শাহজাদপুরে ঈদ আনন্দ নেই কৃষকের ঘরে
১৭ জুন, ২০১৯ ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন


  

  • শাহজাদপুর/ কৃষি ও খাদ্য:

    শাহজাদপুরে ঈদ আনন্দ নেই কৃষকের ঘরে
    ০২ জুন, ২০১৯ ০৯:১৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    শামছুর রহমান শিশির, ২ জুন- ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ : চলতি বছর শাহজাদপুর উপজেলার  শতকরা ৯৯.৪২ ভাগ কৃষকই সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারছেন না তাদের উৎপাদিত বোরো ধান। খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে না পারা এসব কৃষকেরা বাইরে ধানের ন্যায্য বাজার মূল্য পাচ্ছে না। তাদের উৎপাদিত ধানের উৎপাদন ব্যায়ের চেয়ে বর্তমান বাজারমূল্য তুলনামূলক বহুলাংশে কম হওয়ায় লোকসানের আশংকায় ধান বিক্রি নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছে এসব কৃষক। ঈদের খরচের যোগান দিতে ও ঋণ শোধ করতে শাহজাদপুর উপজেলার কৃষকেরা এখন বোরো ধান বিক্রি করতে গিয়ে চোখেমুখে সর্ষের ফুল দেখছে। বাজারে ন্যায্য মূল্যের ক্রেতা না থাকায় তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিয়ে তাদের চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। উপজেলার সিংহভাগ প্রান্তিক কৃষকেরা বাধ্য হয়ে পানির দামে বোরো ধান বিক্রি করে মিটাচ্ছে শ্রমিকের মজুরির খরচ। বর্ষা মৌসুমের এই ধান বিক্রি করতে না পেরে ধান রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও বিপাকে পড়েছে ধান চাষিরা। এদিকে মিল মালিকেরা বলছেন, আমন মৌসুমের চাল এখন পর্যন্ত বিক্রি করতে না পারায় ব্যাংকের ঋণও পরিশোধ হয়নি। তাই তারা নতুন করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ধান কিনতে পারছেন না। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনজু আলম সরকার বলেন, এবারের বোরো মৌসুমে শাহজাদপুরে ২২ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকেরা বোরো ধানের আবাদ করেছে। উপজেলায় মোট বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রার চেয়েও তুলনামূলক অনেক বেশি ধান কৃষকেরা উৎপাদন করেছে। চলতি বোরো মৌসুমে শাহজাদপুর উপজেলায় মোট ১ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিকটন ধান উৎপাদিত হয়েছে। আর শাহজাদপুর উপজেলা থেকে চলতি বছরে ৭’শ ৬৪ মেট্রিকটন ধান সরকারিভাবে কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করার কথা রয়েছে। ফলে ১ লাখ ৩১ হাজার ২’শ ৩৬ মেট্রিকটন ধান ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে না পেরে স্থানীয় কৃষকের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।  স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ‘এবার প্রতি মন ধান উৎপাদন করতে ধানের চারা ক্রয়, জমি প্রস্তুত, আগাছা দমন, চারা রোপণ, পরিচর্যা, সার ও কীটনাষক প্রয়োগ, সেঁচকার্য, ধান কাটা, ধান মাড়াই, শ্রমিকের মজুরিসহ সর্বসাকূল্যে প্রতি মন ধানের উৎপাদন ব্যায় হয়েছে প্রায় ৮’শ টাকা। কিন্তু উৎপাদিত ধানের বাজারমূল্য পাওয়া যাচ্ছে ৫’শ থেকে সাড়ে ৫’শ টাকা। সেক্ষেত্রে প্রতি মন ধান বিক্রি করে মনপ্রতি ২’শ ৫০ টাকা থেকে ৩’শ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। বাজারে বোরো ধানের দাম না থাকায় প্রতি একর জমিতে লোকসান গুনতে হচ্ছে ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত। এতে প্রান্তিক চাষিরা ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় চাল ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, মিল মালিকেরা তাদের উৎপাদিত চাল বাজারে বিক্রি করতে পারছে না। ভারত থেকে আমদানি করা নি¤œমানের চাল নি¤œদরে বাজারে সয়লাব হওয়ায় দেশীয় চালের বাজারে ধস নেমেছে। অনেক মিল মালিকরাই এখন পর্যন্ত তাদের ব্যাংক ঋণের বিপরীতে মজুদ করা চাল বাজারে বিক্রি করতে পারেনি। যার ফলে ব্যবসায়ীরা বোরো ধান কিনতে পারছে না বলেই বোরো ধানের বাজারে ধস নেমেছে। ফলে একদিকে ধানের ক্রেতা সংকট পরিলক্ষিত হচ্ছে, অপরদিকে, স্বল্প সংখ্যক ক্রেতা ধান ক্রয় করলেও তাদের কাছে ধান বিক্রি করে স্থানীয় কৃষকদের প্রতি মনে ২’শ ৫০ টাকা থেকে ৩’শ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। ফলে সার্বিকভাবে শাহজাদপুরের কৃষকের ঘরে নেই ঈদ আনন্দ; আছে কেবল হতাশা আর দুঃশ্চিন্তা।

     

    সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, শাহজাদপুর ০২ জুন, ২০১৯ ০৯:১৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 110 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    শাহজাদপুর অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    বিশ্বকাপ ক্রিকেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    10264801
    ১৭ জুন, ২০১৯ ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন