তাড়াশে সরকারি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবআইডিয়াল কলেজে শিক্ষক আত্তীকরণে অনিয়মের অভিযোগ
১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৭:৫৫ অপরাহ্ন


  

  • তাড়াশ/ অপরাধ:

    তাড়াশে সরকারি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবআইডিয়াল কলেজে শিক্ষক আত্তীকরণে অনিয়মের অভিযোগ
    ২২ জুন, ২০১৯ ০৪:০৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    আশরাফুল ইসলাম রনি:
    সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয়করণ কৃত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আইডিয়াল কলেজের ছয় জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আত্তীকরণের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে । এ নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক  সহ বিভিন্ন দপ্তরে আত্তীকরণ বঞ্চিতরা অভিযোগ দায়ের করেছেন ।
    অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, কলেজটি সরকারি ঘোষণার পরপরই  আত্তীকরণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর হতে গত নয় এপ্রিল ৭এ/০৯ সি-২/২০১৩/৭৭৪ স্মারকে এক অফিস আদেশ তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর পাঠানো হয় । একই সাথে তাদের যৌথ স্বাক্ষরে  শিক্ষক-কর্মচারী  আত্তীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ ১৬ মে তারিখের মধ্যে অধিদপ্তরে পাঠানোর জন্য নির্দেশক্রমে অধ্যক্ষকে অনুরোধ করা হয় । ওই অফিস আদেশের (ঠ) ক্রমিকে সুস্পস্ট উল্লেখ রয়েছে,“ নিয়োগ কালীন সময়ে ও নিয়োগ পরবর্তী সময়ে কোন শিক্ষক অন্য কোথাও কর্মরত থাকতে পারবে না । যোগদানের তারিখ  হতে  তারা ধারবাহিক কর্মরত রয়েছেন ।” অথচ বাস্তবে আত্তীকরণ প্রক্রিয়াধীন এ কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ক প্রভাষক মো: শফি কামাল ২০১০ সালে এ কলেজে নিয়োগ প্রাপ্তির পর ও রাণীরহাট আইডিয়াল কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন । রসায়ন বিষয়ের প্রভাষক শ্রী সমর কুমার সরকার নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার আত্রাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরিরত রয়েছেন । এছাড়াও গণিত বিষয়ক প্রভাষক  মো: শামীম আহমেদ তাড়াশ উপজেলার বিনোদপুর দাখিল মাদ্রাসার গণিতের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থেকে নিয়মিত  বেতন নিয়েছেন । যা মাউশি’র ওয়েভ সাইটে সার্চ দিলেই দেখা যায় । উল্লেখিত তিন জন প্রভাষক অন্যত্র চাকুরি করার পরও ২০১০ সাল থেকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আইডিয়াল কলেজের হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর করে আসছেন ।
    আদেশটির (ক)  নং ক্রমিকে উল্লেখ রয়েছে,“ সকল পরীক্ষা পাশের সনদ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এনটিআরসি এর নিবন্ধন সনদ যাচাই করতে হবে ।” কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার অজ্ঞাত কারণে তা অনুসরণ করেননি । যারফলে ভূয়া  নিবন্ধন সনদে সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক কামরুল ইসলাম ২০১০ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত হোন । আবার একই সাথে তিনি আত্তীকরণেও অন্তর্ভুক্ত হোন । ভূগোলের প্রভাষক মো:আনোয়ার হোসেন এবং পৌরনীতি ও সুশাসনের প্রভাষক মো: ইলিয়াস উদ্দিন ও ভূয়া নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে আত্মী করণেও অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন । নিয়োগের সময় মো:আনোয়ার হোসেনের শিক্ষক নিবন্ধনের রোল দেখানো হয়েছে ৯০০০৫৬৮৫/২০০৯ এবং মো: ইলিয়াস উদ্দিনের শিক্ষক নিবন্ধন রোল দেখানো হয়েছে ৯০০১০৪৫০/২০০৯ । অথচ এনটিআরসি’র ফলাফল বিভাগে তাদের কোন নাম নেই ।
    যারফলে তারা  ২০১৪ ইং সালে কলেজ কর্তৃপক্ষ কে ম্যানেজ করে পূণরায় নিয়োগ নেন ।
    এ নিয়ে আনোয়ার হোসেন ও মো: ইলিয়াস উদ্দিন কে প্রশ্ন করা হলে তারা উভয়েই জানান, ২০১০ ইং সালে আমরা নিয়োগ নিয়েছিলাম । কিন্তু সমস্যা থাকায় পুণরায় ২০১৪ ইং নিয়োগ নিয়েছি ।
    কিন্তু প্রশ্ন হল ২০১৪ ইং সালের এ তিনজন প্রভাষকের নিয়োগ বৈধ হলে একই নিয়োগে আরো ১৬ জন প্রভাষক আত্তীকরণে বাদ পড়লেন কেন ? এ প্রশ্ন তুলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন আত্তীকরণে বঞ্চিত মো: বুলবুল ইসলাম , মো: নজরুল ইসলাম সহ,মোহাম্মদ আব্দুল খালেক সহ সাত জন শিক্ষক।
    শেখ ফজিলাতন্নেসা  মুজিব আইডিয়াল  কলেজ টি  ২০০৯ ইং সালে তাড়াশ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দুরে  চকমির্জাপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়  । কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: হোসেন মনসুর । তিনি বতর্মানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এবং পেট্রো বাংলার সাবেক চেয়ারম্যান । কলেজটি চলতি বছরে জাতীয় করণ করা হয় । জাতীয় করণের পরপরই নিয়মতান্ত্রিক ভাবে  শিক্ষক-কর্মচারি আত্তীকরণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর উল্লেখিত পত্র দেয় ।
    এ প্রসঙ্গে কলেজটির অধ্যক্ষ মো: মোজাম্মেল হক বলেন,  তখন আমি দায়িত্বে ছিলাম না। ২০১০ সালে অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারির সাথে আমি ও নিয়োগ নিয়েছি ।  সংগত কারণে ওই নিয়োগ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না ।আত্মীকরণের ক্ষেত্রে যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তাতে হয়তো আমার কিছু ভূল ত্রুটি থাকতে পারে,তা  শিক্ষা মন্ত্রালয় দেখবে । সরকারিকৃত কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা,২০১৮ এর আলোকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষের   যৌথ স্বাক্ষরে পদ সৃজনের যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে তাতে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন ইফ্ফাত জাহান। তিনি কালেরকণ্ঠ কে বলেন, অধ্যক্ষ যাচাই বাচাইয়ের পর স্বাক্ষর করেছেন তারপর আমি প্রতি স্বাক্ষর করেছি মাত্র । যাচাই বাচাইয়ের  দায়িত্ব করেছেন একাডেমিক সুপারভাইজার মো: নূরুননবী । কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড.মো: হোসেন মনসুর বলেন, অভিযোগকারীদের দাবি সঠিক নয় । কোন সমস্যা থাকলে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেখবে ।

     

    স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট, তাড়াশ ২২ জুন, ২০১৯ ০৪:০৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 506 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    তাড়াশ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    12298769
    ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৭:৫৫ অপরাহ্ন