চিতলমারীর টমেটো যাচ্ছে রাজধানীর বাজারে
১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৭:২২ অপরাহ্ন


  

  • জাতীয়/ অন্যান্য:

    চিতলমারীর টমেটো যাচ্ছে রাজধানীর বাজারে
    ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৪:৩১ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    টমেটোর রঙে রঙিন এখন চিতলমারীর হাট-বাজার। বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় উৎপাদিত প্রায় ছয় হাজার মণ টমেটো। এসব টমেটো প্রতিদিন যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনাসহ অন্যান্য শহরের কাঁচাবাজারে। প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করে মৎস্য ঘের পাড়ে চাষীরা উৎপাদন করেছে এই টমেটো। এই বছর বাজার দর ভাল বলে জানান ব্যাপারী ও চাষীরা। তারা সবজি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চিতলমারীতে কোল্ডস্টোর নির্মাণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। চাষীদের মতে, স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে উৎপাদিত সবজি পচনের ভয় থাকবে না। ফলে ভাল দাম পাওয়া যাবে।

    চরবানিয়ারী গ্রামের টমেটো চাষী স্বয়ম্বর সরকার বলেন, ‘ভাইরাসসহ প্রতিকূল পরিবেশেও টমেটোর ফলন ভাল হইছে। বাজার দরও ভাল। তবে সবজি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা চিতলমারীতে থাকলে কৃষক আরো ভাল দাম পেত।’ অপূর্ব বড়াল জানান, ‘এখানের সবজি বাজারগুলোতে চাষী ও ব্যাপারীদের সরাসরি দর-কষাকষি হয়। মধ্যসত্ত্বভোগী দালালদের দৌরাত্ম্য নেই।’ 

    চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার জানান, টমেটো গাছ ব্যাপকহারে মরার খবর পেয়ে জরুরীভাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচলক অমিতাভ দাসসহ উচ্চ পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক দল গত ২৪ নভেম্বর চিতলমারীতে আসেন। তাঁরা টমেটো ক্ষেতের মাটি ও টমেটো গাছ মরার কারণ বিশ্লেষণ করেন। এরপর তাঁদের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী টমেটো চাষীদের পরামর্শ দেওয়া হয়। যার ফলে টমেটো ভাল উৎপাদন হয়েছে। এ বছর ৬৭০ হেক্টর (প্রায় ১৫শ’ একর) জমিতে টমেটো চাষ হয়। হাইটম, পানপাতা, চক্র, মিন্টু সুপার, লাভলী, বিউটিসহ নানা জাতের উচ্চফলনশীল টমেটো চাষ হয়েছে।   

    আজ শুক্রবার নারায়নগঞ্জ থেকে চিতলমারীর খাসেরহাট বাজারে আসা টমেটোর পাইকারি ক্রেতা মোঃ দ্বীন ইসলাম কালের কন্ঠকে বলেন, ‘এখন প্রতিদিন গড়ে ৩০০ মণ টমেটো কিনছি। প্রতি কেজি টমেটোর দর ৩২-৩৫ টাকা। গত বছরের তুলনায় এবার খাজনা ২০ কেজির ঝুঁড়িতে ১০ টাকা করে বেশি। গত ১০ বছর ধরে চিতলমারীর হাটগুলোতে আসি, এই এলাকা নিরাপদ। মৌসুমভিত্তিক সবজি কিনে নারায়নগঞ্জ পাইকারি কাঁচাবাজারে পাঠাই।’ 
    তিনি আরো জানান, কাচামাল সংরক্ষণের কোনো স্টোরেজ চিতলমারী না থাকায় প্রতিদিন ক্রয়কৃত সবজি ঢাকায় পাঠানোর মানসিক দুঃশ্চিন্তা থাকে।  

    চিতলমারীর পাইকারি ব্যাপারী মনির মোল্লা জানান, প্রতিদিন প্রায় ২০-২৫ জন ব্যাপারী চিতলমারীর খাসেরহাট, দুর্গাপুর, কালিগঞ্জসহ বিভিন্ন সবজি হাট হতে টমেটো শহরে পাঠায়। প্রত্যেক ব্যাপারী প্রতিদিন গড়ে দুই-তিনশ’ মণ টমেটো ক্রয় করে। ঢাকার কারওয়ান বাজার, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ বিভিন্ন শহরে এই টমেটো যায়। 

    খাসেরহাট সবজি পাইকারী বাজারের ইজারাদার সুশান্ত মজুমদার জানান, বাগেরহাট জেলার মধ্যে সবজির অন্যতম পাইকারী বাজার খাসেরহাট। চাষীরা যাতে প্রতিদিন টমেটো বিক্রি করতে পারে সেজন্য সরকারী রেটের তুলনায় অনেক কম খাজনা নেওয়া হয়।

    শিবপুরের সবজি ব্যাপারী আমিনুল ইসলাম মামুন বলেন, ‘বাজারগুলোয় ক্রয়-বিক্রয়, ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহন পার্কিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোন জায়গা নেই। ফলে গ্রামের রাস্তাগুলোয় প্রায়শঃ যানজট লেগে থাকে। সবজিহাট চলাকালে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ যাত্রীদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। খাসেরহাট, উমাজুড়ি সবজি বাজারে গাড়ী পার্কিংয়ের জায়গা করা দরকার।’

     
     

     

     
     
    নিউজরুম ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৪:৩১ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 46 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    জাতীয় অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    7967847
    ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৭:২২ অপরাহ্ন