দিগন্ত ছুঁয়ে যাওয়া ‘সাজেক ভ্যালী’
১৭ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৬:১২ অপরাহ্ন


  

  • কাজিপুর/ অন্যান্য:

    দিগন্ত ছুঁয়ে যাওয়া ‘সাজেক ভ্যালী’
    ০৮ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৪:৩৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    আবদুল জলিলঃ মেঘ-পাহাড়ের রাজ্যের নাম ‘সাজেক ভ্যালী’। অনেকে সাজেক ভ্যালী’কে বাংলাদেশের ভূস্বর্গ বলে থাকেন। আকাশের নীল যেন এখানে এসে দিগন্ত ছুয়েছে। চারপাশে যতদূর দৃষ্টি যায়, ছোট-বড় সবুজ পাহাড়। উপর থেকে দৃষ্টি মেললে যেন সবুজ সমুদ্রের ঢেউ। একটি থেকে আরেকটি পাহাড়ের মাঝে যেন আটকে আছে সাদা মেঘের ভেলা। সাজেকের চারপাশটা যেন এক সজীব ছবি।

    দেশের অন্যতম বৃহত্তম ইউনিয়ন সাজেক। পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় এ ইউনিয়ন। তবে সাজেকে যেতে হয় পাবর্ত জেলা খাগড়াছড়ি হয়ে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা এবং বিকাল ৩টায় বাঘাইহাট আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করার পর সকল গাড়ী একযোগে সাজেকের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে গেছে আঁকা-বাঁকা পিচঢালা সড়ক। যাওয়ার পথে কখনো গাড়ীগুলো আকাশের দিকে, এবং কখনো পাহাড়ের গহীনের দিকে চলতে থাকে। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে পাহাড়ী শিশুরা হাত নেড়ে অতিথিদের অভিবাদন জানাই।

    খাগড়াছড়ি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পাহাড়ী পথের শেষে সাজেক। সমুদ্রপিষ্ট থেকে প্রায় ১৮০০ ফুট উচ্চতায় পাকা সড়কের দু’পাশে পায়ে হেটে চলার জন্য রয়েছে পরিচ্ছন্ন ফুটপাত। পাহাড়ীদের এবং পর্যটকদের জন্য রয়েছে রঙ্গিন সব কটেজ। পাহাড়ের উপত্যকায় সাজানো-গোছানো শহরের নাম সাজেক। যা পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে। সাজেকে রুইলুই ও কংলাক নামে দু’টি পাড়া রয়েছে। পর্যটকরা অবস্থান করেন রুইলুই পাড়ায়। সেনাবাহিনী পরিচালিত সাজেক ও রুনময় নামে দু’টি রিসোর্ট রয়েছে। এছাড়া বেসরকারী উদ্যোগে বেশ কিছু রিসোর্ট রয়েছে পাহাড়ের ঢালে। এসব রিসোর্টের বারান্দায় বসেই মেঘ-পাহাড়ের মিতালী দেখার সুযোগ মেলে। 

    কংলাক পাড়ায় গাড়ী নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এজন্য পায়ে হেটে পাহাড় বয়ে উঠতে হয়। সাজেকে এটাই সবচেয়ে উঁচুস্থান। কংলাক পাড়া থেকে এক নজরে সাজেক দেখার সুযোগ মেলে। তবে সাজেকে হ্যালিপ্যাডে পর্যটকরা গোধূলী বরণ করেন। এখানে বসেই দল বেঁধে গান ধরেন পর্যটকরা। সন্ধ্যা নামার পরে অনেকে ফানুস উঁড়িয়ে দেন। তবে অন্ধকারটা ঘনিভূত হবার সাথে সাথেই সবাই ফিরে আসেন রুইলুই পাড়ায়। এখানে সড়কের পাশে পাহাড়ীরা কমলা, আনারস, কলা, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফল বিক্রি করেন। পাহাড়ের এসব ফল খুব সুস্বাদু। 

    নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাজেক। এখানে ভোরের আলো ফোটার আগেই কটেজ ছেড়ে পর্যটকরা ছুটে যান হ্যালিপ্যাডে। সেখান থেকে দেখা মেলে সূর্য উদয়ের দৃশ্য। পূর্ব পাশে ভারতের মিজোরাম। সাজেক থেকে দেখলে মনে হয় মিজোরামের পাহাড়ে ভর দিয়ে আছে আকাশটা। ওই পাহাড়ের ওপাশ থেকে আকাশটা লাল করে ফুটে ওঠে ভোরের সূর্য। আলো ফোটার পর চোখে পড়বে মিজোরাম ও সাজেকের মাঝে পাহাড়ের চূড়ায় সাদা মেঘের দল ভাসছে। এ যেন মেঘপুরী।

    সাজেক যেতে হয় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি হয়ে। খাগড়াছড়ি থেকে জিপ (স্থানীয় নাম চাঁদের গাড়ী) বা সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় যেতে হবে সাজেক ভ্যালী। পর্যটকদের জন্য সেখানে থাকা ও খাওয়ার সকল ব্যবস্থা রয়েছে। সাজেকে বর্ষাকালে রোদ, বৃষ্টি ও মেঘের দেখা মেলে রংধনূ’র। শীতকালে কুয়াশার সাথেও দেখা মিলবে মেঘের। বর্তমানে পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে রানী সাজেক। 

    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,কাজিপুর ০৮ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৪:৩৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 89 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    কাজিপুর অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    8409037
    ১৭ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৬:১২ অপরাহ্ন