গোবর-মুঠেতে আয়
১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন


  

   সর্বশেষ সংবাদঃ

  • জাতীয়/ অন্যান্য:

    গোবর-মুঠেতে আয়
    ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৬:১১ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    ‘মুটে’ শব্দের মানে যিনি অর্থের বিনিময়ে মালামাল বহন করেন-একথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু ‘মুঠে’ মানে কি? এই প্রশ্নের উত্তরে মুঠে প্রস্তুতকারী কৌশল্যা বিশ্বাস (৫৫) বলেন, 'গোবর ছেনে-চেট্ক শুকনা লম্বা কাঠির গায়ে মুষ্টি মুষ্টি করে লাগিয়ে জ্বালানির যে উপকরণ তৈরি হয়, তাকে বলে মুঠে। আবার একহাতের তালুভর্তি গোবর কোন গাছ কিংবা বেড়ার গায়ে সেটে-লেপ্টে শুকিয়ে যে জ্বালানী উপকরণ তৈরী হয়- তাকে বলে ঘুটে।'

    আবার বরিশাল এলাকায় ‘মুঠে’কে সবাই ‘মুইঠ্যা’ বা শলার লাকড়িসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এটাকে অনেক নামে চেনে। বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের কুরালতলা গ্রামের মুঠে প্রস্ততকারি কৌশল্যা বিশ্বাস এই তথ্য দেন। 

    চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার বলেন, ‘কৃষির সাথে মুঠের সম্পর্ক রয়েছে। গরুর বিচরণ সমতল ভূমি কমে যাওয়ায় এর প্রচলন কমে গেছে। তাছাড়া মানুষ এখন আধুনিক জ্বালানী উপকরণ ব্যবহার করে।’    

    কৌশল্যা বিশ্বাস আরো বলেন, তাদের হাতালে তিনটি গরু আছে।এগরুর গোবর দিয়ে তিনি প্রতিদিন দেড়শ’ থেকে দুইশতটি মুঠে তৈরী করেন। তা শুকানোর পর একশ মুঠে দেড়শ’ টাকা দরে বিক্রি করেন। সংসারের সকল কাজের ফাঁকে ফাঁকে তিনি এই মুঠে প্রস্তুত করেন। মেটান নিজেদের জ্বালানী চাহিদা। 

    তিনি আরো জানান, মুঠে তৈরী এখন কতকটা নেশা হয়ে দাড়িয়েছে, একদিন এটা তৈরী না করলে শরীরটা কেমন যেন রোগা মনে হয়। মুঠে তৈরীর প্রস্তুতিপর্বে গোবর চটকানো লাগে, আর এটার ফলে শীতকাল সহ বছরের কোন সময়ই হাত-পায়ের তালু ফাঁটেনা। শরীর থাকে শীতল। 

    কৌশল্যার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক বিশ্বনাথ বিশ্বাস (৭৪) জানান, এই গোবরের মুঠে তৈরি করা খুবই সহজ, খরচও কম এবং পরিবেশ সহনীয় বলে জানা যায়। এই মুঠে তৈরীর উপকরণ হিসেবে প্রয়োজন গরু বা মহিষের গোবর, পাটখড়ি/ লম্বা লাঠি, ধানের তুষ বা কুড়া। মুঠে তৈরির আগে পরিমাপ মতো পাটখড়ি বা লাঠি কেটে গোবর ও তুষ (কুড়া) একত্রে মিশিয়ে পাটখড়ি বা লাঠির গায়ে মুষ্ঠি মুষ্ঠি করে এঁটে রোদে শুকাতে হয়। শুকানো পর তা রান্নার জ্বালানীর জন্য উপযুক্ত হয়। 

    তিনি বলেন, 'আমার স্ত্রী অগ্রহয়ান থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত গোবর  দিয়ে জ্বালানি তৈরি করে। আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসের জ্বালানি  রেখে বাকি  জ্বালানি বিক্রি করি। এতে নিজের রান্নার কাজের জন্য যেমন জ্বালানি ঘাটতি থাকছে না। অপর দিকে আর্থিক ভাবেও লাভবান হচ্ছি।'

    চিতলমারী বাজারের ব্যবসায়ী সুবল কর্মকার জানান, কিছুদিন আগেও এর ব্যবহার ছিল গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে প্রচলিত গ্যাস, কাঠসহ অন্যান্য জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে শহরাঞ্চলে গোবরের মুঠে ও ঘুঁটের কদর বেড়েছে। মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণির পরিবারগুলোয় এই স্বল্পমূল্যের জ্বালানি রান্নার কাজে ব্যবহার করতে দেখা যায়। গ্রামীণ পরিবারগুলো এটা দিয়ে নিজেদের জ্বালানির চাহিদা মিটিয়েও বিক্রি করে সংসারের খরচ মেটাচ্ছেন। চেষ্টা করছেন আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার।

    নিউজরুম ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৬:১১ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 67 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    জাতীয় অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7995229
    ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন