সিরাজগঞ্জে বন্যার পানিতে ৩৮৮টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত
১৭ আগস্ট, ২০১৯ ১০:০০ অপরাহ্ন


  

  • সিরাজগঞ্জ/ জনদুর্ভোগ:

    সিরাজগঞ্জে বন্যার পানিতে ৩৮৮টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত
    ২১ জুলাই, ২০১৯ ০৩:৩৭ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    সোহাগ হাসান জয়ঃ সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ সেন্টিমিটার কমলেও এখনো বিপৎসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিরাজগঞ্জে পাঁচটি উপজেলায় বন্যার পানিতে ৩৯টি ইউনিয়নের ৩৮৮টি গ্রাম, এক হাজার ১২৩টি পরিবার সম্পূর্ণ ও ৭৮ হাজার ৬৯৮টি পরিবার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবার ১৮৬টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বাঁধ,উঁচু জায়গায় পলিথিন, টিন, পরনের কাপর, বস্তা দিয়ে নীড় তুলে আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। গত তিন দিনে তাড়াশ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। চলনবিলের তাড়াশ উপজেলার সগুনা, নওগাঁ, মাগুড়া বিনোদ ও তাড়াশ সদর ইউনিয়নের ২০০ হেক্টর বোনা আমন ধান তলিয়ে গেছে। ১৮৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২৩ হাজার ১২০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। দুই হাজার ৪০৫টি টিউবওয়েল, একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ৫৬টি মেডিকেল টিম, দুটি পৌরসভা ও পাঁচ হাজার ৩০৮ জন সম্পূর্ণ এবং তিন লাখ ১১ হাজার ৬৭৭ জন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছয় হাজার ৫০৫টি বাড়িঘর সম্পূর্ণ ও ৪৩ হাজার ৮১৩টি বাড়িঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিন হাজার ৪০০ হেক্টর ফসলি জমি সম্পূর্ণ এবং ১২ হাজার ৫৪৯ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাজীপুর উপজেলার ঢেকুরিয়া হাট বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফাটল এলাকায় ধস ঠেকাতে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে গ্রামবাসী মিলিতভাবে কাজ করছেন। জেলার ৫১.৫২ কিলোমিটার রাস্ত সম্পূর্ণ ও ১৬৭.১৪ কিলোমিটার রাস্তা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর ২৯ ব্রিজ ও কালভার্ট এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে, ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ও ১৯১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষতিস্ত হয়েছে। এর মধ্যে কাজীপুরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চৌহালীতে পাঁচটি সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বন্যা মোকাবিলায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা শাখা সূত্রে জানা যায়। নদীভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কাজীপুরে এক হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ১০০ টন চাল, এক লাখ টাকা, সদর উপজেলায় ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৭৫ টন চাল, নগদ এক লাখ টাকা, শাহজাদপুরে ৪০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৮৫ টন চাল ও এক লাখ টাকা, বেলকুচিতে ২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৩০ টন চাল ও এক লাখ টাকা, চৌহালীতে ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৬৩ টন চাল ও এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৩৪৬.৭০০ টন জিআর চাল, তিন লাখ টাকা ও ৫০০ পিস নতুন তাঁবু মজুদ আছে। বন্যা মোকাবিলার জন্য আরো ৩০০ টন জিআর চাল, পাঁচ লাখ টাকা জিআর নগদ ও চার হাজার প্যাকেট শুকনো খাবারের বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুর রহিম জানান, বন্যা মোকাবিলায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। সরকারিভাবে বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, নগদ টাকা ও চাল বিতরণ করা হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তীর (বিপিএম) জানান, দিতে রাতে নৌ টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষের নিরাপত্তাদিতে পুলিশের বিশেষ নজরদারি রয়েছে।
    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সিরাজগঞ্জ ২১ জুলাই, ২০১৯ ০৩:৩৭ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 615 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    সিরাজগঞ্জ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট

    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    11010172
    ১৭ আগস্ট, ২০১৯ ১০:০০ অপরাহ্ন