অগ্নিদগ্ধ শিশু গৃহপরিচারিকা মিনা মৃত্যুর প্রহর গুনছে
২০ মে, ২০১৯ ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন


  

  • জাতীয়/ অন্যান্য:

    অগ্নিদগ্ধ শিশু গৃহপরিচারিকা মিনা মৃত্যুর প্রহর গুনছে
    ২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০৫:১৬ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    মাসুদ রানা,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট টাঙ্গাইলঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে অগ্নিদগ্ধ শিশু গৃহপরিচারিকা মিনার (১২) শরীরে পচঁন ধরায় মৃত্যুর প্রহর গুনছে বলে জানা গেছে। সে উপজেলার নন্দপাড়া গ্রামের কাজী আব্দুল হকের মেয়ে। গত বছরের ১২ই ডিসেম্বর পৌরএলাকার থানা পাড়ায় প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলামের বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজের সময় গ্যাসের চুলায় চা বানাতে গিয়ে মিনা অগ্নিদগ্ধ হয়। কিন্তু প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আগুনে দগ্ধ মিনাকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে তার দরিদ্র বাবার বাড়ীতে রেখে চলে যায়। এর পর থেকে মিনার বাবা কাজী আব্দুল হক তার মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

    মেয়ের জীবন বাচাঁতে হতদরিদ্র পরিবারটি নিজের সহায়সম্বল হারিয়ে এবং ধার দেনা করেও অগ্নিদগ্ধ সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারছেন না। ঘটনার এতদিন অতিবাহিত হলেও সুচিকিৎসার অভাবে মিনার পুড়ে যাওয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচঁন ধরে ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছে। অগ্নিদগ্ধ মিনার বাবা কাজী আব্দুল হক অভিযোগের সুরে এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি দিনমুজরের কাজ করে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন-যাপন করে আসছিলাম। আমার সংসারের অভাবের দূর্বলতার সুযোগে পার্শ্ববর্তী সলিল গ্রামের সাধু মিয়া আমার মেয়েকে তার আত্মীয় প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলামের বাসায় গৃহপরিচারিকার (ছেলে-মেয়ে দেখাশুনার) কাজ নিয়ে দেয়। কিন্তু ওই পরিবার আমার নাবালিকা মেয়েকে দিয়ে রান্না-বান্নার কাজ করাতে থাকেন।

    এক সময় সংবাদ পাই আমার মেয়ে মিনা হঠাৎ অসুস্থ্য হয়েছে। সেসময় আমি এবং আমার স্ত্রী মিনাকে দেখতে টাঙ্গাইলে প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলামের বাসায় গেলে জানতে পারি আমার মেয়ে মিনা অগ্নিদগ্ধ হয়েছে তাকে (মিনাকে) টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে মিনা সঙ্গাহীন অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মিনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করেন। পরে প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম কৌশলে আমার মেয়ে মিনাকে সদর হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় না নিয়ে আমার বাড়ীতে রেখে যায়।

    এর পর থেকে ওই প্রকৌশলীর পরিবার আজ পর্যন্ত আমার মেয়ের চিকিৎসার কোন প্রকার খোজখবর নেয়নি। প্রথমে আমার সহায়সম্বল বিক্রি করে ও ধার-দেনা করে আমি আমার মেয়ে মিনার চিকিৎসা করালেও বর্তমানে অর্থের অভাবে মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমি সমাজের বিত্তবান লোকদের কাছে আমার মেয়ের সুচিকিৎসায় সাহায্য কামনা করছি পাশাপাশি যে পরিবারের কারনে আজকে আমার মেয়ের এই অবস্থা তাদের শাস্তি দাবী করছি।

    সহবতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. তোফায়েল মোল্লা বলেন, এ মর্মান্তিক এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে আমি আব্দুল হকের বাড়ী গিয়ে অগ্নিদগ্ধ মিনার খোঁজখবর নেই এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। বর্তমানে সে বার্ন ইউনিটের ৩নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরে আমি প্রকৌশলী মো. শফিকুলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি মিনার চিকিৎসা করানোর ব্যবস্থার কথা স্বীকার করলেও এখন ওই প্রকৌশলীর কোন পাত্তা পাওয়া যাচ্ছে না।

    এ ব্যাপারে প্রকৌশলী মো.শফিকুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মিনা আমার বাসায় কাজ করার সময় গ্যাসের চুলায় অগ্নিদগ্ধ হয়। আমি তার সকল প্রকার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।

    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, টাংগাইল ২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০৫:১৬ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 99 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    জাতীয় অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    9911839
    ২০ মে, ২০১৯ ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন