সমন্বয়হীনতা আর কর্মকর্তা সংকটে ধুঁকছে কাজিপুরের প্রাথমিক শিক্ষা
১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন


  

  • কাজিপুর/ অন্যান্য:

    সমন্বয়হীনতা আর কর্মকর্তা সংকটে ধুঁকছে কাজিপুরের প্রাথমিক শিক্ষা
    ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত

    আবদুল জলিলঃ. কাজিপুর সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তার পদশূন্যতা, সমন্বয়হীনতা এবং চরাঞ্চলের অবস্থিত বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে চরম অনিহার কারণে ধুঁকছে কাজিপুরের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। একের পর এক দেয়া সরকারি কোন প্রণোদনাও কাজে আসছে না। এদিকে বারবার কর্র্তৃপক্ষের নিকট চাহিদা দিলেও সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তার শূন্যপদ পূরণ হচ্ছে না। এর ফলে কাজে সমন্বয়হীনতার জন্য বরাদ্দবঞ্চিত সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়াসহ মানসম্মত পাঠদান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। 

    প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে,  কাজিপুরে মোট ২৩৭ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে  ১ হাজার ৪২ জন শিক্ষক এবং  ৪৬ হাজার ৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।  এদিকে  চলতি বছরে উপজেলায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে  ৩৮ টি বিদ্যালয়ে  দ্বিতল ভবন নির্মাণ সহ  অবকাঠোমো গত উন্নয়নের কাজ চলছে। এছাড়া প্রত্যেকটি বিদ্যালয়  প্রাক-প্রাথমিকের জন্যে ১০ হাজার, স্লীপের বরাদ্দ ৫০ থেকে ছাত্র ভেদে ৭০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ছাড়া ৯৫ টি বিদ্যালয়ে ৪০ হাজার, ১৯ টি বিদ্যালয়ে রুটিন মেরামতের  ১ লক্ষ ৫০ হাজার এবং ২৬ টি বিদ্যালয় ২ লক্ষ করে টাকা করে বরাদ্দ পেয়েছে।

     


     বিদ্যালয়গুলোতে সরেজমিন গিয়ে  জানা গেছে, সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে ব্যাপক সমন্বয়হীনতার কারণে একই বিদ্যালয় বার বার বরাদ্দ পাচ্ছে। আবার কোন কোন বিদ্যালয় বরাদ্দবঞ্চিত হয়ে বছরের পর বছর ভাঙ্গাচোরা ঘরে পাঠদান করে যাচ্ছেন। এসব বিদ্যালয়ে মানসম্মত পাঠ্রদান ব্যাহত হওয়ায়  শিক্ষার্থীসংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। উপজেলার টিকরাভিটা সপ্রাবি, ঘাটি শূভগাছা সপ্রাবি, কালিকাপুর সপ্রাবি, খামারপাড়া উত্তর সপ্রাবি , টেংলাহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশকটি বিদ্যালয়ে কোন বরাদ্দ দেয়া হয়নি। আবার দক্ষিন নাটুয়ারপাড়া সপ্রাবি ,আলমপুর মধ্যপাড়া সপ্রাবি, হরিনাথপুর সপ্রাবি, পানাগাড়ি সপ্রাবিসহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে দ্বিতল ভবনের নির্মাণ কাজ চলমান থাকলেও ঐ বিদ্যালয়গুলিতে  ৪০ হাজার থেকে দেড় লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। 


    সমস্যা জর্জরিত হাটগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল জানান, ‘বরাদ্দ চেয়ে পাইনি। এদিকে বিদ্যালয়ের ভাঙ্গাচোরা ও অপর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, ইঁউপোকা মাটিতে ভরা রুমে শিক্ষার্থী ধরে রাখা যাচ্ছেনা। এরইমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে গেছে। এ অবস্থায় শিক্ষার গুনগত মান বজায় রাখবো কি করে।’ 

     

     উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, ‘আমার আটজন সহকারি শিক্ষা অফিসার থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্রও তিনজন। এই নিয়ে যমুনার এপার ওপারের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ও খোঁজ খবর রাখা অত্যন্ত কঠিন। উপজেলা থেকে প্রায় পঁচিশ কিলোমিটার নদী ও চর পাড়ি দিয়ে একটি বিদ্যালয়ে গিয়ে ফিরে আসতেই একজন অফিসারের বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে হয়ে যায়।’ তারপরেও সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে আমরা বিদ্যালয়গুলির সমস্যা চিহ্নিত করে কর্তৃপক্ষ বরাবরে বরাদ্দের জন্য তালিকা প্রেরণ করে থাকি।’


     উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যন খলিলুর রহমান সিরাজী জানান, ‘অফিসার সংকটের বিষয়ে গত মাসের সমন্বয় সভায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রি মোহাম্মদ নাসিম এমপি মহোদয়কে অবগত করেছি। উনি আশ্বাস দিয়েছেন অফিসারের শূন্য পদ পূরণ করার।’ বরাদ্দের বিষয়ে তিনি জানান, ‘ আমি সভাপতি হবার পরে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ স্কুলগুলোর জন্যে বরাদ্দ চেয়ে তালিকা আবারো পাঠানো হয়েছে।’ 

     

    কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান,‘ বিভিন্ন উন্নয়নের ক্ষেত্রে বরাদ্দের ভিন্নতা রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের চাহিদা মোতাবেক  ক্ষতিগ্রস্থ বিদ্যালয়ের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে যাতে কোন বিদ্যালয় বাদ না পড়ে সে বিষয়ে খেয়াল রাখবো।’ 

    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,কাজিপুর ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 193 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    কাজিপুর অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    11684384
    ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন