জমি হারাচ্ছে উৎপাদন ক্ষমতা চলনবিলে ফসলী জমির উর্বর মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৬:০৩ অপরাহ্ন


  

  • / তাড়াশ:

    জমি হারাচ্ছে উৎপাদন ক্ষমতা চলনবিলে ফসলী জমির উর্বর মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়
    ২৮ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত

    এম এ মাজিদ : শস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিল এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন অমান্য করে যত্র-তত্র ভাবে ফসলী জমিতে বেপরোয়া ভাবে গড়ে উঠেছে ইটভাটা । এসব ভাটায় ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ফসলী জমির উপরি অংশের উর্বর মাটি। বিল এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালী মহল ফসলী জমি নষ্ট করে গড়ে তুলেছে অসংখ্য ইটভাটা। এর মধ্যে শুধু তাড়াশ উপজেলাতেই বেপোরোয়া ভাবে গড়ে উঠেছে ৮টি ইট ভাটা। ভাটা গুলো হলো উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নে নাবিলা সুপার ব্রিকস, বন্যা ব্রিকস,সাদিয়া ব্রিকস,আখী ব্রিকস, মেঘনা ব্রিকস,এম আরএইচ ব্রিকস ও নওগাঁ  ইউনিয়নে এমএমবি ব্রিকস ও এইচ এন্ড কে ব্রিকস অবস্থিত।  


    পরিবেশ্ ও বন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে হাইব্রিড হফম্যান জিগ-জ্যাগ,ভার্টিক্যাল শ্যাফট ক্লিন অথবা পরীক্ষিত নতুন প্রযুক্তির পরিবেশ বান্ধব ইটভাটা করার কথা থাকল্ওে চলনবিল এলাকার ইটভাটাতে পড়ানো হচ্ছে বাংলা ও ড্রাম চিমনি এবং কাঠ। তবে ভুক্ত ভোগীদের অভিযোগ পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে এসব ইটভাটা। আর ভাটায় কাঠ পোড়ানোর দরুন ভাটা এলাকায় পরিবেশ হচ্ছে দুষিত।


    অনুসন্ধানে জানা যায়, ফসলী জমি মালিকদের ভুল ভাল বুঝিয়ে সামান্য মূল্য দিয়ে ১০ থেকে ১৫একর ফসলী জমির জায়গা দখলে রেখে চলছে ইট ভাটার কার্যক্রম। ভাটার প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ফসলী জমির মালিকগনের জমিতে হচ্ছে ফলন বির্পয়য়। তাছারা ভাটা মালিকরা অসহায় গরীবদের অভাবের সুযোগ নিয়ে অর্ধেক মূল্যে অগ্রীম শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য করে। ফলে ভাটা এলাকার বাসিন্ধারা বাধ্য হয়েই শিশু শ্রম বিক্রি করে থাকে। যার ফলশ্রতিতে শিশুরা স্কুলে বিমুখ হয়ে শ্রম বিক্রি করছে এসব ইটভাটায়। একারুনেই এলাকা গুলোতে দিন দিন শিশু শ্রম বেড়েই চলছে। এ ছাড়াও অনায়াসে  ইট ভাটায় জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করছে বনের কাঠ। এমকি ইট তৈরিতে ছয় থেকে সাত ধরনের ডাইস ব্যাবহার করা হচ্ছে এবং ইটের আকার ছোট  করে প্রতিনিয়ত ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করছে ভাটা মালিকরা।
    এলাকার একাধিক কৃষক দুঃখ করে বলেন, ইট ভাটা গুলো চালূু করার ফলে ইট পোড়ানো ধূয়ায় এলাকার ৩ ফসলী জমির উর্বর মাটি পুড়ে যাচ্ছে যার প্রভাব পরছে ফসলের উপর। মৌসুমি বিভিন্ন ফলের মুকুল ঝরে যাচ্ছে ভাটার দূর্ষিত ধূয়ায়। সাথে সাথে পরিবেশ দূষণসহ শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুকিও বাড়ছে।  ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রন) আইন ২০১৩ এর ৪/১৪ ধারায় পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষন ও উন্নয়নের স্বার্থে আধুনিক প্রযুক্তির জিগজ্যাগ ক্লিন হাইব্রিড হফম্যান ক্লিন অনুরুপ উন্নতর কোনে প্রযুক্তির ইট ভাটা স্থাপন করার বিধান থাকলেও তার কোনটায় না মেনে ইট ভাটার মালিকগন অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকার ব্যবসা করে যাচ্ছেন।

    ইহা ছাড়া ইট তৈরিতে জমির উপরি ভাগের উর্বর ১ থেকে ৩ ফুট মাটি ব্যবহার করায় জমি উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। পাশা-পাশি ওই জমি গুলো নিচু হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে চাষের অনুপযোগী হয়ে পরছে। এর প্রভাব পরছে পার্শ্ববর্তি আবাদি জমিতেও। যে কারুনে শস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিল এলাকা শস্য শুন্য হওয়ার উপক্রম। আর এই উর্বর মাটির জন্য ভাটা মালিকগন ট্রাক ডাইভারদের ব্যবহার করে থাকেন। ট্রাক ডাইভার অভাবের তাড়নায় ভাটা মালিকদের কাছ থেকে অগ্রীম টাকা নেওয়ার ফলে বাধ্য হয়েই যেকোন মূল্যে জমি মালিকদের সাথে প্রতারণার করে জমির উপরি ভাগের উর্বর মাটি সংগ্রহ করে।এদিকে ভাটাগুলোতে অবাদে কয়লার পরির্বতে কাঠ পোড়ানোর ফলে পরিবেশ দূষনের পাশা-পাশি চলনবিল এলাকা হচ্ছে উজার। আর এর বিরুপ প্রভাব পরছে পরিবেশের উপর।
    এবিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য ভাটা মালিদের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।  চলনবিলের মধ্যেস্থলে অবস্থিত কৃষি নির্ভর তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম দৈনিক মানবজমিনকে বলেন,  ভাটার মালিকগন ৩ ফসলী জমি নষ্ট করে যে ইট ভাটা স্থাপন করেছেন তা সম্পর্ন অবৈধ। উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে দু-একটি ছারা কোন ভাটার মালিকগন ছাড়পত্র নেয়নি। যত্রতত্র ভাবে ইট ভাটা স্থাপন করায় এলাকার পরিবেশ ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ইট তৈরীতে ফসলি জমির উপরি অংশের উর্বর মাটিকে টপ সয়েল বলা হয়। একবার টপসয়েল নষ্ট হলে ২০ বছরেও তা পুরুন সম্ভব হয় না। ফলে জমি হারাচ্ছে উৎপাদন ক্ষমতা।

    সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ ২৮ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 161 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    তাড়াশ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    8851240
    ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৬:০৪ অপরাহ্ন