চলনবিলে নিভু নিভু করছে চাকা তৈরির পেশা
১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৭:২৪ অপরাহ্ন


  

  • তাড়াশ/ কৃষি ও খাদ্য:

    চলনবিলে নিভু নিভু করছে চাকা তৈরির পেশা
    ২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত

    আশরাফুল ইসলাম রনি:

    চলনবিল অঞ্চলে গরু ও মহিষের গাড়ির চাকা তৈরির কারিগরদের অবস্থা দিন দিন শোচনীয় হয়ে পড়ছে। সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে পিচঢালা গ্রামীণ রাস্তা, সড়ক গড়ে ওঠায় ফিকে হয়ে আসছে একসময়ের জনপ্রিয় বাহন গরু-মহিষের গাড়ির প্রচলন। আর এর ফলে চাকার সঙ্গে জড়িত শত শত কারিগর বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেকই পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় চলে গেছেন।

     

     

    সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর ও নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে চলনবিল অবস্থিত।

    একসময় এ অঞ্চলে রাস্তাঘাট না থাকায় ফসলাদি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন, যাতায়াত এমনকি বিয়েশাদিতেও বর-কনে আনা-নেওয়া এবং জা-ঝিদের  চলাচলে ব্যাপকভাবে গরু-মহিষের গাড়ি জনপ্রিয় বাহন ছিল। আর গরু-মহিষের গাড়ির সঙ্গে চাকার সম্পর্ক থাকায় সে সময় শত শত কারিগর কাঠের তৈরি গরু-মহিষের গাড়ির চাকা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলনবিল-অধ্যুষিত নাটোর জেলার গুরুদাসপুর  উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে গ্রামীণ জনপদ মর্শিন্দা ইউনিয়নের আত্রাই নদীর তীরে অবস্থিত কাছিকাটা বাজারে স্বল্প পরিসরে এখনো চাকা তৈরি হচ্ছে।

    সেখানে সরেজমিন গিয়ে কথা হয় চাকা তৈরির কারিগর নজরুল ইসলামের (৬৬) সঙ্গে। তিনি বলেন, বছরের বিভিন্ন সময়ে আমন, বোরো, রসুন, সরিষা, গম সবজি মাঠ থেকে কৃষকের উঠানে ও বিক্রির জন্য বিভিন্ন হাট-বাজারে পরিবহনে গরু-মহিষের গাড়ি কৃষকদের একটি অপরিহার্য বাহন ছিল। আর তাতে করেই চাকা তৈরির ব্যবসাটি জমজমাট ছিল। তবে চলনবিলের প্রত্যন্ত অনেক গ্রামেই অনেক কৃষকের গরু-মহিষের গাড়ির চাহিদার কারণে চাকার প্রয়োজনীয়তা একেবারেই ফুরায়নি এমনটি জানিয়েছেন চলনবিলের বস্তুল গ্রামের কৃষক ফনী খন্দকার (৬২)।

     

     

    চাকা তৈরির কারিগর নজরুল ইসলাম আরো বলেন, তার বাড়ি চাঁপাইনবাগঞ্জ জেলার তানোরে। তিনি বলেন, ৪৭-৪৮ বছর চলনবিল অঞ্চলে চাকা তৈরির কারখানায় কারিগর হিসেবে কাজ করছেন। আর এখান থেকে উপার্যিত অর্থেই তার সংসার চলে। শত শত কারিগর চাকা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে বর্তমানে চাকা তৈরির সঙ্গে জড়িত কারিগররা কাজ না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন। আবার অনেকেই জীবিকার তাগিদে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।

    চাকা তৈরি প্রসঙ্গে আত্রাইয়ের কারিগর নির্মল জানান, বাবলা কাঠের গুড়ি থেকে পাওয়া শক্ত কাঠ দিয়ে তৈরি চাকা টেকসই হওয়ায় অন্য কাঠ চাকা তৈরিতে ব্যবহার হয় না। তবে বর্তমানে বাবলা কাঠ দুষ্পাপ্য হয়ে ওঠা এবং প্রয়োজনীয়তা কমে আসায় এর সঙ্গে জড়িত কারিগররা বর্তমানে সংসার চালাতে হিশশিম খাচ্ছেন।

    চাকা তৈরির আরেক কারিগর সুব্রত সরকার বলেন, চাকা তৈরির কাজটি পরিশ্রমের। এক জোড়া চাকা তৈরিতে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ দিন। বিক্রি হয় ৮-১০ হাজার টাকায়। আর এক জোড়া চাকা তৈরি করলে একজন কারিগর ৭০০-৮০০ টাকা মজুরি পান।

    বর্তমানে চলনবিলের ৯ উপজেলায় হাতে গোনা ৮-১০টি হাট-বাজারে চাকা তৈরির কারিগরদের দেখা মেলে। গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় বাজারের চাকা তৈরির কারিগর নৃপেন্দ্র নাথ (৬৫) বলেন, চাকা তৈরির কাজ কমে আসায় বেশির ভাগ কারিগরই পেশা বদল করে অন্য পেশায় চলে গেছেন। শুধু চলনবিলের প্রত্যন্ত এলাকার গৈ গ্রামে কিছু কৃষক গরু-মহিষের গাড়ি ব্যবহার করায় চাকা তৈরির কাজটি নিভু নিভু করে চলছে।

    স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট, তাড়াশ ২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 151 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    তাড়াশ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7967871
    ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৭:২৪ অপরাহ্ন