চোরের ভয়ে রাত জেগে পেঁয়াজ খেত পাহারা
১৮ জানুয়ারী, ২০২০ ০৪:০৭ অপরাহ্ন


  

  • জাতীয়/ জনদুর্ভোগ:

    চোরের ভয়ে রাত জেগে পেঁয়াজ খেত পাহারা
    ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৩:৫১ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    দাম অনেক বেশি হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই চুরি হচ্ছে পেঁয়াজ। চোরের ভয়ে রাত জেগে পেঁয়াজ খেত পাহারা দিচ্ছেন পেঁয়াজ চাষিরা।

    সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেশি দাম পাবার আশায় দুই মাস আগে জমিতে আগাম জাতের পেঁয়াজের বীজ রোপণ করেছিলেন এই জেলার অনেক কৃষক। পেঁয়াজের আকার বড় হয়েছে। ২০-২৫ দিনের মধ্যে পেঁয়াজ তোলার উপযোগী হয়ে উঠবে। বর্তমানে পেঁয়াজের বাজার ভালো হওয়ায় এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পেঁয়াজ খেতে চোরের দল হানা দিতে শুরু করেছে। তাই চুরি হওয়ার ভয়ে রাত জেগে পেঁয়াজ খেত পাহারা দিচ্ছেন চাষিরা। গত মৌসুমে পেঁয়াজের দর ভালো না পেলেও এবার বাজার দর বেশি হওয়ায় লাভের আশা করছেন তারা।

     

    কৃষকরা জানায়, এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষে ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ পড়ে। গত বছর পেঁয়াজ কম দামে বিক্রি হয়েছে। তবে এবার পেঁয়াজের বাজার ভালো। আবহাওয়াও অনুকূলে। তাই ফলনও ভালো হবে বলে আশা তাদের। শেষ পর্যন্ত যদি বাজার এমন থাকে তাহলে লাভের মুখ দেখবেন তারা। তবে এরই মধ্যে পেঁয়াজের জমিতে চোরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন অনেকে।

    সদর উপজেলার হায়াতমোড় এলাকার পেঁয়াজ চাষি আমিরুল হক জানান, আগাম পেঁয়াজ লাগালে দাম বেশি পাওয়া যায়। এবার তিনি দুই বিঘা জমিতে আগাম জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছেন। ভালো ফলন পাবেন বলে আশা করছেন। এখন পেঁয়াজ অনেকটা বড় হয়ে গেছে। এবার পেঁয়াজের বাজার দর ভালো থাকায় লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তিনি।

    এদিকে, বাজারে ভালো দাম থাকায় চোরের উপদ্রব দিনদিনই বেড়ে গেছে। হয়তো এক জমি যোগান চলছে, সেসময় আরেক জমি থেকে চোর চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে কৃষকরা বেশ চিন্তিত।

     

    হায়াতমোড় এলাকার আরেক চাষি রুবেল বলেন, আমি এবার দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। জমিতে পাহারা দেয়ার কোন ফাঁকে গত বুধবার রাতে আমার ও আমার পাশের জমি থেকে চোর পেঁয়াজ চুরি করে নিয়ে গেছে।

    চাষি মিনহাজুল আতিক জানান, গত বছর আমি চার বিঘা জমিতে পেঁয়াজ লাগিয়ে ছিলাম। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছিলো ৩০-৩৫ হাজার টাকা। কিন্তু লাভ হয়নি। দাম কম ছিল। গত বছর দাম ছিল ১৩-১৪ টাকা কেজি। ওই ভয়ে এবার মাত্র ১০ কাঠা জমিতে পেঁয়াজ লাগিয়েছি। ১০ কাঠা পেঁয়াজে আমার আবাদ খরচ হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার টাকা। কিন্তু এবার পেঁয়াজের যে দাম আছে সেটা যদি থাকে তাতেই ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি।

    আরেক পেঁয়াজ চাষি আশরাফুল ইসলাম জানান, অন্যান্য বছর পেঁয়াজের তেমন দাম পায়নি। কোনো কোনো বছর খরচই উঠেনি। কিন্তু এবার যে বাজার দর চলছে এমন থাকলে লাভবান হব।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া পেঁয়াজ চাষের উপযোগী। এ বছর জেলায় ২ হাজার পাঁচশ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আগাম জাতের পেঁয়াজের চাষাবাদ হয়েছে ৪০৫ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ৫ হাজার ২৭৮ মেট্রিক টন ফলন আশা করা হচ্ছে।

    গতবার ভালো দাম না পেলেও এবার কৃষকরা লাভবান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই কৃষি কর্মকর্তারা।

    সূত্র : ইউএনবি

    নিউজরুম ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৩:৫১ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 158 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    জাতীয় অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    12566519
    ১৮ জানুয়ারী, ২০২০ ০৪:০৭ অপরাহ্ন