলী কলেজে লেখাপড়া করেন। বাড়ি নাটুয়ারপাড়া চরে। কলেজ চলাকালীন সময়ে তাকে প্রত্যেক দিন এই খেয়া ঘাট হয়ে নৌকা যোগে চলাচল করতে হয়। মিলি আকতার নামে আরেক কলেজছাত্রী এ প্রতিবেদককে জানান, তাদের পূর্ব পুরুষরা এখানে জন্ম গ্রহণ করেছেন। তারও জন্ম এখানে। জমিজমা বলতে যা তা এখানেই আছে। বসতবাড়িও এখানে। সংসারও অভাবী। তাই ইচ্ছে থাকলেও শহরে যাওয়া যায় না। কেননা শহরের থাকতে হলে জায়গা জমি কিনতে হবে। বাসাবাড়ি বানাতে হবে। সেই সামর্থ্য পরিবারের নেই। এ কারণে যমুনা ছাড়ার কোন উপায় নেই। আর ছোট থেকে নৌকায় চড়তে তার ভয় করে। তবে সেই ভয়কে জয় করে আর কিছুদিন পরেই  পাবে ফেরি। টুকু মন্ডল, রফাতুল্লাহ সরকার, সেকেন্দার বৈরাগীসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, আগে তো অনেক ছোট নৌকায় যাতায়াত করতে হতো। যে সময় নৌকায় পাল ব্যবহার করা হতো।

     

    এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতো অনেক সময় লাগাতো। কিন্তু আগের সেই জামানা আর নেই। এখন সব নৌকায় চলছে  শ্যালোমেশিন দিয়ে। নৌকাও আকারে বেশ বড়। সংখ্যাও অনেক। মানুষের পাশাপাশি পণ্য বহনের কাজে এখন বড় বড় নৌকা ব্যবহার হচ্ছে বলে জানান চরাঞ্চলে বসবাসকারী এসব ব্যক্তিরা। এখন চরে স্থাপিত হয়েছে দুটি কলেজ, সরকারি একটি ব্যাংক, বেশকটি উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোবাইল ফোন টাওয়ার, পুলিশ ফাঁড়ি, ৫টি  তিনতলা কমিউনিটি ক্লিনিক সহ নানা স্থাপনা। এসবের জন্যেই এখন যাতায়াতের উন্নতি সময়ে দাবী। সে দাবী পূরণে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।    

    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,কাজিপুর ১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০৪:০৪ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 234 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    কাজিপুর অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    8474453
    ২২ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন