উল্লাপাড়ার চলনবিলে ৩ শতাধিক মৌচাষীর আগমনঃ-পরাগায়নে বাড়ছে কৃষকের ফলন
১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন


  

  • উল্লাপাড়া/ কৃষি ও খাদ্য:

    উল্লাপাড়ার চলনবিলে ৩ শতাধিক মৌচাষীর আগমনঃ-পরাগায়নে বাড়ছে কৃষকের ফলন
    ২৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০৫:১১ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    রায়হান আলীঃ  দেশের বৃহৎ চলনবিল অঞ্চলে কৃষকের সরিষা ফুল থেকে পোশা মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষীরা। এ জনপদের কৃষকদের মাঠের সরিষা ফুল থেকে এ বছর ৫০ কোটি টাকার মধু সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নিয়ে মাঠে নেমেছে প্রায় ৩ শতাধিক মৌচাষী।

    তারা চলনবিলের উপজেলাগুলোর মাঠে মাঠে কৃষকের জমির পাশে পোষা মৌমাছির খামার নিয়ে তাবু টাঙ্গিয়ে বসতি গড়েছে অনেক আগেই। অল্প জমিতে সরিষা ফুল ফোটায় এখনোও এসব খামারে মধু সংগ্রহ প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। সপ্তাহ খানেক পরেই শুরু হবে মধু সংগ্রহ কর্মযজ্ঞ। নতুন ফোটা সরিষা ফুলে সহ মাঠে মাঠে ভো ভো শব্দে ছুটে বেড়াচ্ছে মৌমাছির দল। চলনবিলের প্রতিটি মাঠের চিত্র এটা। কৃষি বিভাগের পৃষ্ট পোশকতায় মৌমাছি দিয়ে এভাবে প্রতি বছর মধু সংগ্রহ করে একদিকে যেমন মৌচাষীরা লাভবান সচ্ছল হচ্ছে,অন্যদিকে মধু সংগ্রহের সময় মৌমাছির পরাগায়নের ফলে চাষীরা অধিক ফলন পাচ্ছে।

    দেশের শস্যভান্ডার খ্যাত চলনবিল অঞ্চলের কৃষকের জমির সরিষা ফুল থেকে পোশা মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহে নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে। পোশা মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহ করে নিজেদের ভাগ্যর চাকা ঘুরিয়ে সচ্ছল স্বাভলম্বী হওয়ায় পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে শত শত বেকার যুবক। অল্প পুঁজিতে মৌ খামার করে বেকার যুবকরা স্বাভলম্ভী।

    দিনাজপুর সদরের যুবক মাহবুব আলম। সরিষা ফুল থেকে মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহের জন্য এসেছেন চলনবিলের উল্লাপাড়া উপজেলার মানিকদিয়ার গ্রামের মাঠে। রবিবার সকালে কথা হলো তার সাথে। তার ভাগ্য বদলের গল্প শুনালেন নিজের মুখেই । ৮ বছর আগেও সে ছিল বেকার নিঃশ্ব। পরিচিত এক জনের পরামর্শে সামান্য পুজি নিয়ে গড়ে তোলেন পোশা মৌমাছির খামার। কঠিন মনোবল আর নিজ পায়ে দাড়ানোর আত্ম প্রত্যয় নিয়ে সে এখন সফল মৌচাষী। তার খামারে ২১০টি মৌ বাকসো রয়েছে। এটি দিয়ে সে এই মৌসুমে সরিষা ফুল থেকে প্রায় ২শ'মন মধু উৎপাদন করবে। ৬ হাজার টাকা মন দরে সে তার খামারে উৎপাদিত মধু মধু সংগ্রহ কোম্পানী এপি,ডাবর সহ বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীতেও বিক্রি করে। ৩ জন শ্রমিক নিয়ে সব খরচ বাদে সে তার এই মৌ খামারের মাধ্যমে প্রতি বছর ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা আয় করে। এই মৌ খামারের মাধ্যমে সে তার ভাগ্য বদল করে এখন সচ্ছল স্বাভলম্বী।

    সিরাজগঞ্জ মৌ চাষী সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ। ২৬ বছর ধরে মৌ চাষের সাথে জড়িত। এক সময় হকারী সহ নানা ছোট কাজ করে চলতো তার সংসার। অভাবের কারনে পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে চলছিল তার জীবন। এক ব্যক্তির পরামর্শে মাত্র ৪টি মৌ বাকসো নিয়ে শুরু করেন মৌ-খামার। সেই থেকে শুরু। মৌ চাষের মাধ্যমে পরিবারের অভাব দুরে করে আব্দুর রশিদ এখন সচ্ছল স্বাভলম্বী। অভিজ্ঞ আব্দুর রশিদের খামারে এখন ৩২৫টি মৌ বাকসো আছে। এর মধ্যে ৫০ টি শীতাতাপ নিয়ন্ত্রীত্র মৌ বাকসো রয়েছে। চলনবিলের তাড়াশের কুন্দল এলাকায় এবার তার খামারের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করছেন।

    রোববার সকালে কথা হলে আব্দুর রশিদ জানান, এবার আমার খামারের মাধ্যমে প্রায় ২০ টন মধু সংগ্রহ করব। খামারের ৩ জন শ্রমিকের বেতন ভাতা সহ সব খরচ বাদে প্রতি বছর আমি প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা আয় করি। দেশের সেরা খামারী হিসাবে আব্দুর রশিদ পেয়েছেন নানা পুরষ্কার। ইতিমধ্যে তাকে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেশের প্রথম ৫০টি শীতাতাপ নিয়ন্ত্রীত্র মৌ বাকসো দেয়া হয়েছে।

    পরীক্ষা ও গবেষনার জন্য দেয়া একেকটির মৌ বাকসোর দাম ৩৬ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ ফুড গ্রেড প্রযুক্তি অবলম্বন করে এই বাকসোগুলো থেকে কোন সমস্য ছাড়াই বেশি মধু উৎপাদন করছে আব্দুর রশিদ। একই সাথে এই বিশেষ মৌ বাকসো থেকে রানী মৌমাছি উৎপাদন ও প্রজনন করে মৌমাছির বংশ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এই মৌমাছির দেশের বাইরে ব্যপক চাহিদা থাকায় তা বিক্রি করে বাড়তি আয়ও হচ্ছে। আব্দুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন,সরকারীভাবে মধুর বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ না করায়,মৌচাষীরা ব্যবসায়ীদের কাছে ১৫০ টাকা দরে মধু বিক্রি করছে।

    অথচ আমাদের একই মধু কিনে প্রক্রিয়াযাত করে দেশি বিদেশি কোম্পানীগুলো ৭/৮গুন বেশি দামে দেশের বাজারে বিক্রি করছে। তিনি দাবী করেন উত্তরাঞ্চলে প্রায় ৭ থেকে ৮শ'মৌ খামারী রয়েছে। তাই এই অঞ্চলে একটি মধু প্রক্রিয়াযাত প্লান্ট স্থাপন হলে মৌচাষীরা ব্যপকভাবে লাভবান হতো। মৌ খামারীরা বলছেন,দেশের সম্ভাবনাময়ী এই মধু শিল্প বিকাশের পথে বাধা মাঠ পর্যায়ে সরকারের কৃষি বিভাগ,বিসিকের ট্রেনিং ছাড়া কোন সহায়তা না পাওয়া,ব্যাংক ঋন না দেয়া,মধুর বাজার নিয়ন্ত্রণ না করা। এই সমস্যগুলো দুর করে খামারীদের ব্যাংক ঋন সহ সরকারীভাবে পৃষ্ট পোশকতা দেয়া হলে এ শিল্পের মাধ্যমে প্রতি বছর একদিকে যেমন বিপুল পরিমান বৈদাশিক অর্থ আয় হবে,অন্যদিকে দেশের বেকার যুব সমাজ এ পেশার মাধ্যমে স্বাভলম্বী হবে।

     

    করেসপন্ডেন্ট, উল্লাপাড়া ২৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০৫:১১ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 179 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    উল্লাপাড়া অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7987697
    ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন