যমুনার ভাঙ্গণ কবলিত উদ্বাস্তুদের ঘরে ঘরে অভাব-অনটন, হতাশা, দুঃখ-কষ্ট বিরাজমান; নেই ঈদের ইমেজ!
২২ আগস্ট, ২০১৯ ০৬:৫১ অপরাহ্ন


  

  • শাহজাদপুর/ জীবনযাত্রা:

    যমুনার ভাঙ্গণ কবলিত উদ্বাস্তুদের ঘরে ঘরে অভাব-অনটন, হতাশা, দুঃখ-কষ্ট বিরাজমান; নেই ঈদের ইমেজ!
    ৩০ মে, ২০১৯ ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত

    শামছুর রহমান শিশির, যমুনার চর থেকে ফিরে : সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার প্রবলা, প্রমত্তা, প্রগলভা, সমুদ্রের যোগ্য সহচারী, আগ্রাসী ও রাক্ষুসী নদী যমুনার ভয়াল আগ্রাসনে এক বার, দুইবার, তিন বার, চারবার, পাঁচ বার, এমনকি তার চাইতেও বেশী বার জমি-জমা, ঘর-বাড়ি, সহায়-সম্পদ সবকিছু কেড়ে নেয়া স্থানীয় রাস্তার দুইপাশে কুঁেড় ঘরের মতো তৈরি করা ছোট ছোট ছাঁপড়ায় বসবাসরত হাজার হাজার উদ্বাস্তুদের ঘওে নেই ঈদের ইমেজ । ঈদে পরিবার পরিজনের জন্য নতুন জামা কাপড় কেনা তো দুরের কথা, ঈদের দিন পর্যন্ত প্রতিদিন দু’বেলা দু’মুঠো ভাত পেটে ঠিক্ঠাক্ জোটে কি না তা নিয়েও তাদের মধ্যে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে! সহায় সম্বলহীন ওই সব অশীতিপর বৃদ্ধা, স্বামী পরিত্যাক্তা অভাগিনীদের প্রতিটি মুহুর্ত প্রতিটি দিন কিভাবে কাটছে তা বাস্তবে না দেখলে বিশ্বাস করার উপায় নেই। পরিবারের সদস্য সংখ্য বেশ কয়েকজন হলেও উপার্জনক্ষম একজন আবার এমন অনেক মহিলা প্রধান পরিবার রয়েছেন যাদের একজনও উপার্জনক্ষম নয়। তার পরেও ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’-এর মতো ওদের যারা এক বেলা মাটিকাটা শ্রমিকের কাজ করে তাদের মজুরি দেওয়া হয় পুরুষের তুলনায় অর্ধেক। ফলে বছরের হাঁসি খুশির দিন ঈদের দিন উপলক্ষেও ভাল জামা কাপড় পরিধান, ভালো খাবার খাওয়া ওদের কাছে নিছক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। ওইসব ভাগ্যবিড়ম্বিত চির অবহেলিত, চির পতিত, চির অপাঙ্ক্তেয় উদ্বাস্তু হৎদরিদ্র জনসাধারনের বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদছে। সহায় সম্বলহীন উদ্বাস্তু ওইসব হৎভাগাদের অনেকে অসুস্থ, অনেকের স্বামী পালিয়ে অন্যত্র বিয়ে করেছে, অনেকে বয়সের ভারে নুব্জ, আবার অনেকে উপার্জনক্ষম হলেও পরিবারের সদস্য সংখ্য অনেক বেশী হওয়ায় তারা খেয়ে না খেয়ে অতি কষ্টে মানবেতর দিনাতিপাত করছে। হতভাগা ওইসব উদ্বাস্তুরা আক্ষেপ আর দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলেন, ‘গরীবের জন্য ঈদ নয়। পোলাপানগরে তিনব্যালা প্যাট ভইর‌্যা খাইবারই দিব্যার পারি না ঈদের জামাকাপুর কেনবো ক্যাবা কইর‌্যা। কার না ইচ্ছ্যা হয় পোলাপানগরে মুখে হাঁসি দেহার জন্য বছরে অন্তত ঈদের দিন নতুন জামা কাপুর দিব্যার। আমাদের ইচ্ছ্যা থাকলিও ট্যাকার অভাবে ঈদের নতুন নতুন জামা কাপুর, ফিরনি সেমাই পায়েশ এগুল্যো ভাইগ্যে নাই! এগুল্যো বড়লোকদের জন্য।’

    সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার নগরডালা-কৈজুরী সড়কের চর কৈজুরী, উল্টাডাব, পাথালিয়া পাড়ায় চোখে পড়ে ছোট ছোট সংখ্য কুঁড়েঘরের মতো ছাপড়া ঘর। ওইসব ঘরেই যমুনার ভাঙ্গনে পথে বসে যাওয়া অসংখ্য উদ্বাস্তুদের বসবাস। রাক্ষুসী যমুনা বাড়িঘর গ্রাস করতে করতে তাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। একেবারে সব সহায় সম্বল যমুনায় জলাঞ্জলি দিয়ে নিঃস্ব হয়ে তারা রাস্তার পাশে ছাপড়া ঘরে (স্থানীয় ভাষায়) অতিকষ্টে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করেছে। একইভাবে উপজেলার যমুনা তীরবর্তী কৈজুরী, জালালপুর, গালা ও সোনাতুনী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত হাজার হাজার উদ্বাস্তুদের অনেকেই ২০ বছর আগে, অনেকে ১০ বছর আগে আবার অনেকে তার চেয়েও কম বছর আগে তাদের বাড়িঘর এক বার, দুই বার,তিন বার, চার বার, পাঁচ বার, ছয় বার এমনকি তার চাইতেও বেশী বার যমুনার ভয়াল আগ্রাসনে সবকিছু হারিয়ে পথের ভিখারীতে পরিণত হয়েছে। 
    তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার উল্টাডাব, পূর্বচর কৈজুরী, পার-জামিরতা, জামিরতা, কাশিপুর, বর্ণিয়া, গালা ও সোনাতুনীর দুর্গম চরাচঞ্চলের যমুনার ভাঙ্গণে নিঃস্ব  উদ্বাস্তু মৃত আদু মোল্লার ছেলে রহম আলী (৮০)র স্ত্রী, সন্তান,নাতী-নাতনীসহ সর্বমোট ১৩ জনের ভরণপোষন করতে হয়। স্বল্প আয়ের রহম বিষন্ন মনে বলেন, পরিবারের সদস্যদের তিনবেলা আহার জোটাতে হিমশিম খাওয়ায় ঈদে কারও জন্য কিছু কিনতে পারেননি। অতীতে তার বাড়ী ছিল সাহেব পাড়ায় যা যমুনায় বিলীন হয়েছে। আমছের আলীর স্ত্রী শেফালী (৫০)কে ৫ জনের ভরনপোষন করাতে হচ্ছে। মাটি কাটার কাজ করে শেফালী দিনে আয় করেন ৭০-৮০ টাকা যা দিয়ে পেটপুরে তিন বেলা আহার সম্ভব নয়। আবার যে দিন বৃষ্টিপাত হয় সেদিন তিনি কাজেও যেতে পারেন না। ধীতপুর এলাকায় তার বাড়িটি রাক্ষুসী যমুনা গিলে খেয়েছে। আজ তিনি পথের ভিক্ষারী। আল্লাহপাক দিন চালান তাই চলে যায়। যেখানে খেয়ে না খেয়ে পরিবারকে নিয়ে তাকে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে সেখানে ঈদের কোন কেনাকাটা তার পক্ষে অসম্ভব। সোনাতুনীর আনছের মিয়ার স্ত্রী