তাড়াশের হাট -বাজারে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল খেজুর গুড়
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৩:২৫ অপরাহ্ন


  

  • তাড়াশ/ অপরাধ:

    তাড়াশের হাট -বাজারে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল খেজুর গুড়
    ২৪ জানুয়ারী, ২০১৯ ১২:৪৮ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    এম এ মাজিদ: তাড়াশের হাট -বাজারে মৌসুমী খেজুর গুড়ের দামের চেয়ে চিনির দাম কম হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে কিছু অসাধু গাছিয়ারা চিনি মেশানো ভেজাল খেজুর গুড় উৎপাদন ও বিক্রি করছেন। এতে হুমকির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। বিশেষ করে খেজুর গুড়ের ক্ষতিকারক হাইড্রোজ ও ফিটকারি ব্যবহার করায় জন-স্বাস্থ্যর  জন্য খেজুর গুড় হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। এতে ভোক্তা সাধারণ অর্থনৈকি  ও স্বাস্থ্যে উভয়  দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ  হচ্ছেন। 


    সরেজমিন,সিরাজগঞ্জের উপজেলার নওঁগা, বিনসাড়া, নাদোসৈয়দপুর, বারুহাস,ধামাইচ ও গুল্টা হাটসহ বিভিন্ন-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে যে সকল গুড় বিক্রি হচ্ছে তার অধিকাংশ চিনি মেশানো। বিশেষ করে গুড়ের রং আকর্ষণীয় করতে এবং গুড়ের ময়লা কাটাতে ক্ষতিকারক ক্যামিকেল হাইড্রোজ ও ফিটকারি ব্যবহার করা হচ্ছে।  স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন বেশি লাভবান হওয়ার আশায় গাছিয়ারা  প্রতি কেজি খেজুর গুড়ে ৪’শ থেকে ৫’শ গ্রাম পর্যন্ত চিনি মেশাচ্ছে । বাজারে প্রতি কেজি চিনির মূল্য ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। আর খেজুর গুড় বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে কেজি প্রতি ৮০ থেকে ১’শ টাকা দরে।

     
    জানা গেছে,   গ্রামাঞ্চলে যে সকল গাছিয়ারা খেজুর গাছ বাৎসরিক লিজ নিয়ে এলাকায় যে গুড় তৈরী করছেন তাতে চিনি, ক্ষতিকারক ক্যামিকেল হাইড্রোজ ও ফিটকারি  মেশানোর হার বেশী।  চলনবিলের বিনসাড়া গ্রামের গাছিয়া বক্কার মিয়া  জানান, শুধুমাত্র  গৃহস্থের গুড়ে ভেজাল থাকে না । তবে যারা ব্যবসা করার জন্য খেজুর বাগান লিজ নিয়ে  গুড় তৈরী করেন তাদের অধিকাংশই গুড়ে চিনি মেশানো হয়। মূলতঃ বেশী লাভের আশায় তারা এ কাজ করছেন। যা তাদের কাছে এটা কোন ব্যাপারি না ।  একাধিক গাছিয়াদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শীত যত বেশী পড়ে খেজুর গাছ হতে তত বেশী রস পাওয়া যায়। কিন্ত গত কয়েক বছরের শীতের তীব্রতা  কম। যার কারণে রস সংগ্রহের পরিমানও কমে যাচ্ছে। 


    এদিকে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে অবাদে গাছ নিধন ও পরিকল্পিত ভাবে খেজুর গাছ রোপন না করায় আগের মত গ্রামের বাগান বাড়ি, পুকুর পাড়ে, খেজুর গাছের সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে। পক্ষান্তরে শীতকালে খেজুর গুড়ের চাহিদা এখনো রয়েছে। মুলতঃ গ্রামাঞ্চলে ঝোপ ঝার পরিস্কারের নামে আগাছার সাথে খেজুর গাছও কেটে ফেলা হচ্ছে।  এতে করে খেজুর গাছের সংখ্যাও দিন দিন কমছে। আমাদের দেশের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য  শীতকালে প্রতিটি বাড়িতে ছেলে-মেয়ে, জামাই ও আত্মীয় স্বজনরাদের নিয়ে যে পিঠার আয়োজন করা হয়। তাতে খেজুর গুড় না হলে যেন  শীতের পিঠার মজাই থাকে না। শীতে দেশ বিদেশে খেজুর খেজুর গুড়ের চাহিদা  থাকায় মৌসুমী  গুড় তৈরীতে যারা নিয়োজিত তারা চিনি ও ক্ষতিকারক ক্যামিকেল হাইড্রোজ ও ফিটকারি ব্যবহারের মাধ্যমে ভেজাল  গুড় তৈরী করছেন ।  

     

    এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ শিমুল তালুকদার দৈনিক মানবজমিনকে জানান,  গুড়ে মেশানো চিনি ক্ষতিকারক নয়। কিন্তু টাকাদিয়ে চিনি মেশানো খেজুর গুড় কিনে ক্রেতা সাধারন প্রতারিত হচ্ছেন। অন্যদিকে  খেজুর গুড়ে ক্ষতিকারক ক্যামিকেল হাইড্রোজ ও ফিটকারি ব্যবহারের ফলে ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা সহ নানা রোগে রোগাক্রান্ত হতে পারেন।  যা স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিও বটে ।

    সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ ২৪ জানুয়ারী, ২০১৯ ১২:৪৮ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 139 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    তাড়াশ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    8837258
    ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৩:২৫ অপরাহ্ন