উল্লাপাড়ায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি জটিলতায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী
১৭ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৬:২৩ অপরাহ্ন


  

  • উল্লাপাড়া/ শিক্ষা:

    উল্লাপাড়ায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি জটিলতায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী
    ১১ জানুয়ারী, ২০১৯ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত

    উল্লাপাড়া প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি জটিলতায় পড়েছে প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী। এ সকল শিক্ষার্থী পৌর শহরের - উল্লাপাড়া মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুল, উল্লাপাড়া মার্চেন্টস পাইলট মডেল সরকরী উচ্চ বিদ্যালয়, এইচ. টি. ইমাম গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, উল্লাপাড়া সানফ্লাওয়ার স্কুল এবং উল্লাপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে।

    গত বছরের তুলায় এ বছরে আসন সংখ্যা সীমিত করায় নতুন করে ভর্তির সুযোগ হারিয়েছে অনেক শিক্ষার্থী। হঠাৎ করে ওই স্কুল গুলোর আসন সংখ্যা কমানোয় ভর্তি জটিলতায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা, হতাশা বিরাজ করছে আভিভাবকদের মাঝে ।

    জানা যায় গত বছর এইচ. টি. ইমাম গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল ২৯৫ জন নারী শিক্ষার্থী কিন্তু এ বছর ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ১ শত ৮০ জন শিক্ষার্থী। উল্লাপাড়া মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুলে গত বছর ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল ২ শিপ্টে ৩ শত শিক্ষার্থী । এ বছরও ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ৩ শত জন শিক্ষার্থী। উল্লাপাড়া মার্চেন্টস পাইলট মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে গত বছর ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল ২৪০ জন। এ বছর ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ১২০ জন। এ ছাড়াও উল্লাপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে গত বছর ভর্তি হয়েছিল ৩ শত জন । এ বছর ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ২ শত জন।

    ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির আসন সংখ্যা সীমিত করায় পৌর শহরের স্কুল গুলোতে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র জটিল প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন করা হয়েছিল। এতে কিছু শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেলেও বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই ভর্তির সুযোগ হারিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে কমলমতি শিক্ষার্থীরা। সরকার যখন দেশের শিক্ষার হার বাড়াতে বদ্ধকর, ঠিক তখনই উল্লাপাড়ার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে শিক্ষার মান উন্নয়নের দোহাই দিয়ে আসন সংখ্যা সিমিত করছে । ভর্তি হতে না পাড়া ওই ৩ শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত কি ?

    উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ মারুফ বিন হাবিব জানান - ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হতে না পেরে প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ভর্তির সুপারিশের জন্য এসেছিল । ভর্তির বিকল্প ব্যবস্থা না করে হঠাৎ স্কুল কতৃপক্ষ আসন সংখ্যা সীমিত করায় ভর্তি জটিলতায় পরেছে ৩ শত শিক্ষার্থী । উল্লাপাড়া পৌর শহর বেষ্টিত গ্রাম - ঘোষগাঁতী, ঝিকিরা, শ্যামলীপাড়া, কাওয়াক, শ্রীকোলা, বাড়ইয়া, গুচ্ছগ্রাম, এনায়েতপুর, চরঘাটিনা, নিকটবর্তী গ্রাম - বাখুয়া, নাগরৌহা, খালিয়াপাড়া, বেতবাড়ি, চর-সাতবাড়িয়া, পূর্ব-সাতবাড়িয়া, রামকান্তপুর, কালিগঞ্জ, চর-কালিগঞ্জ, এ সকল এলাকার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার একমাত্র বিদ্যানিকেতন পৌরশহরের ওই স্কুলগুলো। কমলমতী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অর্জনের জন্য উপরের উল্লেখিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়া কোন বিকল্প নেই। এই এলাকার শিক্ষার্থীরা পৌর শহরের স্কুল গুলোর ওপর নির্ভরশীল।

    ২০১৮ সালে উল্লাপাড়া উপজেলায় ২৭৮টি প্রার্থমিক বিদ্যালয় থেকে ৯ হাজার ৫ শত ৮২ জন শিক্ষার্থী প্রার্থমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে । এর মধ্য থেকে ৮৯৬ জন শিক্ষার্থী জিপএ+৫ পেয়েছে । জিপিএ+৫ পাওয়া শিক্ষার্থী এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলার মেধাবি কিছু শিক্ষার্থী ভালো স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য উল্লাপাড়ার স্বনাম ধন্য নাম করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠন - উল্লাপাড়া মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুল,উল্লাপাড়া মার্চেন্টস পাইলট মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, এইচ টি ইমাম গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, উল্লাপাড়া সানফ্লাওয়ার স্কুল ও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করে । ভর্তি পরীক্ষায় আসন অনুযাই শিক্ষার্থী ভর্তি করলেও বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি ।

    এ বছর পৌর এলাকার ১৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৮৯২ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসি) উত্তীর্ণ হয়েছে এবং পৌর শহরের নিকটবর্তী ১০ টি গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী পিইসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এদের মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী বাইরে ভর্তি হলেও বেশির ভাগ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে পৌরশহরের স্কুলগুলোতে। কিন্তু আসন সংখ্যা সিমিত হওয়ায় প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী উল্লেখিত স্কুল গুলোতে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হতে পারছে না ।

    এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, কোন বিদ্যালয়ে যদি নিয়ম বর্হিভূত কাজ করে, অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভর্তির আসন সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তির নীতিমালা রয়েছে। কিন্তু বেসরকারি এবং এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে, স্কুল পরিচালনা কমিটি আলোচনা সাপেক্ষে আসন সংখ্যা নিধারন করবে ।

    এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মর্চেন্টস পাইলট মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, এইচ টি ইমাম গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, উল্লাপাড়া সানফ্লাওয়ার স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুজ্জামান জানায় স্কুল গুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষে এবং সরকারী নিতিমালার আলোকে স্কুল পরিচালনা কমিটির সাথে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমেই আসন সংখ্যা সিমিত করা হয়েছে।

    করেসপন্ডেন্ট, উল্লাপাড়া ১১ জানুয়ারী, ২০১৯ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 230 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    উল্লাপাড়া অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    8409233
    ১৭ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৬:২৩ অপরাহ্ন