বুলি (৪০)র বাড়িঘর যমুনার কড়াল গ্রাসে চলে যাওয়ায় ৬ জনের সংসার বুলিকেই চালাতে হচ্ছে। অভাবে জর্জরিত বুলি এখনো কারো জন্য পোশাক বা ভালো খাবার কিনতে পারেননি। উল্টাডাব গ্রামের মেনহাজ শেখের স্ত্রী খোদেজা (৫৫)কে ১২ জনের সংসার চালাতে হচ্ছে। তার কাছে বছরের সকল দিনই সমান। যমুনায় দুইবার বাড়িঘর বিলীন হওয়া সাহেব পাড়ার মৃত সুলতান মোল্লার স্ত্রী মমতা (৫০) মহিলা হয়েও ৯ জনের সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। খাবারের অর্থই যোগান দেওয়া কতটা যে কষ্টকর তা বাস্তবে না দেখলে বোঝার কোন উপায় নেই। মৃত ময়দান ব্যপারীর ছেলে দুলাল (৪৫) ৮ জনের সংসার একাই চালাচ্ছেন অতি কষ্টে, দামুয়াপাড়ার মৃত কেতু মন্ডলের ছেলে বাবলু (২৮)’র পরিবারের সদস্য ৪ জন, মৃত তফিজ শেখের পুত্র ফয়জাল (৩৮) একই উপার্জনক্ষম হলেও তাকে ৬ জনের সংসারের ঘানি টানতে হচ্ছে। মৃত আকছেদ আলীর ছেলে আব্দুল আউয়াল (২৫) কে ৬ জনের সংসার চালাতে হচ্ছে। রাবেয়া (৬০)র স্বামী খালেক অসুস্থ ও কর্মহীন। এজন্য ৩ জনের সংসার চালনার জন্য তাকে একাই কাজ করতে হয়। কখনো চরকায় সুতা কাটা আবার কখনো মাটিকাটা শ্রমিকের কাজ করে তিনি  দিনে যা আয় করেন তা চাল কিনতেই ফুরিয়ে যায়। মৃত মুইচ্যার স্ত্রী লুবজান (৫০) বারে বারে যমুনায় ভাঙ্গনের কবলে পড়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন। দিনে যা আয় হয় তা দিয়ে খেয়ে না খেয়ে তার পরিবারের দিন কাটে। কোনদিন কাজ বন্ধ থাকলে বাধ্য হয়ে খাওয়া দাওয়াও বন্ধ থাকে। আনোয়ারের স্ত্রী আনোয়ারা (৫০) আগে মাকড়া গ্রামে বেশ স্বচ্ছলভাবে দিন কাটিয়েছেন। রাক্ষুসী যমুনা তার সব স্বপ্ন ধুলিষ্মাত করে দিয়েছে। ৫ বার যমুনা তার বাড়ি গ্রাস করেছে। ইনসাফ আলীর স্ত্রী বেলা খাতুন (৩০) অতিকষ্টে পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর দিনাতিপাত করছেন। ৪ বার তার বাড়ী যমুনায় ভেঙ্গে যাওয়ায় বর্তমানে তিনি নিঃস্ব ও স্বর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন। আনোয়ারের স্ত্রী সেলিনা (২০)কে যমুনায় ভাঙ্গনজনিত কারণে কোমড়ে টুপরি তুলে নিতে বাধ্য হয়েছেন। সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি আর মেহনত করে আয় করছেন ৭০-৮০ টাকা। এ টাকা দিয়ে খাওয়া দাওয়া করাই অতি কষ্টকর। শাহানার স্বামী শুকুর আলী শ্রমিকের কাজ করে যে মজুরি পান তা দিয়ে তাদের তিনবেলা ঠিকমতো আহারই জোটেনা। সালমা (২৫) স্বামী বুদ্দু শেখ ৭ জনের খাবারের যোগান দিতে চোখে মুখে সর্ষের ফুল দেখছেন। রেখা(২০) স্বামী আলমগীর তাঁত শ্রমিকের কাজ করে ৪ জনের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। মৃত আরশেদ আলীর স্ত্রী বানু (৭৫) মহিলা হয়েও ৬ জনের সংসার খুব কষ্টে চালিয়ে আসছেন। আগ্রাসী যমুনা ৪ বার তার বাড়িঘর গ্রাস করেছে। বর্তমানে তিনি নিঃস্ব ও সর্বশান্ত। সেলিনা (৪৫)র স্বামী শাহজাহান ৭ জনের তিনবেলা আহার যোগান দিতে পারছেন না। তিনবার যমুনা তাদের বাড়ি গ্রাস করেছে। ৩ বার সাহেবপাড়া এলাকায় মৃত কুরানের স্ত্রী আয়শা (৫৫)র বাড়ি যমুনায় বিলীন হওয়ায় তিনি পথের ভিখারীতে পরিণত হয়েছেন। মৃত ঈমান আলীর স্ত্রী তারা বানু (৬০)র দুঃখের অন্ত নেই। তিনিও কাজ করতে না পারায় চেয়েচিন্তে কোন রকমে প্রতিটি দিন অতিবাহিত করছেন। মৃত ইনতাজ আলীর স্ত্রী কদবানু (৮০) বয়সের ভারে নুব্জ হলেও তাকে ভাতকাপর দেবার কেউ নেই। মাঝে মধ্যে চরকায় সূতা কেটে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর দিনযাপন করছেন।হোড়দিঘুলিয়া এলাকায় তার স্বচ্ছল সংসার ছিল,যা যমুনা ৫ বার গ্রাস করে তাকে একেবারে পথে নামিয়ে ছেড়েছে। জয়ফলের (৫৫) স্বামী ইউসুফ ৬ জনের তিনবেলা আহার যোগাতে অক্ষম। মৃত হানিফের স্ত্রী সুফিয়া (৬০),যমুনায় বিলীন হয়ে যাওয়া আলমগীরের স্ত্রী তাছলিমা (২০),খোশাল শেখের স্ত্রী সরবানু (৮০)র সোনার সংসার প্রবলা যমুনা ৬ বার ভেঙ্গে দিয়েছে। সোরহাব আলীর স্ত্রী শাহীনুর (৬০)’র বাড়ি দাদপুরে থাকলেও ২ বার যমুনা তা গ্রাস করেছে। রমজানের মেয়ে আনজিরা (৪৮), ইয়াছিনের স্ত্রী রিজিয়া (৭০), মৃত মোসলেমের স্ত্রী মনোয়ারা (৪০), বাবলুর স্ত্রী মনোয়ারা (২৫), নাছিমা, আসমা, আলো, আলেয়া, আছিয়া, জহুরা, সোনেকা, জয়তুন বেওয়া, কোহিনূর, ছালেহাসহ যমুনার ভাঙ্গণ কবলিত এলাকার হাজার হাজার উদ্বাস্তু বার বার যমুনার কড়াল গ্রাসে সবকিছু হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পথে বসে গেছে। ওইসব হাজার হাজার উদ্বাস্তুরা যমুনায় ঘরবাড়ি বিসর্জন দিয়ে পথের পাশে ছোট ছোট ঘর তুলে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর দিনযাপন করছে। ফলে তাদের আহারের যোগানের চিন্তা ছাড়া অন্য কোন ভাবনা ভাববার কোন সময় তাদের নেই। আর এ জন্য রাক্ষুসী যমুনার করাল গ্রাসের শিকার হাজার হাজার উদ্বাস্তু হৎদরিদ্র এলাকাবাসীর হাতে অর্থ না থাকায় ঈদে নতুন জামা কাপড় বা ভালো কোন খাবার খাবার চিন্তা আপাতত নেই। ফলে তাদের ঈদ আর দশ দিনের মতোই কাটবে বলে বিশেষজ্ঞ মহল ধারনা করছেন।
    সরেজমিন যমুনা তীরবর্তী কৈজুরী, জালালপুর, সোনাতুনী ও গালা এলাকা পরিদর্শনকালে এ প্রতিবেদক উদ্বাস্তু ওইসব অসহায় জনমানুষের ঈদ ভাবনার ব্যাপারে জানতে চাইলে মুহুর্তেই তাদের ভীড় জমে যায়। তারা নানা ভাবে কাকুতি মিনতি করতে করতে বলেন, ‘স্যার আমাগো নাম লেখেন, স্যার আমাগো কিছু দ্যান, পোলাপানগরে কিছুই কিন্যা দিব্যার পারি নাই। পোলাপান লিয়্যা আর পারি ন্যা, ঘর নাই, বাড়ি নাই, দিন যে আর চলতে চায়না স্যার, যা কামাই (আয়) করি তাই দিয়্যা ডাইল ভাতই তিন ব্যালা প্যাটভইর‌্যা খাইব্যার পারিনা, ঈদে জামা কাপুর কিনতে তো ম্যালা ট্যাকা লাগে। এত ট্যাকা কৈ পামু, কে দিবে, কারে জিগাবো! আল্লাহ চালায় তাই খেয়ে না খেয়ে চলি।’ প্রবলা যমুনা সবকিছু কেড়ে নেওয়ায় ওদের ঘর নেই,বাড়ি নেই। কোনমতে সোলার (পাটখড়ি) বা বাঁশের খলপা দিয়ে তৈরি ছাপড়া (ছোট্ট কুঁেড়ঘরের মতো) ঘরে করে কোন মতে ওরা দিনাতিপাত করছে। যেখানে নেই তাদের নূন্যতম নিরাপত্বা। অসহায় ওইসব উদ্বাস্তুদের  বাড়ি ঘরের দিকে তাকালে হাহাকার করে ওঠে মন। মাটির কোলা, রান্নার জন্য ভাঙ্গাচোর হাড়িপাতিল ছাড়া তাদের নেই অন্য কোন সম্পদ বা অবলম্বন। কাজ করলে একবেলা আধবেলা পেটের ভাত জোটে ,আর কাজ না করতে পারলে তাদের না খেয়ে থাকতে হয়। ফলে ঈদে নতুন পোশাক পরিধান বা ভালো খাবার খাওয়া ওদের জন্য অলীক কল্পনা বলেই মনে হয়। সহায় সম্বলহীন ওইসব হাজার হাজার উদ্বাস্তু হৎদরিদ্রদের খোঁজ খবর কখনো নেয়না কেউ-এমন অভিযোগ তাদের । তাদের জীবনজীবীকার  চিন্তা ছাড়া নেই অন্য কোন ভাবনা। তীব্র অভাবের কারণে সন্তানাদি লেখাপড়া করতে পারেনা, পেটপুরে পুষ্টিকর খাবার না খেতে পেয়ে পুষ্টিহীনতায় তাদের ভূগতে হয়। অর্থাভাবে ওদের সুচিকিৎসাও হয় না ঠিকঠাক। নেই তাদের কোন ভবিষ্যত। শুধুই নেই নেই আর নেই। অনেকেরই সম্ভান্ত মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হলেও প্রবলা, প্রমত্তা, প্রগলভা, সমুদ্রের যোগ্য সহচারী, রাক্ষুসী, ভয়াল যমুনার আগ্রাসনের শিকার হয়ে তারা বর্তমানে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর দিনাতিপাত করছেন। চরম অর্থসংকটজনিত কারনে হাজার হাজার উদ্বাস্তুদের ঘরে ঘরে অভাব, অনটন, হতাশা, নিরাশা, দুঃখ, কষ্ট বিরাজমান; নেই ঈদের ইমেজ!

    সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, শাহজাদপুর ৩০ মে, ২০১৯ ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 375 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    শাহজাদপুর অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট

    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    11063540
    ২২ আগস্ট, ২০১৯ ০৬:৫১ অপরাহ্ন