বাইরে বন্যা, বাড়িতে ঢুকে খাটের ওপর বাঘের ঘুম!
১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন


  

  • জাতীয়/ অন্যান্য:

    বাইরে বন্যা, বাড়িতে ঢুকে খাটের ওপর বাঘের ঘুম!
    ২০ জুলাই, ২০১৯ ১০:২৮ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত

    মেয়ে বাঘটি বন থেকে পালিয়ে স্থানীয় এক গেরস্থ বাড়িতে ঢুকে পড়ে এবং খাটে শুয়ে আরাম করছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের স্থানীয় কাজিরাঙ্গা ন্যাশনাল পার্ক থেকে সে চলে এসেছে। ভারতের বন্যা-কবলিত আসাম রাজ্যের একটি জঙ্গল থেকে একটি মেয়ে বাঘ স্থানীয় একটি বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ে সেই বাড়ির খাটে শুয়ে আরাম করছিল।

    কাজিরাঙ্গা ন্যাশনাল পার্কে সাম্প্রতিক ব্যাপক বন্যায় ৯২টি প্রাণী মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠনের কর্মকর্তারা সেই বাড়িতে যান এবং বাঘটি যেন নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পারে সেই ব্যবস্থা করেন। বাঘটিকে জঙ্গলের পথের দিকে ঠেলে দেয়া হয়।

     

    ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুসারে, ওই বাঘিনীকে প্রথম দেখা যায় বৃহস্পতিবার সকালে একটি মহাসড়কের কাছে, যে জায়গাটি ছিল জাতীয় উদ্যান থেকে ২০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত। ব্যস্ত সড়কের যানবাহন হয়তো তাকে বিরক্ত বোধ করিয়েছিল এবং এরপর সে মহাসড়কের কাছে অবস্থিত এক গেরস্থ বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ে আশ্রয়ের খোজে।

    রথিন বর্মণ যিনি এই বাঘ উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনি বলেন ওই বাঘিনী একটি দোকানের পার্শ্ববর্তী ওই বাড়িটিতে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢোকে এবং দিনের বেলা পুরোটা ঘুমিয়ে কাটায়।

    তিনি বলেন, "সে ছিল ভীষণ ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত এবং দিনভর একটা ভালো ন্যাপ (ঘুম) নিয়েছে সে।"

     

    কিন্তু জলজ্যান্ত এক বাঘ যাদের ঘরের ভেতর সেই বাড়ির মালিকের কী অবস্থা? বাড়ির মালিকের নাম মতিলাল। তিনিই নিকটবর্তী দোকানটির মালিক। বাঘটিকে তার বাড়ির ভেতর ঢুকতে দেখেই পরিবারের লোকজনকে নিয়ে তিনি ভয়ে পালিয়েছেন।

    "সবচেয়ে দারুণ বিষয় ছিল যেটি সেটা হলো যে, তার বিশ্রামে কেউ বাধা দিতে আসেনি। এই অঞ্চলের মানুষদের মাঝে বন্যপ্রাণীর প্রতি ব্যাপক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কাজ করে", বলেন রথিন বর্মণ।

    বাড়ির মালিক মতিলাল বলেছেন, বাঘটি যে বিছানায় শুয়েছিল সেই বিছানার চাদর ও বালিশ তিনি যত্ন সহকারে তুলে রাখবেন। ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার কর্মকর্তাদের পরে খবর দেয়া হয় এবং তারা এসে ক্লান্ত বাঘিনীর নিরাপদে বেরোনোর পথ খোঁজার উদ্যোগ নেন।

    এক ঘণ্টার জন্য মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়, এবং বাঘটিকে জাগিয়ে তোলার জন্য আতশবাজি ফাটানো হয়। বাঘটি শেষপর্যন্ত স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়িটি থেকে বেরিয়ে যায়, এরপর সে মহাসড়ক অতিক্রম করে এবং তাকে নির্দেশ করা নির্দেশনা মোতাবেক জঙ্গলের দিকে রওনা হয়।

    বর্মণ অবশ্য বলেন, মেয়ে বাঘটি আসলেই জঙ্গলের ভেতরে ঢুকে গেছে নাকি সে আশেপাশের এলাকায় হাটাহাটি করেছে-সেটা নিশ্চিত নয়।"

    ইউনেস্কোর হিসেবে, কাজিরাঙ্গা ন্যাশনাল পার্কে ১১০টি বাঘের বসবাস, কিন্তু তাদের একটিও বন্যায় মারা যায়নি। এই পার্কের নিহত প্রাণীদের মধ্যে ৫৪টি হরিণ, সাতটি গণ্ডার, ছয়টি বুনো শূকর এবং একটি হাতী রয়েছে।

    ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যার ফলে আসাম ও বিহার রাজ্যে ব্যাপকভাবে তাণ্ডবে শতাধিক মানুষের মৃত্যুসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বাস্তু-চ্যুত হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। বর্ষার মৌসুম - যার ব্যাপ্তি মূলত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত - তাতে নেপাল ও বাংলাদেশে ফসলে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে। সূত্র : বিবিসি।

    নিউজরুম ২০ জুলাই, ২০১৯ ১০:২৮ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 982 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    জাতীয় অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    12322655
    ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন