গ্রাম্য শালিসের ঘুষের টাকা ভাগাভাগির বলি কৃষক রাজ্জাক, আসামী পক্ষের হুমকি ধামকিতে দিশেহারা বাদী
২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন


  

  • বেলকুচি/ অপরাধ:

    গ্রাম্য শালিসের ঘুষের টাকা ভাগাভাগির বলি কৃষক রাজ্জাক, আসামী পক্ষের হুমকি ধামকিতে দিশেহারা বাদী
    ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০৭:৪৭ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    জহুরুল ইসলাম: দেশে আবরার হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই সিরাজগঞ্জে বেলকুচিতে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামীলীগ নেতা সহ স্থানীয় মাতব্বরদের বিরুদ্ধে। গ্রাম্য শালিসে দু পক্ষের কাছ থেকে নেয়া ঘুষের টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করেই এ খুন বলে দাবী নিহতের পরিবারের। হত্যার বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ আর প্রতিবাদ সমাবেশ করছে গ্রামবাসী। এজাহার ভুক্ত কোন আসামীকেই ছাড় দেয়া হবেনা বলে জানালেন পুলিশ। সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার সাতলাঠি গ্রামে গত ১১ অক্টোবর এক কিশোর কিশোরীর প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য শালিসে বসে স্থানীয় মাতব্বররা। এক পর্যায় দু পক্ষের কাছ থেকেই ৭০ হাজার টাকা ঘুষ নেয় মাতব্বররা। শালিসটি অমিমাংসিত রেখেই চলেযান তারা। শালিস মিমাংসা না করেই রাতে টাকা ভাগাভাগী করতে বসলে প্রতিবাদ করে ওঠে কৃষক আব্দুর রাজ্জাক। খিপ্ত হয়ে তার উপর চরাও হয় এই মাতব্বররা। এক পর্যায়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতার অফিসের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয় রাজ্জাককে। সেখানে ব্যাদম মারপিট করে ফেলে রেখে যায় তারা। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় আব্দুর রাজ্জাক। ঘটনার বিবরনে স্থানীয়রা জানান, ১১ অক্টোবর উপজেলার ধুকুরিয়া সাতলাঠি গ্রামের শিপন প্রামানিকের মেয়ে কিশোরী আখি খাতুন (১৫) এর সাথে একই গ্রামের ওমর আলী মাষ্টারের ছেলে আলমগীর হোসেন (২২) এর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে শালিসে বসে মাতব্বররা। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও দৌলতপুর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদ রানার নেতৃত্বে শালিসে উভয় পক্ষের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ নেয়া হয়। শালিসের এক পর্যায় ছেলে মেয়েকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হলে তা নিয়ে বাজে হট্রোগোল। পরে শালিস অমিমাংসিত রেখেই চলে যায় মাতব্বররা। রাত সারে ৮টার দিকে সাতলাঠি বাজারে মাসুদ রানার অফিস রুমে ঐ ঘুষের টাকা ভাগাভাগি করতে নিলে কৃষক আব্দুর রাজ্জাত তা বাধা দেয়। তিনি বলেন শালিস মিমাংসা না করে কেন টাকা ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। এসময় মাসুদ রানা রাজ্জাকের উপর চড়াও হলে হাফিজুর, শাহআলম, আইয়ুব আলী, আবু হানিফ, মজনু মিয়া, কাশেম আলী, ময়নাল হোসেন, ফরহাদ সহ মাসুদ বাহীনির সদস্যরা এলো পাথালি কিল ঘুষি লাথি ও হাতুড়ি দিয়ে পিটাতে থাকে রাজ্জাককে। এক পর্যায় রাজ্জাক মাটিতে পরে গেলে ফেলে রেখে যায় তারা। পরে স্থানীয়রা রাজ্জাককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান তিনি। পরের দিন রাজ্জাকের বাবা আব্দুস সামাদ সরকার বাদী হয়ে বেলকুচি থানায় ১০ জনকে এজাহার ভুক্ত করে মামলা দায়ের করে। পুলিশ মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করলেও বাকীরা এখনো পালাতক রয়েছে। আর আসামীদের স্বজনদের হুমকি ধামকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বাদী আব্দুর সামাদ সরকার। এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (বেলকুচি সার্কেল) রেজা সারোয়ার জানান, ইতিমধ্যে রাজ্জাক হত্যার সাথে জরিত মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের ধরার চেষ্টা চলছে। এজাহার ভুক্ত কোন আসামীকেই ছাড় দেয়া হবেনা। তারা যতই শক্তি শালি হোকনা কেন তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। আর রাজ্জাকের বাবার বিষয়টি আমরা অবশ্যই দেখবো সে নিরাপদে বাড়ীতে থাকতে পারবে।
    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বেলকুচি ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০৭:৪৭ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 924 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    বেলকুচি অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    12092210
    ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন