ভারতীয় গরুর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি বিশাল সিন্ডিকেট
২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০৭:১২ পূর্বাহ্ন


  

  • উত্তরবঙ্গ/ অপরাধ:

    ভারতীয় গরুর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি বিশাল সিন্ডিকেট
    ১০ এপ্রিল, ২০১৯ ০৫:০১ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    বেশ কিছু দিন বন্ধ থাকলেও গত এক মাস ধরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা সীমান্তসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু আবারও বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে। সিন্ডিকেটের সমঝোতার ভিত্তিতে প্রতি রাতে শত শত ভারতীয় গরু সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। ট্রাকের পরিবর্তে এখন গরুর পা বেঁধে হাইয়েস মাইক্রোবাসের ভিতরে ঢুকিয়ে গরুগুলো দহগ্রাম করিডোর পার করছে চোরাচালানিরা। 

    ভারতীয় গরুর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি বিশাল সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিদিন রাতে স্থানীয়  জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিজিবি-পুলিশসহ প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার মাঝে ভাগাভাগি হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এ সিন্ডিকেটের আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে বেশ কিছু দিন ভারতীয় গরুর প্রবেশ বন্ধ ছিলো। সম্প্রতি সিন্ডিকেটের সমঝোতা হওয়ায় আবারও ভারতীয় গরু আসতে শুরু করায় বাংলাদেশের হাটগুলোতে গরুর দাম কমতে শুরু করেছে। ভারতীয় গরুর কারণে ভালো দাম পাচ্ছেন না দেশীয় গরু খামারিরা। দেশীয় খামারগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ গরু মজুদ থাকলেও ভালো দাম না থাকায় তা বিক্রি করতে পাচ্ছে না খামারীরা। 

     

    জানা গেছে, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহল দিয়ে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশের গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমঝোতায় দীর্ঘদিন ধরে গরুর ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছে। চোরাইভাবে আসা গরুগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করে ৫ শত টাকা মূল্যে নিলামের কাগজ সংগ্রহ করে বৈধতা পায়। যাকে গরু করিডোর বলে। কিন্ত বর্তমানে রহস্যজনক কারণে করিডোর বন্ধ থাকায় ভারতীয় গরু ব্যবসাকে নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা সীমান্তসহ ওই উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত গুলো দিয়ে প্রতিদিন শত শত ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

    দেশীয় গরু খামারীদের অভিযোগ, ভারতীয় গরুর কারণে নিজেদের পালিত গরু বিক্রি করতে পারছেন না তারা। এতে তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

    এ দিকে এক জোড়া ভারতীয় গরু বাংলাদেশের হাটে বিক্রি করে সন্ধ্যায় গরু ব্যবসায়ীদের ওই সিন্ডিকেটকে দিতে হয় ২৫ হাজার টাকা। প্রতিদিন ওই সিন্ডিকেটের আয় লক্ষ লক্ষ টাকা। ওই টাকার ভাগ রাতেই লাইনম্যানের মাধ্যমে চলে যায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিজিবি-পুলিশসহ প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার কাছে। এ ভাগ নিয়ে বেশ কিছু দিন আগে বর্তমান দহগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ও প্রাক্তন ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের সমর্থকদের মাঝে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে ভারতীয় গরুর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি ভারতীয় গরু ব্যবসা নিয়ে এ দ্বন্দ্ব নিরসনে ওই সিন্ডিকেটের সমঝোতা বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে সমঝোতার ভিত্তিতে গত এক মাস ধরে আবারও ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। ভারতীয় গরু প্রবেশের ফলে তারা নিজের পালিত গরু বিক্রি করতে পারছে না। এ ছাড়া ভারতীয় গরু প্রবেশের কারণে লোকসানের মুখে পড়েছে দেশীয় গরু খামার মালিকরা। 

    জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দঃ গড্ডিমারী গ্রামের গরু খামারী তছির উদ্দিন জানান, ভারত থেকে গরু আসার কারণে আমাদের লক্ষ লক্ষ টাকা লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। ব্যাংক থেকে লোন করে গরুর খামার করে এখন বিপাকে পড়েছি। 

    পাটগ্রাম উপজেলার পানবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পের ইনচার্জ সুবেদার খসুরুল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, করিডোর বন্ধ থাকায় দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে এখন ভারতীয় গরু আসছে না। বিএসএফ ও বিজিবি’র চোখ ফাঁকি গরু পারাপারের কোনো সুযোগ নেই। 

    পাটগ্রাম থানার ওসি মনছুর আলীও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে আপাতত ভারতীয় গরু আসছে না।

    কেউ যদি ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ নষ্ট করতে চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    নিউজরুম ১০ এপ্রিল, ২০১৯ ০৫:০১ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 67 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    উত্তরবঙ্গ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    9561259
    ২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০৭:১২ পূর্বাহ্ন