বগুড়ার শিবগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রাম দেউলীতে শ্বেত পাথরের রাজপ্রাসাদ
২৫ মে, ২০১৯ ০৪:২১ অপরাহ্ন


  

  • উত্তরবঙ্গ/ অন্যান্য:

    বগুড়ার শিবগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রাম দেউলীতে শ্বেত পাথরের রাজপ্রাসাদ
    ২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০৮:২৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে টিনের বেড়া।পুরো গ্রাম জুড়ে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের বসবাস।এখানে উঁচু তলার ভবন করার সামর্থ্য নেই কারও। কিন্তু গ্রামে ঢুকতেই শ্বেত পাথর দিয়ে তৈরি বিশাল দুটি অট্টালিকা নজর কাড়ে সবার। কাছে গিয়ে না দেখলে মনে হবে রাজপ্রাসাদ।কথিত আছে, এই বাড়ি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। আর এটি তৈরি করতে সময় লেগেছে দীর্ঘ ১২ বছর। বর্তমানে কেউ এই বাড়িতে বসবাস করেন না।

     

    শুধুমাত্র একজন কেয়ারটেকার রয়েছেন দেখাশোনার জন্য। এই প্রতিবেদককে বলেন। বাড়ির মালিক সাখাওয়াত হোসেন টুটুল গত বছর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এর দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হয়ে ঢাকায় কারাগারে ছিলেন। বর্তমানে সে তার ঢাকার ধানমন্ডি বাসাতে অবস্থান করছে। বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের দেউলী সরকারপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন টুটুল। দেউলী সরকারপাড়া গ্রামের প্রতিবেশিরা বলেন, স্কুলজীবনে বাবা মায়ের ওপর অভিমান করে বাড়ি ছাড়েন টুটুল।

     

    এরপর ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। সেখানেই লেখাপড়া শেষ করে বিয়ে করেন এক অবাঙ্গালী নারীকে। এরপর থেকেই তার ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করে। ঢাকার ধানমন্ডিতে অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, গাজীপুর টাটকা ফুড প্রডাকশন ফ্যাক্টরি, গ্রামের বাড়িতে একটি ইটভাটা এবং একটি কোল্ড স্টোরেজ ছাড়াও প্রায় শতাধিক বিঘা আবাদি জমি রয়েছে টুটুলের। এছাড়াও আরও অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার। মধ্যবিত্ত পরিবারের সস্তান এই টুটুল কিন্তু কীভাবে এত সম্পত্তির মালিক হলো তা নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা ও এর রহস্য নিয়ে। বগুড়া জেলা শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার উত্তর–পূর্বে শিবগঞ্জ উপজেলার নিভৃত পল্লী গ্রাম দেউলী।

     

    মোকামতলা হয়ে আরও কিছুটা এগিয়ে পাকুরতলা এলাকায় পৌঁছে হাতের ডান দিকে ঘুরে কয়েক কিলোমিটার আকাঁবাঁকা পথ পেরিয়ে দৃষ্টিতে আসবে এই বাড়িটি। এলাকার লোকের কাছে বাড়িটি টুটুলের বাড়ি হিসেবে পরিচিত। বাড়ির পুরো সীমানাসহ প্রতিটি অবকাঠামো দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হয়েছে। দূর থেকে মনে হবে লন্ডনের ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। মূল ফটকটি নাটোরের উত্তরা গণভবনের নকশায় নির্মিত। ভেতরে চার তলা প্রাসাদের প্রথম ইউনিট ও দ্বিতীয় ইউনিটের ওপরে চৌকোনা চারটি গম্বুজ উত্তরা গণভবনের মতো। মূল ফটক দিয়ে ঢোকার পরই হাতের বাঁয়ে চোখে পড়বে শ্বেত পাথরের হংস ফোয়ারার চার ধারে পাথরের সান বাঁধানো পুকুর। বাড়িটির প্রথম ইউনিটে বড় দরজা দিয়ে প্রবেশের পর বিরাট হল রুম। দেয়ালের পড়তে পড়তে নকশা।

     

    দ্বিতীয় ইউনিটে প্রবেশের পর সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার সময় নজরে আসবে পোড়ামাটির ফলক (টেরাকোটা)। প্রতিটি ফলকে প্রাচীন ইতিহাসের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দোতলার ঘরগুলো সু-ুপরিসর। এখানে ফাইভ স্টার হোটেলের লাউঞ্জ ও রিসিপসনিস্টদের মতো ডিজাইনও করা হয়েছে। সিড়িঁ বেয়ে চতুর্থ তলায় গিয়ে মনে হবে বিদেশি হোটেলগুলোর মতো যে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন সেখানে করা সম্ভব। কাঠের জানালা দরজাসহ প্রতিটি কাজই প্রাচীন নকশায় তৈরি। সবচেয়ে দামী কাঠ ব্যবহার হয়েছে এসব কাজে। শ্বেত পাথরও আনা হয়েছে বিদেশ থেকে। বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে। প্রতিটি ঘরেই এয়ার কন্ডিশনার আছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে হঠাৎ করে সাখাওয়াত হোসেন টুটুল তার পৈর্তিক টিনের বাড়ির পাশে, নতুন এই বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। প্রায় সাড়ে তিন একর জায়গা নিয়ে শুরু করেন বাড়ি নির্মাণের কাজ। শুরুতে প্রতিবেশীরা মনে করেছিলেন মাঝে মধ্যে গ্রামে এসে অবস্থান করার জন্য বিল্ডিং তৈরি করছেন।

     

    কিন্তু দেখা যায় ইটের পরিবর্তে কংক্রিটের গাঁথুনি দিয়ে শুরু করা হয় নির্মাণ কাজ। পাশাপাশি দুটি বিল্ডিং তৈরি করা হয়। নির্মাণ শেষে পুরো বাড়ি দুটি এবং সীমানা প্রাচীরে টাইলসের পরিবর্তে শ্বেত পাথর দেয়া হয়। আশ্চার্য বিষয় পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য তৈরি সেফটিক ট্যাংকের ওপরের অংশেও দেয়া হয়েছে শ্বেত পাথর। নির্মাণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরাও বাহিরের এলাকার কেউ না। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে নির্মাণ কাজ শেষে ২০১৮ সালে তা বসবাসের উপযোগী করে তোলা হয়।একটি চারতলা, আরেকটি তিনতলা বাড়ির ছাদে রয়েছে ৪টি করে গম্বুজ। প্রধান ফটকে রয়েছে ৪টি গম্বুজ। দুটি বাড়ি ছাড়াও আলাদা করে রয়েছে আকর্ষণীয় ডিজাইনের রান্না ঘর, দুটি পুকুর, বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীদের নিয়ে তৈরি করা একটি পার্ক এবং ফুলের বাগান।বর্তমানে এ বাড়িতে কেউ বসবাস না করলেও প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে লোকজন আসে বাড়িটি এক নজর দেখার জন্য।

     

    কিন্তু বাড়ির মালিক গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। কেয়ার টেকার জয়ন্ত কুমার জানান, অপরিচিত লোকজনকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিতে কর্তৃপক্ষের নিষেধ আছে। এ জন্য বাড়ির সামনে প্রবেশ নিষেধ কথাটি লিখে রাখা হয়েছে। এদিকে লোকজনের ভিড় হওয়ার কারণে বাড়ির সামনে গড়ে উঠেছে একটি হোটেলসহ বিভিন্ন দোকান। পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার বাড়িটি পরিদর্শন করেছেন।

     

    ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে দুদকের মামলায় গ্রেফতার হন সাখাওয়াত হোসেন টুটুল। এরপর থেকে বাড়ির ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। সাখাওয়াত হোসেন টুটুল কারাগারে থাকার পর থেকে তার বড় ভাই ফজলুল বাড়িতার ব্যবসা বাণিজ্য দেখাশোনা করছেন। জানতে চাইলে ফজলুল বারি জানান, আমি এসব ব্যাপারে কথা বলতে বলতে পারবোনা। টুটুল কেন এত টাকা খরচ করে এই বাড়ি নির্মাণ করেছেন তাও পরিষ্কার নয়। তবে এটা ঠিক যে, এই বাড়ির কারণেই তাকে জেল খাটতে হয়েছে। দেউলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বলেন, টুটুল ভাই এলাকায় খুবই জনপ্রিয় মানুষ। এলাকার মানুষের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়ান তিনি। কী কারণে বাড়ি তৈরি করা হয়েছে এ বিষয়ে তিনিও কিছু বলতে পারেননি।
     

     

    নিউজরুম ২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০৮:২৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 536 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    উত্তরবঙ্গ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    9982443
    ২৫ মে, ২০১৯ ০৪:২১ অপরাহ্ন