সিরাজগঞ্জ-১ আসন : নির্বাচনী এলাকায় দেখা নেই বিএনপি প্রার্খীর
২২ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৫:২১ পূর্বাহ্ন


  

  • সিরাজগঞ্জ/ রাজনীতি:

    সিরাজগঞ্জ-১ আসন : নির্বাচনী এলাকায় দেখা নেই বিএনপি প্রার্খীর
    ২০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৫:৩৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: আওয়ামীলীগের শক্ত ঘাঁটি সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর ও সদরের একাংশ) আসনটিতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়ে তুলতে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতিক তুলে দেয়া হয়েছে কন্ঠ শিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপাকে। দলের নীতি নির্ধারকদের বিশ্বাস ছিল দেশের প্রথম সারির এই শিল্পী নিজের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়াড় সৃষ্টি করবেন। এ আসনের হেভিওয়েট মোহাম্মদ নাসিমকে হারিয়ে প্রথমবারের মত আসনটি খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে পারবেন বলেও আশা ছিল বিএনপি'র। কিন্তু জনপ্রিয় এই কন্ঠশিল্পী নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা নেই তার। এখন প্রর্যন্ত নির্বাচন শুরুই করেননি তিনি। টানানো হয়নি পোষ্টার, ব্যানার কিংবা ফেস্টুন। এমনকি গত কয়েকদিনে সিরাজগঞ্জ শহরে অবস্থান করলেও নিজ নির্বাচনী এলাকাতে যাননি তিনি। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও ভোটারদের মাঝে চলছে নানা সমালোচনা।

     

    স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রচারণায় নামতে মুখিয়ে বসে থাকলেও খোদ প্রার্থীর দেখা না মেলায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এদিকে নির্বাচনী এলাকায় না গেলেও সিরাজগঞ্জ থেকে সাংবাদিক নিয়ে বগুড়ার একটি অভিজাত হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। নিরাপত্তার দাবীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সিরাজগঞ্জ থেকে ৬/৭টি মিডিয়ার সাংবাদিকদের নিয়ে গেলেও বগুড়ার কোন সাংবাদিককেও ডাকা হয়নি। দলটির একাধিক নেতাকর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ১০ ডিসেম্বর থেকে রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা সিরাজগঞ্জে জেলা শহরের হোসেনপুর মহল্লায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাসভবনে অবস্থান করছেন। দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে তার যোগাযোগ নেই। কাজিপুরে কনকচাঁপার বাড়ি না থাকায় কোথায় অবস্থান করে তিনি নির্বাচন করবেন তা এখনো ঠিক করতে পারেননি। কাজিপুর উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা লাকী খাতুন এই প্রতিনিধিকে বলেন, এক মাসের মত হয়ে গেল কাজিপুরে কনকচাঁপা এলাকায় ঢোকেন নাই, ভোটও চান নাই। আমাকে কাজিপুরের লোকজন বলেন, লাকী তোমার কনকচাঁপা কোথায় ? ভোট চাইতে আসেন না কেন? কোন জবাব দিতে পারি না। লাকী খাতুন আরও বলেন, গত কয়েকদিন আগে টুকু সাহেবের বাড়ীতে আমাদের নিয়ে নির্বাচনী মিটিং করলেন কনকচাঁপা। গাড়ী ভাড়া করে নেতাকর্মীরা তার মিটিংয়ে এলেন, অথচ গাড়ীভাড়ার টাকাও দেয়া হয়নি। সেদিন অধিকাংশ কর্মীরা খাবার প্যাকেট না পেয়ে রাগ করে চলে যান।

     

    ঐ মিটিংয়ের পরেও তিনি কাজিপুরে পা রাখেন নি। আমি ও আমার স্বামী বলেছি, আপা আপনার সকল পোষ্টার আমরা লাগিয়ে দেবো। রক্তের বন্যা বয়ে গেলেও আমরা মাঠে নামবো, আমরা ভোট দেব। কিন্তু তিনি পোষ্টারও দেননি আমাদের সাথে আর যোগাযোগও করেননি। কাজিপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য ও বিআরডিবির সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান বাবলু বলেন, আমাদের মত আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে প্রার্থী যদি না বলে তাহলে কর্মীরা কিভাবে প্রচারণায় নামবে। আসলে উনি নির্বাচন করতে এসেছেন নাকি নাসিম সাহেবের প্রতিদ্বন্দ্বী সেই সার্টিফিকেট নিতে এসেছেন সেটা বোধগম্য নয়। উনার কোন বাড়ি নেই কাজিপুরে। ২০১৪ সালে একবার নির্বাচন করার উদ্দেশ্যে তিনি কাজিপুরের সোনামুখী এলাকায় এক আওয়ামীলীগ পরিবারের বাড়িতে উঠেছিলেন। কাজিপুরের কে বিএনপি করেন উনি তো চেনেন না। টুকু সাহেবের বাড়িতে প্রথম নির্বাচনী সভা হলো, সেখানে খাবার প্যাকেট না পেয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। পরে ২৫/৩০ জনকে আমি পুড়ি খাইয়ে বিদায় করেছি। কাজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম বলেন, ২০১৪ সালে কনকচাঁপার সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল। ওই সময় আমি তার প্রোগ্রাম করে দিয়েছে। এবার দলীয় মনোনয়ন পেলেও আমার সাথে এখন পর্যন্ত কোন যোগাযোগ করেননি।

     

     

    কাজিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা বলেন, আমি নিজেও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। দল আমাকে না দিয়ে কনকচাঁপাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে কোন ক্ষোভ নেই। তিনি এলাকায় আসলে আমরা তাকে সার্বিক সহযোগীতা করবো। গত সপ্তাহে ১৮টি ইউনিয়নের তৃণমূল নেতাকর্মীদের ডেকে নিয়ে আমরা সিরাজগঞ্জে একটি সভা করেছি। শোনা যাচ্ছে ২২ ডিসেম্বরের আগে তিনি কাজিপুরে আসবেন না। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী রুমানা মোর্শেদ কনকচাপা বলেন, আমি ১০ ডিসেম্বর থেকে কাজিপুরের পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণ দিয়ে ঘুরছি। কিন্তু হুমকি-ধামকিতে ভয়ে কাজিপুরে ঢুকতে পারছিনা। দলের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ নেই-এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি সকল নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলেছি। অনেকেকেই ফোন দিয়েছি। দু-একজনকে ফোনে পাইনি। তাদের সাথেও যোগাযোগের চেষ্টা করছি। নির্বাচনী এলাকায় নিজস্ব কোন বাড়ী নেই তা স্বীকার করে তিনি বলেন, লক্ষীপুরে খালাতো ভাইয়ের বাড়ী আছে। সেখান থেকেই নির্বাচন করবো।

    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বেলকুচি ২০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৫:৩৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 387 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    সিরাজগঞ্জ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    8474370
    ২২ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৫:২১ পূর্বাহ্ন