শাশুড়িকে শিক্ষা দিতে ১০হাজার টাকায় চুক্তি করে বাসে হত্যা করায় তারই জামাই!
১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৭:২৩ অপরাহ্ন


  

  • চৌহালী/এনায়েতপুর/ অপরাধ:

    শাশুড়িকে শিক্ষা দিতে ১০হাজার টাকায় চুক্তি করে বাসে হত্যা করায় তারই জামাই!
    ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০৬:৪২ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ঢাকার আশুলিয়ায় বাসে মেয়েকে হত্যা এবং চলন্ত বাস থেকে বাবাকে ফেলে দেয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই হত্যার মূলে ছিল পারিবারিক দ্বন্দ্ব। নিহত জরিনা খাতুনের মেয়ের স্বামী মো. নূর ইসলাম ও তার পরিবারের সঙ্গে কলহ চলছিল, সাম্প্রতিক সময়ে যা প্রকট হয়।

    ঘটনার এক সপ্তাহ পর বাসটি জব্দ এবং তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের ঘটনার বিস্তারিত জানান পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

    তিনি বলেন, মেয়ের পরিবাবের কলহ দুর করতে সিরাজগঞ্জের চৌহালী থেকে আশুলিয়ার মুন্সিপাড়ায় গত ৯ নভেম্বর বিয়াই বাড়িতে বেড়াতে আসে জরিনা খাতুন ও তার বাবা আকবর আলী মন্ডল।

    বনজ মজুমদার বলেন, পারিবারিক কলহ ও দ্বন্দ্ব নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক অবনতি হয়। এক পর্যায়ে ভিকটিমের মেয়ে রোজিনাকে তার স্বামী নূর ইসলাম ব্যাপক মারধর করা শুরু করে। রোজিনার স্বামী এবং তার শ্বাশুড়ি তাদের পরিবারের কলহের জন্য রোজিনার মা জরিনাকেই দায়ী করে। এবং তারা নিজেদের মধ্যে পরিকল্পনা করে কিভাবে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে জরিনাকে শিক্ষা দেওয়া যায়।

    রোজিনার শ্বশুরবাড়ির লোকজন চাচ্ছিল কলহ দুর করতে আর কখনোই যেন তারা না আসে তাই এক গাড়ির ড্রাইভার ও কন্ট্রাকটরদের দশ হাজার টাকা দিয়ে ভয় ভীতি প্রদর্শন করাতে জরিনা ও তার বাবা আকবরকে ওই মিনিবাসে তুলে দেওয়া হয়।

    পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জামাতা নুর ইসলামের মা আমেনার পরামর্শে তার মামা স্বপনকে বেছে নেয় নূর ইসলাম। পরে স্বপন দশ হাজার টাকার চুক্তিতে একটি মিনিবাস ও ওই বাসের চালক, কন্ডাক্টর এবং দুই হেলপারকে ভাড়া করে।

    বনজ কুমার বলেন, ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় মামা স্বপন শিমুলতলা বাস স্ট্যান্ডে মিনি বাসটিকে রেখে দেয়। পরে গাড়িটি টাঙ্গাইল যাবে বলে স্বপন, জরিনা ও আকবরকে বাসে তুলে দেয়।

    তিনি বলেন, বাসটিতে জরিনা এবং তার বাবা ছাড়া আর কোন যাত্রী না থাকায় বাসটি আশুলিয়ার বিভিন্ন রাস্তায় ঘোরাঘুরি করে রাত সাড়ে সাতটার দিকে আশুলিয়া থানার মরাগাং ব্রিজের উত্তর পাশে প্রথমে নিহতের বাবাকে মারধর করে চলন্ত গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় কন্ডাক্টর ও হেল্পার।

    পরে মরাগাং ব্রিজের ৫০০ গজ সামনে জরিনাকে মারধর করে হত্যা করে গাড়ি থেকে ফেলে দেয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে।

    পিবিআই প্রধান বলেন, এখনো আমরা ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাই নি। নিহতের গলায় দাগ পাওয়া গেছে।

    এ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মিনিবাসটিও আটক করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে মামলার বাদী ও রোজিনার স্বামী মো. নূর ইসলাম, ও অন্য দুই পরিকল্পনাকারী শাশুড়ি আমেনা বেগম এবং মামা শ্বশুর মো. স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই ঢাকা জেলা পুলিশ।

    হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করা চালক, কন্ডাক্টর ও দুই হেল্পারকে খোঁজা হচ্ছে, খুব দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানান তিনি।

    প্রসঙ্গত, এ ঘটনার পর অজ্ঞাতদের আসামি করে আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দিয়েছিলেন নিহতের মেয়ে ও জামাতা (রোজিনার স্বামী) নূর ইসলাম। কিন্তু তদন্তে বেরিয়ে আসে জামাতা নূর ইসলাম নিজেই এই হত্যাকান্ডে সঙ্গে জড়িত।

    সিনিয়র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চৌহালী ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০৬:৪২ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 368 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    চৌহালী/এনায়েতপুর অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7967855
    ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৭:২৩ অপরাহ্ন