তাড়াশে অতি-দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান প্রকল্পে কাজ না করে টাকা হরিলুট
২৩ জুলাই, ২০১৯ ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন


  

  • তাড়াশ/ অপরাধ:

    তাড়াশে অতি-দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান প্রকল্পে কাজ না করে টাকা হরিলুট
    ১৬ জুন, ২০১৯ ০২:৪৬ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    আশরাফুল ইসলাম রনি:
    সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের ‘অতি-দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান’ প্রকল্পে কাজ না করে টাকা হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে।
    জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ‘অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান’ কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় ২য় পর্যায়ের ওয়েজ কষ্টের গৃহীত প্রকল্পে হাজিরায় গড়মিল দেখা দিয়েছে। কাজ না করে টাকা হাতিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সদস্য ও চেয়ারম্যানরা শ্রমিক হাজিরা খাতায় ভুয়া হাজিরা করছেন। ফলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ভেস্তে যেতে বসেছে।
    জানা গেছে, তাড়াশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের আওতায় উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ৪০টি প্রকল্পের জন্য এক কোটি ২৭ লক্ষ ১২ হাজার টাকায় ১,৫৮৯ জন উপকারভোগী শ্রমিকের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ থাকলেও প্রতিদিন বিভিন্ন প্রকল্পে কমপক্ষে ছয় শতাধিক শ্রমিক অনুপস্থিত থাকছেন। প্রতিদিন প্রতি শ্রমিকের ২০০ টাকা করে মজুরি ধরা থাকলে ৬০০ জনের প্রতিদিন ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ফাঁকি দিয়ে ওই অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
    প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে গত ১০ ও ১২ জুন গিয়ে দেখা গেছে, হাজিরা খাতায় শ্রমিকের গড়মিল রয়েছে। উপজেলার তালম ইউনিয়নের 'তারাটিয়া আব্দুস সাত্তারের বাড়ি ভরাট প্রকল্পে' ৪২ জন শ্রমিকের স্থলে কাজ করছেন ২৪ জন। বারুহাস ইউনিয়নের 'মনোহরপুর মোহাম্মদ মাস্টারের বাড়ি হতে পৌওতা রাস্তা মেরামত প্রকল্পে' ৫০ জন শ্রমিকের স্থলে কাজ করছেন ২৩ জন। সগুনা ইউনিয়নের 'হাইস্কুল মাঠ ও মাকড়শোন আলতাবের বাড়ি হতে মসজিদ প্রকল্পে' ৭৫ জন শ্রমিকের স্থলে কাজ করছেন ৩২ জন। মাগুড়া ইউনিয়নের 'ঘরগ্রাম পাইকনিলি ওয়াবদা স্লোপে মাটি ভরাট প্রকল্পে' ৭৫ জন শ্রমিকের স্থলে কাজ করছেন ৩৬ জন। নওঁগা ইউনিয়নের 'বি-রৌহালী আয়নালের বাড়ি হতে নওঁগা রাস্তা মেরামত প্রকল্পে' ৫২ জন শ্রমিকের স্থলে কাজ করছেন ৩৫ জন। তাড়াশ সদর ইউনিয়নের 'বোয়ালিয়া আজাহারের বাড়ি হতে বোয়ালিয়া দক্ষিণপাড়া দূর্গা মন্দির পর্যন্ত রাস্তা মেরামত প্রকল্পে' ৩৩ জন শ্রমিকের স্থলে কাজ করছেন ১৪ জন। মাধাইনগর ইউনিয়নের 'গুয়ারাখি হান্নানের বাড়ি হতে মসজিদের রাস্তা মেরামত প্রকল্পে' ৩৫ জন শ্রমিকের স্থলে কাজ করছেন ১৬ জন। এবং দেশীগ্রাম ইউনিয়নের 'দুলিশ্বর কবরস্থানে মাটি ভরাট প্রকল্পে' ৩৩ জন শ্রমিকের স্থলে কাজ করছেন ১৬ জন শ্রমিক।
    এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পে একই পদ্ধতিতে হাজিরা খাতায় প্রকল্পে অনুপস্থিত শ্রমিকদের উপস্থিত দেখানো হয়েছে।

    এ ব্যাপারে প্রকল্পের কর্মরত শ্রমিক সর্দার আমিরুল ইসলাম, সাইদার রহমান ও মুনসুর রহমান টালবাহানা করে বলেন, সব শ্রমিক উপস্থিত আছে। কেউ গেছে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে,কেউ গেছে বাচ্চার কান্না থামাতে আবার কেউ গেছে খেতে।
    প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য চিত্তরঞ্জন, ইসমত আরা, ইসমাইল হোসেন, খয়বর ও লতা আক্তারসহ বিভিন্ন প্রকল্পের সভাপতি শ্রমিক হাজিরা খাতায় গড়মিলের বিষয়টি এড়িয়ে যান।
    এদিকে শিশু আইন অমান্য করে গুয়ারাখি প্রকল্পে নবম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল হামিদ, তৌহিদসহ বেশির ভাগ প্রকল্পে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ শিশু শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া সিংহভাগ প্রকল্পে সাইনবোর্ড টাঙানো হয়নি। গড়পরতা এ চিত্র সবগুলো প্রকল্পেই বিদ্যমান।
    তাড়াশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুর-মামুন বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে অনুপস্থিত শ্রমিকদের মজুরি কর্তন করা হবে।
    এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফ্ফাত জাহান বলেন, প্রকল্পে যারা উপস্থিত থাকবে না এবং যাদের হাজিরা খাতায় গড়মিল পাওয়া যাবে তাদের মজুরি দেওয়া হবে না।

     

    স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট, তাড়াশ ১৬ জুন, ২০১৯ ০২:৪৬ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 250 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    তাড়াশ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    বিশ্বকাপ ক্রিকেট

    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    10692610
    ২৩ জুলাই, ২০১৯ ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন