সিরাজগঞ্জ-৫ কে হবে নৌকার মাঝি, আলোচনায় তিন জন
১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন


  

  • বেলকুচি/ রাজনীতি:

    সিরাজগঞ্জ-৫ কে হবে নৌকার মাঝি, আলোচনায় তিন জন
    ২৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    জহুরুল ইসলামঃ তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ বেলকুচি ও যমুনা নদীবেষ্টিত চৌহালী উপজেলা নিয়ে সিরাজগঞ্জ-৫ আসন গঠিত। আসনটিতে আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন কিনেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, ঢাকা উত্তর বনানী থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মীর মোশারফ হোসেন, বর্তমান সংসদ সদস্য শিল্পপতি আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ ও তার ছেলে ব্যবসায়ী-শিল্পপতি আব্দুল মমিন মন্ডল, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি অ্যাড. আব্দুর রহমান, বেলকুচি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ আলী আকন্দ, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য গাজী শফিকুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা ডাঃ আবু বকর সিদ্দিক ও যুবলীগ নেতা মুশফিকুর রহমান মোহন। একাধিক প্রার্থী হলেও দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারন মানুষের মধ্যে তিনজন প্রার্থীকে নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সাধারন মানুষসহ দলের তৃনমুল নেতাকর্মীরা তিনজনকে নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষন করছেন। তৃনমুলের মুখে মুখে একটা কথাই চাউর হচ্ছে, এবারের নির্বাচনে কে নৌকার মাঝি হচ্ছেন, তুখোড় পোড়-খাওয়া কর্মী-জনবান্ধব দুইবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ বিশ্বাস অথবা ছাত্র রাজনিতী থেকে উঠে আশা আশির দশকের তুখোর ছাত্রনেতা, ২১ আগষ্টে গ্রেনেড হামলায় আহত, ঢাকা উত্তর বনানী থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর মোশারফ হোসেন নাকি দেশের বৃহত্তম শিল্প প্রতিষ্ঠান মন্ডল গ্রুপের পরিচালক তারুন্য ব্যক্তিত্ব আব্দুল মমিন মন্ডল। তৃনমুল নেতাকর্মী বলছেন, প্রতিদ্বন্ধিমুলক নির্বাচনে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ব্যক্তি মনোনয়ন পেলে নৌকার জয় সম্ভব হবে। তাদের মতে, দেশের অধিকাংশ শিল্পপতিরা ব্যবসায়িক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সংসদ সদস্য পদটি আর প্রকৃত রাজনীতিবিদরা পদটি সাধারন মানুষ ও দেশের কল্যাণে ব্যবহার করে। বেলকুচি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব একেএম ইউসুফজী খানসহ দুটি উপজেলার কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা তিনজন প্রার্থীর বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান, ২০বছর বেলকুচি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১১ বছর সভাপতি, দুইবার এমপি ও একবার মন্ত্রীর দাযিত্ব পালন করেছেন আব্দুল লতিফ বিশ্বাস। বর্তমানে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৫ বছর এমপি না থাকার পরও মাঠে ছিলেন সক্রিয়। তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত করেছেন। দুটি উপজেলার প্রতিটি গ্রাম-পাড়া মহল্লায় তার পদচারনা রয়েছে। দুটি উপজেলার প্রতিটি গ্রামের অধিকাংশ মানুষের নাম পরিচয় জানেন এবং নাম ধরে তিনি চেনেন। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদর্শ থেকে কখনো পিছপা হননি। ৬৫ বছর বয়সী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের মধ্যে প্রকৃত রাজনীতিবীদির সকল গুনাগুনও বিদ্যমান। আচার-আচরন এবং বেলকুচিতে দৃশ্যমান উন্নয়ন তৃণমুল আওয়ামীলীগসহ সাধারন মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা-গ্রহণযোগ্যতাও দিনদিন বেড়ে চলেছে। অন্যদিকে, মীর মোশারফ হোসেন ঢাকা উত্তর বনানী থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক। ছাত্র জীবন থেকেই রাজনিতী করে আসছেন। আশির দশকের সৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভুমিকা পালন করেছেন এবং গুলিবিদ্ধ হয়। বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৪ সালে ২১ আগষ্ট গ্রেনেট হামলায় আহত হয়। দুটি উপজেলার প্রতিটি গ্রামের অধিকাংশ মানুষের নাম পরিচয় জানেন এবং নাম ধরে তিনি চেনেন। