উল্লাপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা সহ ভৌত অবকাঠামো উন্নতিতে পৌরসভা সহ পশ্চিমের ৭ ইউপিতে ভোটের মাঠে এগিয়ে আঃলীগ
২২ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন


  

  • উল্লাপাড়া/ অন্যান্য:

    উল্লাপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা সহ ভৌত অবকাঠামো উন্নতিতে পৌরসভা সহ পশ্চিমের ৭ ইউপিতে ভোটের মাঠে এগিয়ে আঃলীগ
    ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত

    উল্লাপাড়া প্রতিনিধিঃ শহর থেকে নিভৃত ঘোর পল্লীর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি,ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া,অপহরন,

    গুম,খুন,সন্ত্রাস,চাঁদাবাজী বন্ধ সহ নানা ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন করায় সিরাজগঞ্জ-৪, উল্লাপাড়া আসনে পৌরসভা সহ পশ্চিমের ৭ ইউনিয়নের মানুষের জীবন যাত্রায় এসেছে ব্যপক পরিবর্তন। পুরো সংসদীয় আসনের অর্ধেকেরও বেশি ভোট পৌরসভা ও ইউপিগুলোর মানুষ সময় উপযোগী এমন উন্নয়নে মহাখুশি। মানুষের খুশিতে এসব এলাকায় ভোটের মাঠে এবার সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে আঃলীগ। উল্লাপাড়া পৌরসভা সহ এই ইউনিয়নগুলো হচ্ছে-কয়ড়া,লাহিড়ী মোহনপুর,বড়পাঙ্গাসী,উধুনিয়া,

    বাঙ্গালা,পূর্নিমাগাঁতী, দূর্গানগর। উল্লাপাড়া পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে সাধারন মানুষের সাথে কথা বলে এ চিত্র দেখা যায়। দশম সংসদ নির্বাচনের পর এ উপজেলায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার নানা ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে।

    সিরাজগঞ্জ-৪,উল্লাপাড়া আসনে ১৪ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৩ লাখ ৯১ হাজার ১১৪ জন ভোটার। উল্লেখিত সাত ইউনিয়নের ভোটের চিত্র লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামে ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৬ শ' ৫৮ জন। বাঙ্গালা ইউনিয়নে ৩৪টি গ্রামে ভোটার সংখ্যা ২৩ হাজার ৭ শ' ৪৫ জন। উধুনিয়া ইউনিয়নে ২৬টি গ্রামে ভোটার সংখ্যা ২১ হাজার ৩ শ' ২৭ জন। বড় পাঙ্গাশী ইউনিয়নে ২২টি গ্রামে ভোটার সংখ্যা ২২ হাজার ১ শ' ৭৩ জন। দুর্গানগর ইউনিয়নে ৪৮টি গ্রামে ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৫ শ' ৬২ জন। পূর্নিমাগাঁতী ইউনিয়নে ৩১টি গ্রামে ভোটার সংখ্যা ২৩ হাজার ৮ শ' ০১ জন। কয়ড়া ইউনিয়নে ২০টি গ্রামে ভোটার সংখ্যা ১৪,০৮৩ জন। উল্লাপাড়া পৌরসভার ২৯ টি মহল্লায় ভোটার রয়েছে ৩২হাজার ৫শ'৪১জন।

    উল্লাপাড়া পৌরসভা সহ ওই ৭ ইউনিয়নে মোট ভোটার ২ লাখ,৫ হাজার,৮৯০ জন।

    এদের মধ্যে পূর্নিমাগাঁতী ও দূর্গানগর ইউনিয়ন বাদে ৫টি ইউনিয়ন আগে থেকেই আঃলীগের ভোট ব্যাংক হিসাবে পরিচিত। এই ইউনিয়নগুলো প্রায় সব নির্বাচনেই আঃলীগ সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা আর বিগত দিনের নানা উন্নয়ন মানুষের কাছে তুলে ধরে উল্লেখিত পুরো ভোটই নিজেদের পক্ষে নিতে মরিয়া আঃলীগ। একই সাথে উপজেলার ১৩ ইউপি চেয়ারম্যান,উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,পৌর মেয়র সহ কাউন্সিলর,মেম্বররা আঃলীগ থেকে নির্বাচিত হয়েছে। এদিক থেকে দলীয় জনপ্রতিনিধিদের এলাকাতেও ঐক্যবদ্ব আঃলীগের বিরামহীন প্রচারনায় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে এগিয়ে তারা।

    নবম সংসদ নির্বাচনের পর উল্লাপাড়া পৌরসভা সহ উপজেলার উল্লেখিত ৭ ইউনিয়নে

    সবচেয়ে বড় সমস্য ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির। এসব এলাকায় অপহরন,খুন

    ,সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজী, জমি দখল,ভাড়ায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সহ নানা অরাজকতা ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। দিন দুপুড়ে সাধারন মানুষকে অপহরন করে একটি চক্র আদায় করতো লাখ লাখ টাকা। উল্লাপাড়া পৌর শহরের ক্ষমতাসীন দলের একটি চক্র এসব এলাকায় মোটা অংকের টাকায় ভাড়ায় গিয়ে মানুষের বাড়ি,জমি দখল,সুদের টাকা আদায়,প্রভাব বিস্তার করে শালিষ করা সহ সন্ত্রাসী চাঁদাবাজী কর্মকান্ড করতো। শহরের ক্ষমতাসীন মানুষ বলে পশ্চিম এলাকার সাধারন নিরীহ মানুষ ছিল এদের হাতে জিম্মি। চরম আতঙ্কের জনপদে পরিনত হয় এ উপজেলা। সাথে বিস্তার লাভ করেছিল মাদক ব্যবসার। একই সাথে উল্লাপাড়া পৌর শহরে পরিবহন সেক্টর সহ প্রতিটি সেক্টর ছিল চাঁদাবাজদের কব্জায়। দশম সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তানভীর ইমাম এমপি এগুলো কঠোর হাতে দমন করেন। একই সাথে তিনি বিগত দিনের সন্ত্রাস নাশকতা দমনেও সফলতা দেখান। তানভীর ইমাম এমপির জিরো টলারেন্স নীতির কারনে উল্লাপাড়া থেকে সেই সন্ত্রাস,নাশকতা,

    চাঁদাবাজী,অপহরন,গুম,খুন,ভাড়াটে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এখন আর নেই। এ জন্য সাধারন মানুষ এখন সস্তির নিশ্বাস ফেলছে। একই সাথে তার সময় উপযোগী নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডে বদলে গেছে এসব জনপদের চিত্র। উপজেলা শহর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চলনবিল অধ্যুষিত এসব এলাকার গ্রাম জনপদে নির্মিত হয়েছে সাবমার্জিবল রাস্তা,ব্রীজ-কালভাট,স্কুল-কলেজ ভবন সহ নানা ভৌত অবকাঠামো। প্রত্যন্ত গ্রামের মাঠ চিরে নির্মিত পাকা রাস্তা দিয়ে বাড়ির পাশ থেকে যানবাহনে চড়ে সাধারন মানুষ দ্রুত শহরে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ আর সৌর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়েছে এসব ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম ও বাড়ী। এই ইউনিয়নের গ্রামগুলো আর শহরের মধ্যে কোন তফাৎ নেই। মানুষের জীবনে লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। কিছুদিন আগেও যা ছিল কেবল স্বপ্ন। তা আজ বাস্তবে রুপ লাভ করেছে।

    উল্লাপাড়া পৌর আঃলীগের সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র এস.এম.নজরুল ইসলাম জানান,তানভীর ইমাম এমপির নেতৃত্বে তার পৌরসভায় বিগত দিনে শতকোটি টাকার সরকারি খাল উদ্বার,পৌর টার্মিনাল নির্মাণ,পৌর কিচেন মার্কেট,পৌর উন্মুক্ত মঞ্চ,বিশুদ্ব পানির প্লান্ট স্থাপন সহ কোটি কোটি টাকার ব্রীজ-কালভাট,রাস্তা-ঘাট সহ ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে। আগামীতে আরো বিপুল সংখ্যাক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে এই পৌরসভা দেশের মডেল পৌরসভায় রুপ লাভ করবে।পৌরসভা এলাকায় সন্ত্রাস,চাঁদাবাজী বন্ধ সহ রেকর্ড পরিমান উন্নয়নে সংসদ নির্বাচনে তার দলের প্রার্থীর পক্ষে মানুষের ভোট বিপ্লব ঘটবে বলে তিনি আশাবাদি।

    উল্লাপাড়া উপজেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কি.মি.দুরে অবস্থিত লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের সুজা ও কালিয়াকৈর গ্রাম। স্বাধীনতার পূর্ববতী সময় থেকে এ গ্রাম দুটিতে যাতায়েতের কোন রাস্তা ছিল না। চলনবিল অধ্যুষিত এ গ্রাম দুটিতে উপজেলা শহরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মেঠো রাস্তাটি বন্যায় তলিয়ে থাকতো। বন্যার পর মেঠো পথটি দিয়ে চলাচল করাই দায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় গবাদিপশু সমৃদ্ব দুই গ্রামের মানুষ দুগ্ধ কারখানায় দুধ সরবরাহ সহ যানবাহনে মালামাল পরিবহন করতে পারতো না। এমনকি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দূর্গম এলাকা হওয়ায় এ গ্রামের মানুষরা ছেলে মেয়েদের শহর সহ ভাল গ্রামে বিয়ে পর্যন্ত দিতে পারতেন না। ছিল না বিদ্যুৎ। আঃলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই গ্রামের কৃষকের মাঠের বুক চিরে নির্মিত হয়েছে পাকা সাবমাজিবল রাস্তা। বাড়ি বাড়ি পৌছে গেছে বিদ্যুৎ। গ্রামের বাজার থেকে নানা ধরনের যান বাহনে চড়ে নির্বিগ্নে মানুষ তার প্রয়োজনে যাচ্ছে ২০কি.মি.দুরে উপজেলা শহরে। পরিবহন করছে সব ধরনের মালামাল। সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধা থাকায় রঙ্গিন টিভি,ফ্রিজ সহ নানা আসবাবপত্র। গ্রামের বাজারেই মিলছে শহরের নিত্য প্রয়োজনীয় সব সামগ্রী। একই রকম বদলে গেছে উল্লেখিত উপজেলার অন্য ইউনিয়নগুলোর গ্রামও। প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ সহ রাস্তা-ঘাট,ব্রীজ-কালভাট,স্কুল-কলেজ নানা ভৌত অবকাঠামো উন্নত হয়েছে।

    কালিয়াকৈর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্বা মো.আব্দুল আজিজ জানান,আঃলীগ সরকার ক্ষমতায় এসে আমাদের গ্রামে পাকা সাবমার্জিবল রাস্তা নির্মাণ সহ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মানুষের জীবনে সুখ ফিরে দিয়েছে। আমাদের এই গ্রামগুলোর মানুষেরা এখন বাড়ি থেকে যানবাহনে চড়ে শহরে যায়। যা আমরা আগে কোন দিন কল্পনাও করতে পারিনি। আঃলীগ সরকার ক্ষমতায় আসায় আমরা এই সুবিধা পেয়েছি। আমাদের এই ইউনিয়নে এমন নানা উন্নয়ন হওয়ায় সবাই আঃলীগ সরকারের ধারাবাহাকতার পক্ষেই রয়েছি। একই ইউনিয়নের সুজা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মাষ্টারও জানালেন একই কথা। তার মতে সন্ত্রাস,চাঁদাবাজী,অপহরন সহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে তার এলাকার প্রতিটি মানুষ এই সরকারের ধারাবাহিকতার পক্ষে তাদের রায় দেবেন বলে উল্লেখ করেন।

    চলনবিল অধ্যুষিত উল্লাপাড়া উপজেলার বাঙ্গালা ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল অতি নাজুক। আঃলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ইউনিয়নের দূর্গম গ্রামগুলোতে সাবমার্জিবল রাস্তা,ব্রীজ-কালভাট, বিদ্যুৎ,সৌর বিদ্যুৎ সহ নানা ভৌত অব কাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে। নির্মিত হয়েছে উল্লাপাড়া-তাড়াশ আঞ্চলিক পাকা সড়ক। উপজেলা শহরের সাথে এই ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন নির্বিগ্ন ও সহজ হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান মো.সোহেল রানা জানান,তানভীর ইমাম এমপি হওয়ার পর অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে আমার এলাকায় ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে। এই উন্নয়নের কারনে সাধারন মানুষ এবারও আঃলীগ সরকারের ধারাবাহিকতার পক্ষে বিপুল জনসমর্থন দিবে। একই রকম উন্নয়ন তুলে ধরে উধুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো.আব্দুল জলিল জানান,তার ইউনিয়নের মানুষ উন্নয়ন আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখে আঃলীগ প্রার্থীর পক্ষে রায় দিবে। তাদের মত একই কথা জানালেন উপজেলার অন্য ইউপি চেয়ারম্যানরা। তাদের মতে সরকারের নানা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সহ উন্নয়ন দেখে প্রতিটি ইউনিয়ে সাধারন মানুষ আঃলীগ প্রার্থীর পক্ষে সংসদ নির্বাচনে ভোট বিপ্লব ঘটাবে।

    করেসপন্ডেন্ট, উল্লাপাড়া ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 245 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    উল্লাপাড়া অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    8474450
    ২২ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন