বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন প্রিয়া সাহাকে ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে — প্রবীর গোস্বামী বাবু
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৫:২৮ অপরাহ্ন


  

  • সিরাজগঞ্জ/ অন্যান্য:

    বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন প্রিয়া সাহাকে ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে — প্রবীর গোস্বামী বাবু
    ২২ জুলাই, ২০১৯ ০৭:৩০ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    নিউজ ডেস্কঃ ১৯৪৭ সালের পর ভারতবর্ষ ভাগ হওয়ার পর এই দেশের হিন্দু সম্প্রদায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন এর কারণে দেশান্তরিত হয় বহু হিন্দু পরিবার। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ রাষ্ট্র নির্মান করলে এই দেশের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক সুবাতাস বইতে শুরু করে। দেশের মানুষের মধ্যে ধর্মগত ভেদাভেদ চলে যায়। বাঙ্গালী জাতি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে গড়ে তোলার কাজে লেগে যায়। সেই সময় এই দেশ হতে কাউকে চলে যেতে হয়নি। তখন হিন্দু হিসাবে কোন ব্যক্তি লাঞ্চিত হয়নি। কোন প্রকার সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেনি। এই দেশের সকল মানুষ ধর্মের বাইরে একটি সাধারন সত্ত্বায় পরিণত হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে এই দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বীজ রোপন করা হয়। খুনী জেনারেল জিয়া পাকি ভাবধারায় নিয়ে যান। শুরু হয় পাকিস্তানী কায়দায় শাসন। ফলে হিন্দু সম্প্রদায় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে এবং দেশান্তরিত হওয়া শুরু হয়। এই ধারা অব্যাহত থাকে স্বৈরাচারী এরশাদ এবং বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম সরকার পর্যন্ত। ১৯৯৬ সালে জাতির জনকের কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা সরকার গঠন করলে এই দেশের হিন্দু ,বৌদ্ধ, খ্রীস্টানদের মধ্যে গনজোয়ার আসে। দেশটি কে আপন মনে হয়। তখন মনে হতো আমাদের নিজের দেশ। এটিকে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ আপন করে নেন জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকারকে। দেশের মধ্যে সমৃদ্ধি আসে। দেশ এগিয়ে চলা শুরু করে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করে। এরা পাঁচ বছর সংখ্যালঘুদের উপর যে নির্যাতন করেছে তা হিটলারের সাথে তুলনা করা যায়। রাষ্ট্রীয়ভাবে এথনিক ক্লিনজিং শুরু হয়। লাখ লাখ হিন্দু পরিবার-পরিজন সহ রাতের অন্ধকারে দেশান্তরিত হয়। হত্যা, গুম, ঘরবাড়ী থেকে উচ্ছেদ, ধর্ষন কি না হয়েছে সেই সময়। আমার পরিবারের অনেকেই চলে যায় নিজের ভিটা ফেলে রেখে। আমরা চাক্ষুষ দেখেছি নির্যাতন। যা আজও ভূলতে পারিনি। ২০০৮ সালের পর আবারও প্রধানমন্ত্রী হলেন জনগণের নেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আসার পর এই দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আবার আশার আলো দেখতে পেলেন। তিনি বিশেষ সুবিধা দিলেন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে। হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক শিক্ষিত ব্যক্তিরা ভালো চাকুরী পেল, পদায়ন-পদোন্নতি পেল। প্রশাসনের সচিব সহ, বিভিন্ন জেলার ডিসি, এসপি্‌, থানার ওসি পদে হিন্দু সম্প্রাদায়ের ব্যক্তিবর্গকে প্রতিষ্ঠিত করলেন। অন্য শাসন আমলে চাকুরী পাওয়াই ছিল দুষ্কর ও দুষ্প্রাপ্য। শেখ হাসিনার আমল বলেই আমরা সাহস নিয়ে চলতে পারছি। একজন শেখ হাসিনা আছেন বলেই এই দেশ এত সুন্দর সকলের কাছে। সকল ধর্মের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সহাবস্থান বিরাজ করছে। এত মহতী নেত্রীর কারণে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নত বিশ্বের দিকে। একজন প্রিয়া সাহা যার স্বামীও শেখ হাসিনা না থাকলে দুদকের এত বড় পদে অধিষ্ঠিত হতে পারতেন কি না সন্দেহ। প্রিয়া সাহা পিরোজপুরের গ্রাম থেকে উঠে আসতে পারতেন কিনা সন্দেহ। প্রিয়া সাহা যে মানের এনজিও করেন তার নাম ভাঙিয়ে মার্কিন মুল্লুকে যাওয়া সম্ভব ছিলো না। শেখ হাসিনার আমল বলেই অনেক সুযোগ সুবিধা পেয়ে যাচ্ছেন। প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে নালিশ করলেন। আসলে এই নালিশ কার বিরুদ্ধে? জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এবং তাঁর সরকার, তাঁর দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। যারা অসাম্প্রদায়িক দেশ বানালেন, যারা চাকুরী দিলেন, যারা জীবন দিলেন সেই দল ও সরকারের বিরুদ্ধে প্রিয়া সাহা নালিশ করলেন। তিনি শুধু মাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানহানি করেননি দেশটিকে একটি মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার ড্রেস রিহার্সাল দিলেন। প্রিয়া সাহার এই আচরন এই দেশে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর অযাচিত আঘাত ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রিয়া সাহা যা বলেছে তা বাস্তব সম্মত নয়। নিজের আখের গোছানোর জন্য আবোল তাবোল বলে দেশের ক্ষতি করলেন এবং নিজ সম্প্রদায়কে বিপদের মুখে ঠেলে দিলেন। প্রিয়া সাহা কাদের লোক আমরা সবাই জানি। এই গ্রুপটি দেশের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই পারেননি। এরা কখনও হিলারী, কখনও মোদী, কখনো ট্রাম্প এই নিয়েই আছেন। উচ্চ শিক্ষিত জ্ঞান পাপী এই গ্রুপটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহ্য করতে পারেন না। একমুহুর্তের জন্যেও মেনে নিতে পারেন না। এরা সর্বদা শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ আর সরকারের কুৎসা রটনা করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় ষড়যন্ত্র করেছে সরকার পতন ঘটানোর জন্য। কিন্তু সফল হতে পারেন নি। জনগণ শেখ হাসিনার সাথে, আওয়ামী লীগের সাথে আছে বলেই এরা যত ষড়যন্ত্র করুক সফলকাম হতে পারবে না। প্রিয়া সাহা এই গ্রুপটির সাথে মিলে নুতন ষড়যন্ত্রের নাটক করল। এই নারী শুধু মাত্র নিজের লাভালাভ দেখলো আমাদের কোটি হিন্দু ভাইবোনদের স্বার্থ, বেঁচে থাকা, ভবিষ্যত যিনি নির্মান করে দিয়েছেন সেই মহতী নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলো। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন প্রিয়া সাহাকে ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তাঁর বক্তব্যকে অসত্য বলে মনে করে।
    নিউজরুম ২২ জুলাই, ২০১৯ ০৭:৩০ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 265 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    সিরাজগঞ্জ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    12248833
    ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৫:২৮ অপরাহ্ন