পদ্মা-যমুনার চর পাল্টে দিতে পারে পাবনা-সিরাজগঞ্জের অর্থনীতি
১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৭:৩৩ অপরাহ্ন


  

  • কাজিপুর/ অন্যান্য:

    পদ্মা-যমুনার চর পাল্টে দিতে পারে পাবনা-সিরাজগঞ্জের অর্থনীতি
    ০২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১২:০১ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    কাজিপুর প্রতিনিধিঃবনা-সিরাজগঞ্জ জেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা ও যমুনার বুকে জেগে ওঠা বালুচরে কৃষিবিপ্লব ঘটিয়েছেন নদী ভাঙা মানুষ। একসময় পদ্মা-যমুনা নদী ছিল তাদের দুঃখের কারণ। এখন সেই নদীর চরে বিভিন্ন ফসল ফলিয়ে তারা অভাব-অনটন দূর করছেন। অক্লান্ত পরিশ্রমে অসম্ভবকে সম্ভব করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন নদীভাঙনে নিঃস্ব শত শত পরিবার। নদীর বুকে বালুচরে ভাগ্য বদলের স্বপ্নে ফসল বুনে ঘরে তুলে লাভবান হচ্ছেন খেটেখাওয়া অসহায় মানুষ। পদ্মা-যমুনার বালুচরে এখন সবুজের সমারোহ। চরাঞ্চলের কৃষি ও গবাদিপশুর খামার পাল্টে দিতে পারে দু’টি জেলার অর্থনীতির চিত্র। 

     

    কয়েক বছর আগে যেখানে ছিল বালুচর, সর্বনাশা পদ্মা-যমুনার ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেক পরিবার। অভাব-অনটন ছিল তাদের নিত্যদিনের সাথী। এখন তাদের ভাগ্য বদলে গেছে। বন্যায় পদ্মা-যমুনার বালুচরে পলিমাটি জমে এখন উর্বর আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। দিগন্ত বিস্তীর্ণ বালুচরে শোভা পাচ্ছে নানা রকম ফসলের সমারোহ। নদীর তলদেশ শুকিয়ে জেগে ওঠে বালুচর। দীর্ঘ দিন পরিত্যক্ত থাকা এসব বালুচরে ফসল ফলানো দূরের কথা, ঘাসও জন্মাাতো না। অথচ সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেই দু’টি নদীর ছোট-বড় প্রায় ৬০টি চরে ফলছে গম, কাউন, ভুট্টা, বাদাম, মিষ্টি আলু, তিল, তিসি, পেঁয়াজ, রসুন, লাউ, গাজর, মরিচ, হলুদ, শসা, শিম, কপি, কুমড়াসহ শীতকালীন নানা প্রকারের শাকসবজি চাষ করে ফসল ঘরে তুলছেন কৃষকরা। চরের বেলে দোআঁশ মাটিতে ডাল জাতীয় ফসল মাষকলাই, খেসারি, ছোলা প্রচুর পরিমাণে আবাদ হচ্ছে। 


    এ ছাড়া চরে গড়ে উঠছে স্থায়ী জনবসতি। চরাঞ্চলে কৃষিবিপ্লবের পাশাপাশি গবাদিপশুর ছোট ছোট খামার গড়ে উঠেছে। চরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই দু-একটি করে গাভী রয়েছে। ঘোষেরা কৃষকদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে দুধ সংগ্রহ করে বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানে বিক্র করছে। এতে চরের কৃষকদের উৎপাদিত দুধ নিয়ে ভাবতে হয় না। বিক্রির জন্য হাটবাজারেও যেতে হয় না। চরাঞ্চলের কৃষি ও গোখামার পাল্টে দিতে পারে দু’টি জেলার অর্থনীতির চিত্র। 
    জানা যায়, পদ্মা-যমুনায় জেগে ওঠা চরপেচাকোলা, চরআড়ালিয়া, গোসাইবাড়ি, কোদালিয়া, সাঁড়াশিয়া, চরসাফুলা, চরনাগদা, চরঢালা, চরকল্যানপুর, পূর্বশ্রীকণ্ঠদিয়া, পদ্মারচর, চরযমুনা, বাইরচর, শ্রীপুর, খিদ্রদাশুরিয়া, মুরাদপুর, ঘোড়জান, মেঘাইরচর, খাসকাউলিয়া, মিনারদিয়াচর, ওমরপুরচর, পয়লারচর, বানতিয়ারচর, মীরকুটিয়ারচর, রস্তমেরচর, সোলজানারচর, দইকান্দিরচর, চরআগবাঙলাচর, শিমুলকান্দিচর, ওমরপুরচর, আগবাকসোয়া, পয়লারচর, কল্যানপুর বারোপাখিয়ারচর, ধীতপুর, কুশিরচর, ভুমোরিয়া, চাঁমতারা, শিংঘুলি, নয়াহাটাবরংগাইল, ভারদিঘুলিয়া, চরবলরামপুর, চরভাড়ারা, সাদিপুর, সুদিরাজপুর, আশুতোষপুর, কোমরপুর, বীরপুর, পীরপুর, চালাকপাড়া, হঠাতপাড়ারচরসহ প্রায় ৬০টি চরে গড়ে উঠছে জনবসতি ও গবাদিপশুর ছোট ছোট খামার। 
    শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা-যমুনা নদীর ছোট-বড় অসংখ্য চরে গম, কাউন, ভুট্টা, বাদাম, হলুদ মিষ্টি আলু, তিল, তিসি, পেঁয়াজ, রসুন, লাউ, গাজর, মরিচ, হলুদ, শসা, শিম, কুমড়াসহ শীতকালীন নানা প্রকারের শাকসবজি। চরের আকার বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি তা স্থায়ী চরে পরিণত হচ্ছে। জনবসতিহীন দুর্গম চরে এখন বসেছে প্রাণের মেলা। চরে মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেরই রয়েছে গরু-মহিষের ও ছাগলের ছোট ছোট খামার। গবাদিপশুর খামার করে পাল্টে যাচ্ছে চরাঞ্চলের অর্থনীতি। গবাদিপশু লালন পালনে বিপুল সম্ভাবনাময় চরাঞ্চলের কৃষিজীবীরা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দ্রুত বদলে যাবে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মান। অভাব ঘুচবে অভাবী চরবাসীর। উৎপাদন বাড়বে দুধ কিংবা দুগ্ধজাত সামগ্রীর। এতে চরাঞ্চলে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে। 
    চৌহালীর স্থল ইউনিয়নের গোসাইবাড়ি চরের শুকুর বেপারি বলেন, চার বছর আগে আমার সংসারে অভাব-অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। কর্মসংস্থান ছিল না। বাধ্য হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে যমুনা চরে এসে নতুন বসতি গড়ি। গরু পালন করে এখন স্বাবলম্বী হয়েছি। আল্লাহর রহমতে সংসারে কোনো অভাব-অনটন নেই। বর্তমানে চারটি গরু নিয়ে একটি ছোট খামার গড়ে তুলেছি। খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের কোদালিয়ার ময়নাল সিকদার, উমারপুর চরের আবু ছাইদ ও কোরবান আলী জানিয়েছেন, চর এলাকায় খোলামেলা পরিবেশে গরু পালন করায় রোগবালাই কম হয়। পলি মাটির আস্তরন ভেদ করে জেগে ওঠা কাঁচা ঘাস, বিচালি খাইয়ে তারা কম খরচে গবাদিপশু লালন পালন করছেন। এ জন্য চরে অনেকেই গরু-ছাগলের ছোট ছোট খামার গড়ে তুলছেন। 
    বর্তমানে চরে বসতি স্থাপন করে বসবাস করছেন ভূমিহীন মানুষরা। বাড়ির আঙিনায় মাথা উঁচু করলেই দেখা যায় ফসলের ক্ষেত। চোখধাঁধানো বর্ণিল সবুজ ফসলের সরব উপস্থিতির কারণে অনেক কৃষক তাদের গবাদিপশু নিয়ে চরে উপস্থিত হয়েছেন। চরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে একটি করে গোখামার গড়ে উঠছে। গোখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় এসব কৃষক তাদের গবাদিপশু নিয়ে চরে এসেছেন। পলি মাটির আস্তরণ ভেদ করে জেগে ওঠা কাঁচা ঘাস, বিচালি খাইয়ে তারা গবাদিপশু লালন পালন করছেন। একসময় পদ্মা-যমুনা নদীতে পানির প্রাচুর্যতা থাকলেও ক্রমেই তাতে ভাটা পড়েছে। 
    চরের বালিয়ারীগুলো ক্রমেই আবাদি জমিতে পরিণত হচ্ছে। আর এসব জমিতে এখন আবাদ হচ্ছে গম, কাউন, ভুট্টা, বাদাম, মিষ্টি আলু, তিল, তিসি, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, কুমড়া, গাজর, শাকসবজিসহ নানা প্রকারের অর্থকরী ফসল। একদিন পদ্মা-যমুনা তাদের সব কিছু কেড়ে নিয়েছিল। এখন নদীর বুকে চর জেগে ওঠায় তারা একে একে আবার জড়ো হয়েছেন এসব চরে। যেসব গ্রাম একদিন নদীতে বিলীন হয়ে গিয়েছিল আবার সেই নামেই চরে নতুন করে গড়ে তুলছে বসতি। তবে বসতি গড়ে উঠলেও চরে বসবাসরত ছেলেমেয়েরা শিক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। তাদের লেখাপড়ার জন্য নেই কোনো স্কুল-মাদরাসা। নদী ভাঙা অভাবী শত শত পরিবার নদীর বুকে জেগে ওঠা বালুচরকে কাজে লাগিয়ে অভাব দূর করছেন। এসব পরিবারের নারীরা তাদের স্বামী-সস্তান নিয়ে শারীরিক পরিশ্রম করে বিভিন্ন ফসল ফলাচ্ছেন। সেই ফসল বিক্রি করে সফলতা পাচ্ছেন। চলতি মৌসুমের শুরুতে ফসল চাষ করে চাষিদের মুখে এখন সাফল্যের হাসির ঝলক। মিনারদিয়ার চরের কৃষক আতাউল জানালেন, বালুচরে ফসল ফলানো যাবে এটা স্বপ্নেও ভাবিনি। এখন বালুচরে ফসল আবাদ করে অভাবের সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। প্রতি বছরই বাড়ছে চরের পরিধি। সেই সাথে বাড়ছে ফসলের ফলন। লাভের টাকা হাতে পেয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষকরা। পদ্মা-যমুনার চর থেকে প্রতি বছর কোরবানির ঈদের আগে প্রচুর গরু বিক্রি হয়। চরে গবাদিপশুর খামারিরা বেশি লাভবান হচ্ছেন। কারণ গরু পুষতে তাদের বেশি খরচ বহন করতে হয় না। চরের জমিতে রোপণ করা ধানের খড় ও নানান ফসল খেয়ে গরুগুলো বড় হচ্ছে। এ কারণেই প্রতিনিয়তই চরে গোখামারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে পদ্মা ও যমুনা নদীর সম্ভাবনাময় চরের কৃষি ও গোখামার পাল্টে দিতে পারে জেলার অর্থনীতির চিত্র। 

    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,কাজিপুর ০২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১২:০১ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 170 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    কাজিপুর অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    12327477
    ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৭:৩৩ অপরাহ্ন