সিরাজগঞ্জে খোলা আকাশের নিচে বসবাস জনদূর্ভোগ চরমে
১৮ আগস্ট, ২০১৯ ০৬:১৫ অপরাহ্ন


  

  • সিরাজগঞ্জ/ জনদুর্ভোগ:

    সিরাজগঞ্জে খোলা আকাশের নিচে বসবাস জনদূর্ভোগ চরমে
    ২২ জুলাই, ২০১৯ ০৪:৪৮ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    সোহাগ হাসান জয়ঃ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও গবাদি পশু নিয়ে এলাকাবাসির দূর্ভোগ কমেনি। বাঁধে আশ্রিত শত শত গরু আর মানুষ এক সাথে খোলা আকাশের নিচে অথবা পলিথিন টানিয়ে বাস করছে। এতে জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। গত ১ সপ্তাহ ধরে কৈজুরি ইউনিয়নের জয়পুরা থেকে জগতলা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার নতুন বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে গবাদি পশু নিয়ে আশ্রিত মানুষ এমন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাদের ভাগ্যে এখনো পর্যন্ত জোটেনি কোন ত্রাণ সহায়তা। শত শত মানুষ তাদের শিশু সন্তানের পাশাপাশি গবাদি পশু নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। সাধ্যমত কেউ পলিথিন টানিয়ে,কেউ আরা টিনের চালা বানিয়ে,কেউ আবার একেবারে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সোমবার দুপুরে কৈজুরি ইউনিয়নের জগতলা এলাকার নতুন বন্যানিয়ন্ত্রণ এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এ চিত্র। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসেইন খান জানান,বাঁধে আশ্রিতদের জন্য ২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আথচ এলাকাবাসি বলছেন,এ পর্যন্ত কোন রকম ত্রাণ সহায়তা তো দূরে থাক প্রশাসনের কোন কর্তা ব্যক্তিই তাদের খোজ খবর নেয়নি। এ বিষয়ে জগতলা বাঁধে আশ্রয় নেওয়া ভোলা ব্যাপারীর ভাই সেলিম হোসেন(২০) জানায়,বন্যায় বাড়িঘরে পানি ওঠায় নিরুপায় হয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে ১২টি গরু নিয়ে নতুন বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। একই ভাবে ওই এলাকার নাসিন উদ্দিন(৬৫) ৩টি গরু ও ৩টি ছাগল,আলাউদ্দিন(৫৪) ৩টি গরু,রজিনা খাতুন(২৪) ৩টি গরু,হাঁস-মুরগী ও ২টি ছাগল,জালাল উদ্দিন(৬০) ২টি গরু,আলামিন হোসেন(৩০) ৪টি,নজির মোল্লা(৫৫),৩টি গরু ও আবু বক্কার(৫০) ৪টি গরু নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের ভাগ্যে জোটেনি কোন ত্রাণ সহায়তা। বাঁধ ঘুরে দেখা যায়,বন্যায় হতদরিদ্রদের পাশাপাশি ধর্নাঢ্য গরু ব্যবসায়ীরাও বাড়িঘর বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় একক জন ১০/১২টি থেকে শুরু করে ২০/২৫টি গরু নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। এ সব গরু আসন্ন কোরবানির ঈদে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পশুরহাটে নিয়ে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছে। এর মধ্যে আলমাস আলী ও মোজাম্মেল হক জানান,পানির মধ্যে গরু ঘুলোকে দার করিয়ে রাখতে না পেরে বাধ্য হয়ে বাঁধে এসে আশ্রয় নিয়েছি। ভোলা ব্যাপাী জানান,বন্যার কারণে এরই মধ্যে পানির দরে ১২টি গরু বিক্রি কওে দিয়েছি। এখনও ২২টি গরু রয়েছে। তার মধ্যে ১২টি গরু নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। রহম আলী জানান,তিনি ১৪টি গরু নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। অপরদিকে জামিরতা গ্রামের হাজী জহুরুল ইসলাম জানান, বন্যার কারণে ৮টি গরু মাত্র সাড়ে ২৬ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। কোনবানির হাটে নিয়ে এ গুলো বিক্রি করলে এর দাম হোত কমপক্ষে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা। এ পারমাণ টাকা বন্যার কারণে আমার লোকসান হয়েছে।এ বিষয়ে কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, বন্যাদূর্গতদের জন্য মাত্র ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। চাহিদার তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল। এর মধ্যে আগে যমুনা নদীর চরের বানভাসিদের মধ্যে বিতরণ শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাঁধে আশ্রিতদেরও ত্রাণ সহায়তা দেয়া হবে।
    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সিরাজগঞ্জ ২২ জুলাই, ২০১৯ ০৪:৪৮ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 493 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    সিরাজগঞ্জ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট

    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    11018564
    ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ০৬:১৫ অপরাহ্ন