চারা পেঁয়াজ রোপনে ব্যস্ত রাজশাহীর চাষি
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৫:৪৯ অপরাহ্ন


  

  • উত্তরবঙ্গ/ কৃষি ও খাদ্য:

    চারা পেঁয়াজ রোপনে ব্যস্ত রাজশাহীর চাষি
    ১৪ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৪:৪২ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    দাম ভাল থাকুক আর মন্দ থাকুক আমাদের এলাকায় ব্যাপকভাবে পেঁয়াজ চাষ হয়ে থাকে। মসলা ও সবজি ফসলের দাম ভাগ্যের ওপরে নির্ভর করে। মাটির বুক চিরে হাড়ভাঙ্গা শ্রম দিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মাথায় নিয়ে ফসল উৎপাদন করতে হয় চাষিদের। ফসলের দাম বাড়লে কর্তা ব্যক্তিদের রোষানলে পড়তে হয়। তখন দাম কমানোর জন্য বাজার মনিটরিং ছাড়াও নামানো বাহিনী। আর কম থাকলে চাষি নামক এই আমজনতার খোঁজ নেয় না কেহ। এখন সময় এসেছে সরকারিভাবে প্রতিটি ফসলের দাম নির্ধারণ করার। তাতে কৃষক এবং ভোক্তা কেউ ঠকবেন না-কথাগুলো বললেন জেলার বাগমারা উপজেলার মাড়িয়ার দাসপাড়া গ্রামের কৃষক জেকের আলী।

    বেশ কিছুদিন থেকে নতুন কন্দ পেঁয়াজ বাজারে এসেছে। রাজশাহীতে ফলনও হয়েছে মোটামুটি। পেঁয়াজের দাম মিলছে না। এতে অবশ্য ক্রেতারা খুশি হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছে চাষিরা। এরপরও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষীরা জেলার বিভিন্ন মাঠে পেঁয়াজের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

    রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, এবারে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১৪ হাজার ৯শ’ ১০ হেক্টর (১ লাখ ১১ হাজার বিঘা) জমিতে পেঁয়াজের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এরমধ্যে কন্দ পেঁয়াজ ৫ হাজার ৭৩০ হেক্টর এবং চারা (আল্ বা পোইল) পেঁয়াজ ৯ হাজার ১৮০ হেক্টর। কন্দ পেঁয়াজের রোপনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। আর পেঁয়াজের এ পর্যন্ত রোপন হয়েছে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর।

    রাজশাহীসহ বিস্তির্ণ বরেন্দ্রাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে পেঁয়াজ চাষ। পেঁয়াজ চাষে এ অঞ্চলের আবহাওয়া টেকসই হওয়ায় কৃষি বিভাগ, কৃষক ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিরা এ মৌসুমে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন আশা করছেন।

    বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি কাঁচা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮-২০ টাকায়। তবে পাইকারি বাজারে সাড়ে ১২ টাকা কেজি। এই দামে লোকসান গুনছে চাষিরা। অথচ গত বছর এ সময়ে পেঁয়াজের দাম ছিল আকাশ ছোঁয়া।

    পেঁয়াজ চাষী হাফিজ সরকার জানান, প্রতি বিঘা পেঁয়াজ রোপনে চাষাবাদসহ উঠা পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবাদ ভাল হলে প্রতি বিঘায় উৎপাদন হবে প্রায় ৫০-৫৫ মণ (প্রতি ৪০ কেজি)।

    মোহনপুর উপজেলার কালিগ্রাম খাজুরা গ্রামের কৃষক হজের আলী জানান, গতবার তিনি ৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন। কিছু পেঁয়াজ প্রথমে বিক্রি করে ঠকেছিলেন। তবে অবশিষ্ট পেঁয়াজে তিনি ভাল দাম পেয়েছিলেন। এবারে পেঁয়াজের দাম কম থাকায় তিনি ১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপন করবেন বলে জানান।

    এবারে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১৪ হাজার ৯শ’ ১০ হেক্টর (১ লাখ ১১হাজার বিঘা) জমিতে পেঁয়াজের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যার মধ্যে মতিহারে ২৫ হেক্টর, বোয়ালিয়ায় ৩০ হেক্টর, পবা উপজেলায় ৯২৫ হেক্টর, মোহনপুর উপজেলায় ৫৩৫ হেক্টর, বাগমারায় ৩ হাজার ৮শ’ হেক্টর, চারঘাটে ৪১০ হেক্টর, পুঠিয়ায় ৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর, তানোরে ৪১০ হেক্টর, গোদাগাড়িতে ১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর, বাঘায় ৫৮০ হেক্টর ও দুর্গাপুর উপজেলায় ২ হাজার ৯শ’ হেক্টর। এরমধ্যে কন্দ পেঁয়াজ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। আর চারা রোপনে ১৩ জানুয়ারী পর্যন্ত চাষীরা পেঁয়াজ রোপন করেছেন প্রায় ৩ হাজার হেক্টর।

    এ ব্যাপারে কৃষি সম্পসারণ বিভাগের উপপরিচালক শামসুল হক জানান, উৎপাদনের বিষয়টা কৃষি বিভাগ দেখভাল করে থাকে। আর দাম বাড়বে না কমবে সেটা নির্ভর করে বাজার ব্যবস্থাপনার ওপরে।

    কৃষকদের দাম না পাওয়ার ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, মার্কেটিং (বাজার ব্যবস্থাপনা) নিয়ে মন্তব্য তার পক্ষে কঠিন। কেননা বাজারের দাম নির্ধারিত হয় চাহিদা ও যোগানের ভিত্তিতে। তবে এ কথা সত্য গত বছরের তুলনার এবার পেঁয়াজের দাম অনেক কম।

    নিউজরুম ১৪ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৪:৪২ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 108 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    উত্তরবঙ্গ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    8851030
    ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৫:৪৯ অপরাহ্ন