সিরাজগঞ্জে পানিবন্দী ২ লক্ষাধিক মানুষ
১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন


  

  • সিরাজগঞ্জ/ জনদুর্ভোগ:

    সিরাজগঞ্জে পানিবন্দী ২ লক্ষাধিক মানুষ
    ১৯ জুলাই, ২০১৯ ০৫:৫১ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    সোহাগ হাসান জয়,সিরাজগঞ্জ গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্ট এলাকায় ১৮ সেমি বেড়ে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার ৫টি উপজেলার ৩৬টি ইউনিয়নের ২ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। যমুনাসহ অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যার্ত মানুষেরা উঁচু বাঁধ, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শহর রক্ষা ক্রসবার গুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে। ইতোমধ্যে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। তবে সীমিত আকারে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও অধিকাংশ বন্যার্ত মানুষের ভাগ্যে ত্রাণ জুটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। ফলে বানভাসি মানুষ রয়েছেন খাদ্য সংকটে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলী রনজিত কুমার সরকার জানান, শুক্রবার সকালে সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্টে যমুনার পানি রেকর্ড করা হয়েছে ১৪.৩৫ মিটার। যা বিপদসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার ওপরেগত ২৪ ঘন্টায় ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে কাজিপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এদিনে পানি বৃদ্ধির অনেকটা কমেছে। শুক্রবার সকালে পানি বাড়লেও বিকেল থেকে কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যমুনার ভাঙ্গন থেকে রক্ষায় উপজেলার মেঘাই, নতুন মেঘাই, পাইকড়তলী, কুনকুনিয়া ও পলাশপুর গ্রামের দেড় হাজার পরিবারকে রক্ষায় নির্মিত রিং বাঁধটি গত মঙ্গলবার মেঘাই আটাপাড়া অংশে ধীরে ধীরে বিস্তৃতি হয়ে বাঁধটির প্রায় ৭০ মিটার এলাকা ভেঙ্গে যায়। এতে প্রবল বেগে পানি ঢুকে পড়ে ওই ৫টি গ্রাম মুহুর্তেই প্লাবিত হয়ে যায়। ইতিমধ্যে ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী পরিবারের ঘরে শুকনো খাবার নেই। নেই রান্নার খড়িও। নলকূপ তলিয়ে থাকায় মিলছে না বিশুদ্ধ খাবার পানি। শৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায় বাড়ছে বিড়ম্বনা। এদের বেশির ভাগ মানুষই বন্যার পানির মধ্যে নৌকায় ও ঘরের ভেতর মাচান উঁচু করে অতি কষ্টে দিন-রাতযাপন করছেন। শুকনো খাবারের তীব্র সংকটে পড়েছে পানিতে আটকে থাকা পরিবারগুলো। আর যারা ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু বাঁধ ও পাকা সড়কসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিবার পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তারাও পড়েছেন নানা দুর্ভোগে। সেই সঙ্গে শত শত মানুষ একসঙ্গে বাঁধ ও পাকা সড়কের দুই ধারে ঝুঁপড়ি ঘর ও পলিথিনের তাঁবু টানিয়ে পরিবার-পরিজন, গবাদিপশু নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা যায়, বন্যায় সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, শাহজাদপুর, বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলার ৩৬টি ইউনিয়নের ২ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে ৩৫৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই পেয়েছে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার বন্যার্ত মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪টি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও ৫৫ হাজার ৭২৪টি পরিবার। এদের মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৯৫৯টি। ১ হাজার ৩৪৭টি বাড়িঘর সম্পূর্ণ এবং ২৭ হাজার ৬৩৩টি বাড়িঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ১৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে আরও ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ডিডি) হাবিবুল হক বলেন, জেলার প্রায় ৭ হাজার ৫৪১ হেক্টর জমির পাট, রোপা আমন, আউশ ও সবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। সিরাজগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ইতিমধ্যেই বন্যা দুর্গতদের জন্য ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে। বন্যা কবলিত উপজেলাগুলোতে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে গেছে। স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সেগুলো বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৩৫৩.৩ মেট্টিক টন চাল, ৫ লাখ টাকা ও ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মজুদ রয়েছে ৩৪৬.৭ মেট্টিক টন চাল, ৩ লাখ টাকা। আরও ৫ লাখ টাকা, ৫শ মেট্টিক টন চাল ও চার হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ আনার প্রক্রিয়া চলছে। তবে কোন বন্যার্ত মানুষ যেন বাদ না যায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সিরাজগঞ্জ ১৯ জুলাই, ২০১৯ ০৫:৫১ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 1565 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    সিরাজগঞ্জ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    12322529
    ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন