অসত্যর কষাঘাতে বিপন্ন মানবিকতা
২৯ জানুয়ারী, ২০২০ ০৪:১১ পূর্বাহ্ন


  

  • উত্তরবঙ্গ/ অন্যান্য:

    অসত্যর কষাঘাতে বিপন্ন মানবিকতা
    ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৭:০৫ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    রবিউল ইসলাম রবিঃ পৃথিবী নামক গ্রহে মানুষসহ বিপুল সংখ্যক প্রাণীর আবাসস্থল হলেও অন্যান্ন প্রাণির উপর মানুষই সর্ব শ্রেষ্ঠত্বের জায়গা নিয়ে বসে আছে। প্রত্যকটি প্রাণীর নিজস্ব সংকেতিক জীবন যাপনের কৌশল থাকলেও একমাত্র মানুষই তার পরিচয় ভুলে গিয়ে ব্যাপক খামখেয়ালীপনায় নিমজ্জিত রয়েছে। আর সামাজিক ইকোসিস্টেমের মধ্যেই মানুষ তার জীবনের সময়কে হরেক রকম কাজের মধ্যে দিয়ে পার করছে। রাজনীতি, সমাজনীতি, ধর্ম, আইন ও বিভিন্ন আচার-আচরণের মধ্যেই একজন মানুষের মূল চরিত্র লুকিয়ে থাকে।

     

    চোখে যা দেখা যায় তা ছলনার লেবাস মাত্র। চরিত্রকে অমূল্য সম্পদ বলা হলেও তা মানুষের মাঝ থেকে বিদায় নিয়ে মনের পাশবিক মিউজয়ামে জায়গা করে নিয়েছে খুব সহজে। চরিত্রহীন মানুষ পশুর সমান বলা হয়। প্রশ্ন হচ্ছে চরিত্রহীন মানুষ কেমন? একটি উদাহরণের মাধ্যমে যদি বলা যায়, একটি গাছের সাথে যেমন অন্য গাছকে কলম করে হরেক রকমের ফল পাওয়া যায় মানুষ এখন ঠিক তেমনি আজবজন্তুতে পরিণত হয়েছে। আর এই আজব জন্তু মানুষ খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি, ব্যবিচার, সুদ,ঘুস ও নির্যাতনের মতো অমানবিকতার কুলশিত কর্মাবলী সাধন করছে অতি সহজেই।

     

    এখন নেতার কাছে কর্মি যেমন অবমূল্যায়নের পাত্র তেমনি শিক্ষকের কাছে ছাত্র, অফিসারের কাছে কর্মচারী, মালিকের কাছে শ্রমিক, সিনিয়রদের কাছে জুনিয়র ও জনপ্রতিনিধির কাছে সাধারণ জনগন জিম্মি হয়ে পরেছে প্রত্যক্ষ ও পরক্ষ ভাবে। এর কারণ খুঁজতে গেলে দেখা যায় নেতা, শিক্ষক, অফিসার, মালিক, সিনিয়র ও জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের আখের গোছাতে প্রতিযোগিতায় মত্ত্ব হয়েছে রঙ্গিন ভাবে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম লক্ষ করা যায়। তাহলে ফলাফল দাড়ালো এইযে, আদর্শ এবং জবাবদিহিতা এখন আর ইনসুলিন ছাড়া কাজ করেনা। এর মানে হলো, যতটুকু না করলে পত্রিকার হেড লাইন হওয়া যায়না ততটুকু। সততা ও জবাবদিহিতা বিকল হয়ে তালা বদ্ধ হয়ে পরে রয়েছে মনের ভাগারে।

     

    প্রশ্ন হচ্চে কেন এ অবস্থার সৃষ্টি হলো? এর আদি রহস্য কি? উত্তর হিসেবে যে বিষয় সমূহ সামনে আসে তা হচ্ছে লোভ ও লালসা। অন্য ভাবে বললে বলা যায়- দলের মধ্য গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের অভাব ও পকেট কমিটি গঠনের পায়তারা, শিক্ষকদের মধ্যে ক্লাসে ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট ও কোচিং বানিজ্যের রমরমা ব্যবসা প্রতিষ্ঠা, অফিসাদের ঘুষ বানিজ্যের মরণ খেলা, মালিকরা শ্রমিকদের ন্যার্য মজুরি হতে বঞ্চিত করার প্রবণতা, সিনিয়ররা কার্য হাসিলের জন্য জুনিয়দের লাগাম টেনে ধরা, জনপ্রতিনিধিদের প্রকল্প প্রকল্প পাশ ফেলের খেলা। সব কিছু মিলে কারণ একটাই তা হলো সকলের মধ্যে নৈতিকতা ও মানবিকতার বড়ই অভাব দেখা দিয়েছে। যদি নৈতিকতা ও মানবিকতা উপর থেকে না ফিরে আসে তাহলে নিচের অবস্থা জগাখিচুরি হবে এটাই স্বাভাবিক। এমন চলতে থাকলে জাতী হিসেবে নবাব সিরাজুদ্দৌলার সেনাপতি মীর জাফরের মতোই এক সময় করুণ পরিণতি বরণ করে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হবে। পৃথিবীর মিছে মায়া, মিছে বন্ধন, মিছে ভালোবাসা ও মিছে মহে পরে নিজেকে ধ্বংস না করে ইনসাফের সাথে চলাই হলো সময়ের দাবি। 


    না চলতে পারলে জাতী হিসেবে আমরা এক সময় বিশ্ব মানচিত্রে ঐতিহ্য হারিয়ে বর্বর জাতিতে পরিণত হবো খুব সহজেই।
    লেখকঃ 
    রবিউল ইসলাম রবি
    সংবাদকর্মী ও শিক্ষক

     

    নিউজরুম ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৭:০৫ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 157 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    উত্তরবঙ্গ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    12632095
    ২৯ জানুয়ারী, ২০২০ ০৪:১১ পূর্বাহ্ন