তাড়াশে ফসলি জমিতে ইটভাটা !! শ্রমিকের কাজ করছে শিশুরা
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৫:৩১ অপরাহ্ন


  

  • তাড়াশ/ অন্যান্য:

    তাড়াশে ফসলি জমিতে ইটভাটা !! শ্রমিকের কাজ করছে শিশুরা
    ২১ জানুয়ারী, ২০২০ ০৪:৪২ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    এম এ মাজিদ : সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ইটভাটাগুলো আইন কানুন ও নিয়ম নীতির নূন্যতম তোয়াক্কা না করে স্থাপনের ফলে নষ্ট হচ্ছে ওই এলাকার পরিবেশ। অধিকাংশ ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে আবাসিক এলাকায় কৃষি ফসলি জমির মধ্যে। ইট তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে ফসলি জমির উপরি অংশের উর্বর মাটি। আর ভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে স্কুলগামী শিশুরা ।

    উপজেলা ভাটা মালিক সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাড়াশে নাবিলা সুপার ব্রিকস, বন্যা ব্রিকস, সাদিয়া ব্রিকস, আখী ব্রিকস, মেঘনা ব্রিকস, এম আর এইচ ব্রিকস, এমএমবি ব্রিকস, এইচ এন্ড কে ব্রিকস এবং সততা ব্রিকস নামে ৯টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে পরিবেশসম্মত জিগজ্যাগ চিমনির ভাটা ৬টি। সরেজমিনে দেখা গেছে, ইট পোড়ানোর কাজে ভাটার মালিকেরা অতি নি¤œমানের কয়লার ব্যবহার করছেন। একটি বড় ইটভাটায় একবারে চার থেকে সারে চার লাখ ইট পোড়াতে ২৫ দিনের মতো সময় লেগে যায়। যেখানে কমপক্ষে ১০ হাজার মণ জ্বালানির প্রয়োজন হয়।


    এদিকে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর ৮ এর (ক), (ঘ) এবং (চ) ধারা কোনো রকমের অনুসরণ না করেই বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, কৃষি ফসলি জমি ও সরকারি রাস্তার কোল ঘেষে গড়ে উঠেছে ইটভাটাগুলো। একই সাথে ১৫ নং আইনের (ক) উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করে ইট প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে কৃষি জমির মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের কারখানা আইন-১৯৬৫ এর ৩ এর (গ) ধারা উপেক্ষা করে ১৪ বছরের কম বয়সী অসংখ্য শিশু শ্রমিক দিয়ে ইট তৈরি ও টানার কাজ করানো হচ্ছে। এতে এলাকায় শিক্ষার হার দিন দিন আশংকাজনক হারে কমে যাচ্ছে।


    সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, ৯টি ইট ভাটাই সরকারি রাস্তার গা ঘেষে কৃষি জমি নষ্ট করে স্থাপন করা হয়েছে। কেবল ৬ কিলোমিটার তাড়াশ-কালিবাড়ি গ্রামীণ সড়কের সাথেই রয়েছে ৫টি ভাটা। ২টি ভাটা খালকুলা-নওগাঁ গ্রামীণ সড়কে। ২টি তাড়াশ-নিমগাছি আঞ্চলিক সড়কের সাথে। আর প্রতিটি ইটভাটার নিকটেই চারপাশে শ’ শ’ পরিবারের বসবাস সাথে রয়েছে ফসলের মাঠ। ওই ৩টি রাস্তায় দিন-রাত ইটবাহী ভারী যানবাহন চলাচল করায় কার্পেটিং উঠে ইটের সোলিং নষ্ট হয়ে খানাখন্দে ভরে গেছে। সড়কের ধুলার আস্তরণে ঢাকা পড়ে আছে আশপাশের বসতঘর। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় মরে যাচ্ছে ফসল। শুধু তাই নয়, প্রতিটি ভাটাতেই শিশুরা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। এদের বেশিরভাগ ইট তৈরি করছে। আবার কেউ কেউ ইট মাথায় করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। শিশু শ্রমিক ইমরান হোসেন, সাব্বির হোসেন, মমিন আলী, আতিকুর রহমান, আব্দুল্লাহ প্রমূখ জানায়, তাদের অনেকের বাবা-মা ভাটা মালিকদের কাছ থেকে অগ্রিম দাদন নেওয়ায় তারা পড়ালেখা বাদ দিয়ে ইটভাটায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।


    সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন ছাত্রছাত্রীরা। সততা ব্রিকস ও মেঘনা ব্রিকসের মাত্র সারে তিন থেকে চারশ’ গজ দূরেই দক্ষিণে ঝুরঝুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পশ্চিমে মাধাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধাইনগর দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয় ও মাধাইনগর আদিবাসী মহা বিদ্যালয়। আর সাদিয়া ব্রিকসের নিকটেই ক্ষিরপঁওতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, ওই চারটি বিদ্যালয়ে তিন হাজারের মতো ছাত্রছাত্রী পড়ালেখা করছেন। 


    শিক্ষার্থী আতিক হাছান, জুয়েল রানা, সৌরভ হোসেন, পিয়াল সরকার, রাজিব এক্কা, সুব্রত উরাঁও, মৌসুমী পারভিন, সুরভি খাতুন, দিলরুবা খাতুন, কলি সিং, কামনা সিং প্রমূখ জানায়, বিদ্যালয়ের পাশের ইটভাটার চিমনি থেকে বিশাক্ত কালো ধোঁয়া নির্গত হওয়ায় তাদের চোখ জ্বালাপোড়া করে। ভারী যানবাহন ও ইট তৈরির যন্ত্রের বিকট শব্দে শিক্ষকের কথা শুনতে পায় না তারা। ধুলাবালু আর ধোঁয়ার কারণে তাদের সারাবছর সর্দি-কাশি লেগেই থাকে। 


    তবে উপজেলা ভাটামালিক সমিতির সভাপতি মোসলেম উদ্দিন বলেছেন, আইন অনুসরণ করেই ভাটাগুলোয় ইট প্রস্তুত করা হচ্ছে। আর জিগজ্যাগ চিমনির ভাটার চুল্লিতেও আগুন দেওয়ার সময় চার থেকে সারে চারশ’ মণ জ্বালানি কাঠের প্রয়োজন পড়ে।এদিকে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুননাহার লুনা জানান, উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে ছারপত্র নেওয়ার বিধান থাকলেও বাস্তবে কোন ইটভাটা মালিকরা তা নেয়নি। উপজেলার ৯টি ভাটাই অবৈধভাবে ফসলি জমির মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ফসলি জমির উপরি অংশের উর্বর মাটি (টপসয়েল) কেটে ইট তৈরি করায় ফসল উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। একবার টপসয়েল নষ্ট হলে তা পুরনে ১০ বছরেরও বেশি সময় লেগে যায়। 


    পরিবেশ অধিদপ্তরের সিরাজগঞ্জের উপ-পরিচালক মো. আকতারুজ্জামান টুকু জানান, আমাদের  মোবাইল কোর্ট পরিচালনার এখতিয়ার নেই। জেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত তাড়াশ উপজেলার ইট ভাটাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, শিগগিরই  অভিযান পরিচালনা করে  আইন লঙ্ঘনকারী ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে । 

    সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ ২১ জানুয়ারী, ২০২০ ০৪:৪২ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 128 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    তাড়াশ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    12827309
    ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৫:৩১ অপরাহ্ন