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদর্শ থেকে কখনো পিছপা হননি। ৫৪ বছর বয়সী মীর মোশারফ হোসেনের মধ্যে প্রকৃত রাজনীতিবীদির সকল গুনাগুনও বিদ্যমান। আচার-আচরন এবং তৃণমুল আওয়ামীলীগসহ সাধারন মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা-গ্রহণযোগ্যতাও দিনদিন বেড়ে চলেছে। তিনি এ এলাকার অসুস্থ, এতিম, অসহায় মানুষের সহযোগীতা করে আসছেন। এছাড়া স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য কাজ করে আসছেন। তার ইচ্ছা বেলকুচি-চৌহালীবাসীর উন্নয়নে কাজ করা। আব্দুল মমিন মন্ডল একজন ব্যবসায়ী শিল্পপতি। তার বাবা আব্দুল মজিদ মন্ডল বর্তমান এমপি। তিনি বেলকুচি-চৌহালীর উন্নয়নে তেমন ভুমিকা রাখতে পারেননি। এবার তার ছেলে মমিন মন্ডলের জন্য তিনি মাঠে নেমেছে। মমিন মন্ডল একজন সিআইপি পদকপ্রাপ্ত তরুণ ব্যবসায়ী-শিল্পপতি। মাত্র একবছর আগে বেলকুচি-চৌহালীর রাজনীতির মাঠে নেমেছে। ৬-৭ মাস যাবত বেলকুচি-চৌহালীতে জনসংযোগ করছেন। বেলকুচি-চৌহালীর তৃনমুল নেতাদের সাথে তার ভাল করে পরিচয়ই হয়নি। চৌহালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফারুক সরকার ও স্থানীয় ভোটার আব্বাছ আলী ও নুরুল ইসলাম জানান, মন্ত্রী থাকাকালীন চৌহালীতে লতিফ বিশ্বাস যে অবদান রেখেছে, যত মানুষের কর্মের ব্যবস্থা করেছেন তাতে তিনি মনোনয়ন পেলে এক ধরনের নৌকার জোয়ারের পরিবেশ সৃষ্টি হবে অন্যদিকে মীর মোশারফ হোসেন ক্লিন ইমেজের নেতা সে অসহায় মানুষের সেবাসহ বিভিন্ন সমাজ সেবা মূলক অনেক কাজ করেছে। তিনি পেলেও এ আসনটি উন্নয়নের ছোয়া পাবে। এছাড়া মমিন মন্ডল পেলে সেই পরিবেশ সৃষ্টি হবে না। তারপরেও শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। বেলকুচি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডার আব্দুল হামিদ আকন্দ, স্থানীয় ভোটার জহুরুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম জানান, সিরাজগঞ্জের আওয়ামীলীগের রাজনীতির মাঠে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের পরেই লতিফ বিশ্বাসের স্থান। রাজনীতি ও ভোটের মাঠে লতিফ বিশ্বাসের কাছে শিল্পপতি মমিন মন্ডল শিশু বাচ্চা। তবে মীর মোশারফ হোসেন পেলেও ভালো হবে। রাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বদর তালুকদার সহ অনেকেই জানান, মীর মোশারফ হোসেন ক্লিন ইমেজের নেতা। সে ছাত্র জীবন থেকেই রাজনিতীর সাথে জরিত। রাজনিতী করতেগিয়ে বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। এছাড়া তিনি অসহায় মানুষের সেবাসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠনে সহযোগীতা করে আসছেন। এ আসন থেকে তাকে দলীয় প্রার্থী করা হলে জয়যুক্ত হতে পারবেন। আমাদের বিস্বাস মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আসনে নৌকার মাঝি মীর মোশারফ হোসেনকেই করবেন। সর্বোপরি সাধারন মানুষের বিশ্বাস বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সাধারনের মানুষের আশা-আকাঙ্খার কথা বিবেচনা করে বেলকুচি-চৌহালীর উন্নয়নে প্রকৃত নেতাকেই মনোনয়ন দিবেন। দুটি উপজেলা তিনটি থানা নিয়ে গঠিত আসনটিতে মোট ভোটার ৩লাখ ৩৯হাজার ৮শত ৯২জন ভোটার রয়েছেন।
    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বেলকুচি ২৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 1171 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    বেলকুচি অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7987670
    ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন